শনিবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

ইসি চাইলে ভোট পেছাতে পারে: কাদের

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ভোটের তারিখ নিয়ে বিদ্যমান বিতর্কের বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) চাইলে ভোটের তারিখ পেছাতে পারে। এতে সরকারের আপত্তি নেই।

শুক্রবার আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির সম্পাদকমণ্ডলীর মুলতবি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনসংক্রান্ত যে কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের। এখানে সরকারকে দোষারোপ করা অযোক্তিক।

তিনি বলেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব সরস্বতী পূজা। এ ধর্মীয় উৎসবের প্রতি সম্মান দেখিয়ে তাদের সঙ্গে ইসি আলাপ-আলোচনা করে একটি সমাধান করতে পারে।

তিনি বলেন, নির্বাচন আগানো বা পেছানো ইসির এখতিয়ার। এ ব্যাপারে আমাদের সরকারের কোনো কিছু বলার বা করার ছিল না। এখানে সরকারকে দোষারোপ করা অযোক্তিক।

তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে এ সমস্যার সমাধান করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

প্রসঙ্গত ৩০ জানুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিতে ভোটের তারিখ নির্ধারণ করে তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এদিন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব সরস্বতী পূজা। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পূজার দিনে ভোটের তারিখ বদলানোর দাবি জানিয়ে আসছেন।

এর মধ্যে গণফোরাম সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন অভিযোগ করেন, সরস্বতী পূজার সময় সিটি নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করে সরকার বড় অন্যায় করেছে। তার এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। তারা স্বাধীনভাবে কাজ করে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, তারিখ নির্ধারণ— এগুলো তাদের বিষয়। এর সঙ্গে সরকার কোনোভাবেই যুক্ত নয়। কাজেই সরকার এখানে অন্যায় করেছে, এই কথাটা বলার কোনোই যৌক্তিকতা নেই।

সরকারের এই সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয় সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার। পূজার কারণে আজ বিতর্ক দেখা দিয়েছে, সমস্যা তৈরি হয়েছে। আমরা আশা করি, সংক্ষুব্ধ হিন্দু সম্প্রদায় যারা রয়েছেন, তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সম্মানজনক, গ্রহণযোগ্য ও বাস্তবসম্মত একটি সমাধান নির্বাচন কমিশন খুঁজে নেবে। নির্বাচন কমিশন যদি মনে করে নির্বাচনের তারিখ আগে বা পরের কোনো দিন নির্ধারণ করবে, সেটা তাদের এখতিয়ার। তারা সেটি করতেই পারেন। এ বিষয়ে আমাদের করণীয় নেই।

ইসি জানিয়েছে, তারা সরকারি ক্যালেন্ডার দেখে ভোটের দিন ঠিক করেছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের কোনো দায় আছে বলে মনে করেন কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, নির্বাচনে যে ২২শ কেন্দ্র আছে, তার মধ্যে মাত্র ৫৪টি কেন্দ্রে পূজা হয়। তারপরও আমরা বলব, ৫৪ নয়, চারটি কেন্দ্র হলেও একটি ধর্মের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা দেখানো উচিত। আর সেটা আমরা অবশ্যই করি। আমার মনে হয়, নির্বাচন কমিশনের তাদের সঙ্গে বসা উচিত। যুক্তিতর্কের মাধ্যমে বিষয়টির একটি সম্মানজনক ও যৌক্তিক সমাধান তারা দেখবেন— এটাই আমরা আশা করছি। এই আলোচনা করতে গিয়ে তারা যদি মনে করেন, নির্বাচনের তারিখ তারা পেছাবেন অথবা এগিয়ে নিয়ে আসবেন, তাতে আওয়ামী লীগ বা সরকারের কোনো আপত্তি থাকবে না।

গত রোববার (১২ জানুয়ারি) সম্পাদকমণ্ডলীর অনুষ্ঠিত সভাটি মুলতবি ঘোষণা করা হয়েছিল। আজ সেই মুলতবি সভাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনের আগে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ওবায়দুল কাদের।

সংবাদ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বি এম মোজাম্মেল হক, এস এম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, সাখাওয়াত হোসেন শফিক, শফিকুল আলম চৌধুরী নাদেল, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, অর্থ সম্পাদক আয়েশা ওয়াসিকা খান, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, ত্রাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি, উপদফতর সম্পাদক সায়েম খান, কার্যনির্বাহী সদস্য শাহাবুদ্দিন ফরাজী, সানজিদা খানমসহ অন্যরা।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত