সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

মুজিববর্ষে ই-পাসপোর্ট জাতির জন্য উপহার: প্রধানমন্ত্রী

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মুজিববর্ষে ই-পাসপোর্ট জাতির জন্য একটি উপহার। এর মাধ্যমে ই-পাসপোর্টে যুগে প্রবেশ করল বাংলাদেশ।

বুধবার (২২ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনে কেন্দ্রে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। এদিন স্বয়ংক্রিয় বর্ডার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা প্রবর্তন কার্যক্রমেরও শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন শিক্ষিত জাতি যাতে গড়ে ওঠে সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমরা চাই যে, দেশ এগিয়ে যাক। সেই লক্ষ্যে যখনি যে প্রযুক্তি আসে আমরা সেই পদক্ষেপ নেই। ২০১৫ সালে আমরা বাংলাদেশের জনগণের জন্য মেশিন রেডিবল পাসপোর্ট দিতে শুরু করি। ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে আগামী দশ বছরের জন্য আমরা এখন ই-পাসপোর্ট প্রদানের পদক্ষেপ নিয়েছি।’

এ লক্ষ্যে ই-পাসপোর্ট প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন করার জন্য ইমিগ্রেশন এবং পাসপোর্ট অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদও জানান তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য, বাংলাদেশকে উচ্চ মর্যাদায় নিয়ে যাওয়া। সে লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ই-পাসপোর্ট চালুর কারণে বাংলাদেশ আরও একধাপ এগিয়ে যাবে। কারণ যে পাসপোর্টটা দিতে যাচ্ছি, এটা বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট। এমবেডেড ইলেকট্রনিক মাইক্রোপ্রসেসর চিপ থাকবে। সেখানে একজন যে পাসপোর্ট গ্রহণ করবেন, তার বায়োগ্রাফি ও বায়োমেট্রিক অর্থ্যাৎ তার ছবি ফিঙ্গার পিন্ট এবং চোখের কর্নিয়া থাকবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এক সময় গলাকাটা পার্সপোটও প্রচলিত ছিল আমাদের দেশে। সেটা আর কখনো হবে না। এখন আর মানুষ ধোঁকায় পড়বে না। এখন স্বচ্ছতার সাথে চলবে এবং ই-গ্রেড থাকবে, যেখানে খুব সহজেই ইমিগ্রেশন দ্রুত করতে পারবে। সেই সুযোগটাও সৃষ্টি করা হবে। একটা আধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন পদ্ধতি এরই মধ্যে আমরা গ্রহণ করেছি। আর সেই সুযোগটা আমাদের দেশের মানুষ পাবে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এরই মধ্যে বিশ্বের অনেক দেশে এই আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন পাসপোর্ট গ্রহণ করেছে। বিশ্বের ১১৮টি দেশে এই পাসপোর্ট চালু আছে। বাংলাদেশ এখন হলো ১১৯তম দেশ। আমরা সেই জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছি এবং দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বপ্রথম বাংলাদেশেই ই-পাসপোর্ট চালু করতে সক্ষম হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকার চায়, বাংলাদেশ উন্নত হবে, সমৃদ্ধশালী হবে ও আত্মমর্যাদাশীল হবে। আমরা অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে গেছি। আমাদের দেশের মানুষেরও আর্থিক স্বচ্ছলতা এসেছে। এখন বিদেশে অনেক মানুষ যায়। আর আমাদের প্রবাসীরা বিদেশে কাজ করে, রেমিটেন্স পাঠায়। যে রেমিটেন্স আমাদের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখে।’

দেশের প্রবৃদ্ধি অর্জনে প্রবাসীদের রেমিটেন্স বিরাট সহায়তা দেয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারা যাতে কোনোরকম হয়রানির শিকার না হন, সেটাও আমরা লক্ষ্য রাখি। এরই মধ্যে দেশের অভ্যন্তরে ৬৪টি জেলায় ৬৯টি পাসপোর্ট অফিস, ৩৩টি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এবং বিদেশে অবস্থিত ৭৫টি বাংলাদেশ মিশনে পাসপোর্ট ও ভিসা উইংয়ের মাধ্যমে পাসপোর্ট ও ভিসা ইমিগ্রেশন সেবাকে আমরা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছি। উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরাও পাসপোর্ট ইমিগ্রেশন সেবাকে যুগোপযোগী করতেই ই-পাসপোর্ট দিতে যাচ্ছি।’

ই-পাসপোর্ট প্রচলন করার ফলে ইমিগ্রেশন সুযোগ-সুবিধা আন্তর্জাতিকমানের হবে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, `কারণ প্রবাসীরা যখনি আসেন, তখনি শোনা যায় তারা নানারকম হয়রানির শিকার হন। ভবিষ্যৎতে তারা আর হয়রানির শিকার হবেন না। এছাড়া যারা বিদেশ যান তাদেরও কোনোরকম হয়রানির শিকার হতে হবে না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ধাপে ধাপে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। এরই মধ্যে আমরা আমাদের অধিদফতরের অবকাঠামো এবং নিজস্ব ভবন তৈরি করে দিয়েছি। আমরা চাই, সবসময় যেন বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারি। সেভাবেই আমরা দেশকে গড়তে চাই। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাজ করে যাচ্ছে।’

‘২০০৮ সালে নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে এই পর্যন্ত আমরা সরকার পরিচালনা করছি। আমাদের সৌভাগ্য যে, ২০২০ সাল জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন হবে। এরই মধ্যে ক্ষণগণনা শুরু হয়ে গেছে। সেই সাথে ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করব। আমরা মুজিববর্ষ ঘোষণা দিয়েছি। আর এই মুজিববর্ষে মানুষ ই-পাসপোর্ট পাবে। আধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন নতুন পাসপোর্ট পাবে।’- বলেন শেখ হাসিনা।

ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনি অঙ্গীকার ডিজিটাল বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলেছি। সেই সেবা মানুষ পাচ্ছে। মানুষের জীবনমান সহজ হয়েছে। আমরা আরও এগিয়ে যাব। বাংলাদেশ হবে দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত উন্নত সমৃদ্ধ দেশ; যে বাংলাদেশের স্বপ্ন জাতির পিতা দেখেছিলেন।’

‘জাতির পিতার জন্মবার্ষিকী উদযাপনে এই বিশেষ বছরে আমরা জনগণের হাতে ই-পাসপোর্ট তুলে দিতে পারছি। যা নিঃসন্দেহে ডিজিটাল জগতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করবে।’- উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এরই মধ্যে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ই-পাসপোর্ট প্রস্তুত করা হয়েছে। এই উদ্বোধনের ফলে আজ থেকে সর্বসাধারণের জন্য ই-পাসপোর্ট উন্মুক্ত হলো। আজ থেকে প্রথমে রাজধানীর উত্তরা, যাত্রবাড়ী ও আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে ই-পাসপোর্টের কার্যক্রম শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে ২০২০ সালের মধ্যেই সারাদেশে চালু হবে এই পাসপোর্ট সেবা। প্রতিদিন ২৫ হাজার ই-পাসপোর্ট ইস্যু করা হবে।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত