বুধবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

‘নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই, ইভিএম মানিনা’

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এখন পর্যন্ত লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। একই সঙ্গে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট না নিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতিও আহবান জানান তিনি।

সোমবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে বিএনপির দুই প্রার্থীকে নিয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত শেষে তিনি এ কথা বলেন।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘জনগণ যাতে নিজের হাতে নিজের ভোট দিতে পারে, সেজন্য ইভিএমের পরিবর্তে আমরা ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ চাই। ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার ব্যাপারে আবার আমরা নির্বাচন কমিশনকে আহবান জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, আমরা যেটি প্রত্যাশা করেছিলাম যে, একটি নির্বাচনে জনগণের মতের প্রতিফলন ঘটাতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকতে হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকার, নির্বাচন কমিশন বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আমরা রাস্তায় দেখছি নির্বাচনি আইনে লেখা আছে দেয়ালে পোস্টার লাগানো যাবে না এবং রঙিন পোস্টার লাগানো যাবেনা। অথচ আমরা এই দুই সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের দেয়ালে দেখছি রঙিন পোস্টার। কিন্তু নির্বাচন কমিশন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এখন পর্যন্ত লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়নি।

মোশাররফ বলেন, আমরা যেহেতু মধ্যমপন্থী গণতান্ত্রিক দল, আমরা জানি এই ভোটডাকাতির সরকার এবং তাদের পদলেহী নির্বাচন কমিশন কখনোই সুষ্ঠু নির্বাচন, নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে পারে না। তবুও আমরা একটা গণতান্ত্রিক এবং মধ্যপন্থী গণতান্ত্রিক দল হিসেবে গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখার জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি। সেই গণতান্ত্রিক পরিবেশ যদি বজায় না থাকে তাহলে সেটা সফল হবে না।

তিনি বলেন, আপনারা দেখছেন আমাদের প্রচারাভিযানে যারা সরকার দলীয় প্রার্থী তারা আমাদের বিভিন্ন প্রচারাভিযানে বাধা দিচ্ছেন। আমাদের বিভিন্ন কাউন্সিলরদের বাড়ি আক্রমণ করা হচ্ছে, তাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে এবং প্রচারের মাইক ছিনতাই করা হচ্ছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। ভোট ডাকাতির সরকার এবং তাদের পদলেহি নির্বাচন কমিশন কখনই সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারেনা, তবু আমরা গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখতে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। সেই গণতান্ত্রিক পরিবেশ যদি বজায় না থাকে তাহলে সেটা সফল হবেনা।

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, জনগণ যদি সুষ্ঠুভাবে নিরপেক্ষভাবে এবং ভয়মুক্তভাবে ভোট দিতে পারে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস উভয় মেয়র এবং কাউন্সিলররা বিপুল ভোটে জয়ী হবে। আমরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। আমরা ঢাকাবাসীর প্রতি আহবান জানাচ্ছি, জানি আপনারা এই সরকারের প্রতি বিক্ষুব্ধ, আপনারা পরিবর্তন চান, পরিবর্তনের স্বার্থে কেন্দ্রে এসে ভোট দিবেন, যতো ষড়যন্ত্র থাকুক না কেনো, যতো বাধা থাকুক না কেনো, তা উপেক্ষা করে দয়া করে ভোট কেন্দ্রে এসে পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দেবেন, জাতীয়তাবাদী সরকারের পক্ষে ভোট দেবেন। এই সরকারের হাত থেকে এদেশের মানুষকে রক্ষা করা, ঢাকাবাসীকে রক্ষা করার জন্য আমাদের দুই মেয়র প্রার্থীকে ধানের শীষে ভোট দেবেন। আমাদের যারা সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী তাদের পক্ষে ভোট দেবেন। এই আহ্বান আমি ঢাকাবাসীর কাছে রাখছি।

তিনি বলেন, সরকারের ব্যর্থতা, অযোগ্যতা, অন্যায়, অত্যাচার, নির্যাতন সকল কারণে দুর্নীতি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে ঢাকা একটা বিষাক্ত শহরে পরিণত হয়েছে। এই শহরের মানুষ আগামী নির্বাচনে আমাদের দুই মেয়রের পক্ষে ভোট দেয়ার জন্য আমাদের কাউন্সিলরদের ভোট দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। তাই জনগণ যাতে ভোট দিতে পারে সেই ব্যবস্থা করার জন্য আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।

এ সময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, মো. শাহজাহান, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক, আব্দুস সালাম, যুগ্ম সচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, ঢাকা উত্তরের মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল, দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেনসহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত