মঙ্গলবার, ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং

পুরনো বিজিএমইএ ভবন ভাঙার কাজের সূচনা করলেন গণপূর্তমন্ত্রী

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

হাতিরঝিলে পুরনো বিজিএমইএ ভবন ভাঙার কাজের সূচনা করলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। আগামী সোমবার থেকে প্রচলিত পদ্ধতিতে ভাঙার মূল কাজ শুরু হবে।

বুধবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম উপস্থিত থেকে পুরনো বিজিএমইএ ভবন ভাঙার কার্যক্রমের সূচনা করেন। এ সময় মন্ত্রী জানান, আগামি ৬ মাসের মধ্যে পুরনো বিজিএমইএ ভবন অপসারণ শেষ করা হবে। পর্যায়ক্রমে হাতিরঝিলের সব অবৈধ স্থাপনা ভেঙে ফেলা হবে।

এ বিষয়ে বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক বলেন, আদালতের রায়ের ওপর পুরোপুরি সম্মান রয়েছে। ভবনটি ভাঙার সময় নিরাপত্তার বিষয়টি যেন সর্বোচচ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পোশাক খাতের উন্নয়নে এ খাতের সাথে প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে যারা জড়িত তাদের সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।

তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠনের পুরনো এই ভবনটি ভাঙতে আদালতের প্রথম আদেশটি বাস্তবায়ন শুরু হল প্রায় ৯ বছর পর। ২০১০ সালে একটি জাতীয় দৈনিকে বিজিএমইএ ভবন নির্মাণে রাজউকের অনুমোদন না থাকার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। পত্রিকার প্রতিবেদনটি হাইকোর্ট নজরে নিয়ে ‘ভবনটি কেন ভাঙা হবে না?’— তা জানতে চেয়ে স্বত:প্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন। পরে ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ বিজিএমইএ ভবন ভেঙে ফেলার রায় দেন।

এরপর আপিল ও রিভিউয়ে ভবনটি ভাঙার সিদ্ধান্ত বহাল থাকলেও দফায় দফায় সময় প্রার্থনা করে বিজিএমইএ। শেষ পর্যন্ত ২০১৮ সালের ৩ এপ্রিল বিজিএমইএকে শেষবারের মতো একবছরের সময় দেন সর্বোচ্চ আদালত। আদালতের বেঁধে দেওয়া সময় শেষ হয় ২০১৯ সালের ১২ এপ্রিল। পরে ১৬ এপ্রিল বিজিএমইএ ভবন ভাঙার প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়।

ওই সময় ভবনে থাকা মালামাল সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই দিনই ভবনটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। পরে আবারও আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ভবনটিতে থেকে যাওয়া মালপত্র সরিয়ে নেওয়ার অনুমতি দেয় রাজউক। এরপর জটিলতা শুরু হয় ভবনটি ভাঙার প্রক্রিয়া ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া নিয়ে। শুরুতে ডিনাইমাইট ব্যবহার করে ভবন ভাঙার কথা বলেন রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জেসমিন আক্তার। গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমও এক ব্রিফিংয়ে একই তথ্য জানান।

শেষ পর্যন্ত সে সিদ্ধান্তে অনড় থাকতে পারেনি মন্ত্রণালয় বা রাজউক। সিদ্ধান্ত হয়, প্রচলিত পদ্ধতিতেই ভাঙা হবে ভবনটি। সেই অনুযায়ী টেন্ডার আহ্বান করা হয়।

বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে দরপত্রে অংশ নেয় পাঁচটি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে মালামাল কেনার পরিপ্রেক্ষিতে ভবন ভাঙার কার্যাদেশ পেতে মেসার্স সালাম অ্যান্ড ব্রাদার্স এক কোটি ৭০ লাখ টাকা, পিএনএস এন্টারপ্রাইজ ৫৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা, মেসার্স চন্দ্রপুরী এন্টারপ্রাইজ এক কোটি টাকা, ফোর স্টার এক কোটি ৫৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং মেসার্স সামিরা এন্টারপ্রাইজ ৩০ লাখ টাকা দর প্রস্তাব দিয়েছে। তবে কাজ পেয়েছে ফোর স্টার এন্টারপ্রাইজ। ভবন ভাঙতে এই প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার পর তারা বিজিএমইএ ভবন থেকে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে আপত্তি তোলে। নানা জটিলতায় ভবন ভাঙার কার্যক্রম শুরু করার সময় বারবার পিছিয়ে যেতে থাকে।

কাজ পাওয়ার পর ভবন থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিলে আপত্তি জানায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। মালামালসহ টেন্ডারে দাম উল্লেখ করেছিল জানিয়ে তারা পরিদর্শন করে বাড়তি দাম দাবি করে। তবে তাদের দাবি আমলে নেয়নি রাজউক। ওই ঘটনারও প্রায় আড়াই মাস পর শেষ পর্যন্ত ফোর স্টার ভাঙতে শুরু করেছে বিজিএমইএ ভবন।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত