সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

কাপুরুষের মতো হামলা করা হয়েছে: তাবিথ

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

নির্বাচনী প্রচারে ‘কাপুরুষের মতো’ হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর গাবতলী এলাকায় নির্বাচনী প্রচার চালানোর সময় তাবিথ আউয়ালের ওপর এক দফা হামলা হয়। হামলায় তিনি আহত হন। পরে তিনি প্রতিক্রিয়া জানান।

তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘যতই হামলা হোক, আমাদের দমিয়ে রাখা যাবে না। সুশৃঙ্খলভাবে নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাব।’

প্রত্যক্ষদর্শী লোকজনের ভাষ্য, আজ বেলা ১১টার দিকে তাবিথ গাবতলী বাসস্ট্যান্ডের পেছনে বাজারপাড়া এলাকায় নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন। এলাকাটি উত্তর সিটি করপোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে পড়েছে। গণসংযোগ শুরুর পরপরই লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁদের পেছন থেকে হামলা করেন একদল লোক। তাঁরা তাবিথ ও তাঁর সঙ্গীদের ওপর ঢিল ছোড়েন। কয়েকটি ঢিল তাবিথের গায়ে ও মাথায় লাগে। এতে তাবিথসহ তাঁর সঙ্গে থাকা ১০ থেকে ১২ জন কর্মী-সমর্থক আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ ছিল। একপর্যায়ে তারা হামলাকারী ও তাবিথের কর্মী-সমর্থকদের মাঝে দাঁড়িয়ে যায়। তারা হামলাকারীদের ঠেকানোর চেষ্টা করে।

হামলার পরপরই রাস্তায় দাঁড়িয়ে তাবিথ অভিযোগ করেন, ৯ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী মুজিব সারোয়ারের (ঠেলাগাড়ি প্রতীক) নেতৃত্বে এই হামলা হয়। তাবিথের বক্তব্য শেষ হতে না হতেই আবার ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে তাঁদের ওপর হামলা করে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন ব্যক্তি।

তাবিথ বলেন, ‘তারা আমাদের নানাভাবে প্রতিহত করার চেষ্টা করছে। হামলার এই ঘটনা খুবই দুঃখজনক। তবে যত চেষ্টাই করুক আমরা নির্বাচন থেকে পিছু হটবো না। দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থক এবং এলাকাবাসীকে আহ্বান জানাচ্ছি, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখুন। আমরা আমাদের গণসংযোগ চালিয়ে যাবো।’

একটু আগে আমরা ইতিবাচক ভাবনা নিয়ে গণসংযোগ শুরু করেছিলাম ‍উল্লেখ করে তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘কিন্তু পেছন দিক থেকে কাপুরুষের মতো আমাকে টার্গেট করে আমার ওপর হামলা করা হয়েছে। আমার সঙ্গের সহকর্মী নেতকর্মীদেরকে মারা হয়েছে। জাতীয় নেতাদের টার্গেট করে মারা হয়েছে। সবচেয়ে ভয়ংকর কথা হলো- এই হামলা কিছু পুলিশ কর্মকর্তার সামনেই হয়েছে।’

পুলিশের প্রতি আক্ষেপ করে তাবিথ বলেন, ‘পুলিশ কর্মকর্তাদের সামনেই এই হামলা হয়েছে। এলাকার ঠেলাগাড়ি প্রতীকের কাউন্সিলর প্রার্থী মাসুম ও তার গুণ্ডাবাহিনী করেছে। আমি আশা করবো ওনারা তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি আমার প্রতিপক্ষকে হুঁশিয়ার করে দিতে চাই, আমার ওপর হামলা বিশেষ করে আমার মনোবল ভাঙবে না। পিছু হটাতে পারবেন না। গণসংযোগ এগিয়ে নেব। ১ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তা প্রমাণ করবো।’

নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে তাবিথ বলেন, ‘আমরা দেখবো কমিশন আইনানুযায়ী কি ব্যবস্থা নেয়। কারণ আমরা এর আগে যখন নিরাপত্তার জন্য শঙ্কা প্রকাশ করে আবেদন করেছিলাম। তখন প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিষয়টি হেসে উড়িয়ে দিয়েছিল।’

এরপর তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ফের গণসংযোগ শুরু করেন কল্যাণপুর এলাকায়। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন- বিএন‌পি চেয়ারপারস‌নের উপ‌দেষ্টা হা‌বিবুর রহমান হা‌বিব, সহ দফতর সম্পাদক বেলাল আহ‌মেদ, নির্বাহী ক‌মি‌টির সদস্য না‌জিম উ‌দ্দিন আলম, ৯নং ওয়া‌র্ডের কাউ‌ন্সিলর প্রার্থী সাইদুল ইসলামসহ বিএন‌পি ও তার অঙ্গ সহ‌যো‌গী সংগঠ‌নের নেতাকর্মীরা।

হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে দারুস সালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘হামলার কোনো ঘটনাই ঘটেনি। দুই পক্ষ মুখোমুখি ছিল। সেখানে পুলিশ গিয়ে তাদের উভয় পক্ষকে সরিয়ে দিয়েছে।’

‘আপনি বলছেন হামলাই হয়নি, অথচ বেশ কয়েকজন সাংবাদিকও আহত হয়েছে এবং অভিযোগ রয়েছে হামলাকারীরা পুলিশের সহায়তায় হামলা করেছে’,- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘তাই নাকি? তাহলে আমার বিষয়টা জানা নেই। আমি ঘটনাস্থলে নেই, আদালতে। কিন্তু সেখানে আমার ইন্সেপেক্টর (অপারেশন) আছেন। ওনারা আমাকে যা জানিয়েছে তাই বললাম। যদি এমন কিছু হয় তাহলে আমি এখনই খোঁজ নিচ্ছি।’

ঘটনাস্থলে থাকা বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের ওপর দুই দফা হামলা হয়েছে। আমাদের প্রার্থীসহ ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছেন।’

হামলার পর ওই এলাকা ত্যাগ করে ১১ নম্বর ওয়ার্ডের দিকে চলে যান তাবিথ ও তাঁর সঙ্গে থাকা কর্মী-সমর্থকেরা।

তাবিথের সঙ্গে প্রচারে আছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হাবিবুর রহমান, সহ দপ্তর সম্পাদক বেলাল আহমেদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিমুদ্দিন আলম প্রমুখ।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত