সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

আলোর রেখায় ফিরলেন তিনি

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ফিরে এসেছিলেন ব্রিটিশ রাজকীয় সি-১৩০ জে মডেলের একটি বিমানে। নেমেছিলেন তেজগাঁও বিমানবন্দরে। সেদিন ছিল ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি।

গতকাল শুক্রবার দীর্ঘ ৪৮ বছর পর তিনি ফিরে এলেন আলোর রেখায়, ‘আলোর পথযাত্রী’ হয়ে। সেদিনের মতোই ওই বিমানবন্দরে নামল সি-১৩০ জে বিমান। ওই দিনের মতোই উৎসবমুখর জনতার চোখ ছিল আকাশে। লেজার লাইটের আলোকরশ্মির মাধ্যমে জাতির জনকের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সেই মুহূর্তটি ফুটিয়ে তোলার মধ্য দিয়ে গতকাল শুরু হয় মুজিববর্ষের ক্ষণগণনার আনুষ্ঠানিকতা। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষণগণনার উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

বর্তমানে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ড হিসেবে ব্যবহৃত তেজগাঁওয়ের সেই পুরাতন বিমানবন্দরে গতকাল বিকালে দেখা গেল সবার চোখে-মুখে শুভক্ষণের প্রতীক্ষা। পূর্বনির্ধারিত সময়ে ‘বঙ্গবন্ধুকে বহনকারী’ বিমানটি নামল রানওয়েতে। অনুষ্ঠানস্থলে তখন বাজছে সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের সেই গান-‘বঙ্গবন্ধু ফিরে এলে তোমার স্বপ্নের স্বাধীন বাংলায়’। বিমানটি ধীরে ধীরে টারমাকে অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে এসে থামে। বিমানটি টারমাকে পৌঁছানোর পর দরজা খোলা হলে ২১ বার তোপধ্বনি দেওয়া হয়। পতাকা হাতে ১৫০ জন তখন লালগালিচার পাশে বঙ্গবন্ধুকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। তাদের জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগানের মধ্যেই লেজার লাইটের মাধ্যমে বিমানের দরজায় ফুটে ওঠে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি। পুষ্পবৃষ্টির মধ্যে সেই আলোর রেখা ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে নেমে লালগালিচার মাথায় ছোট্ট মঞ্চে এসে থামে। এর পর গার্ড অব অনার দেয় সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল।

সমবেতরা যখন বিভোর, জাতির পিতার দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা তখন বারবার চোখ মুছছিলেন। পাশে বসা বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের চোখও ছল ছল করছিল। আমন্ত্রিত বিশিষ্টজনরা ছাড়াও রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার হাজারো মানুষ দৃশ্যটি উপভোগ করেন। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোয় দেখানো হয় সরাসরি। আবেগঘন মুহূর্তের রেশ কাটিয়ে বক্তৃতা দিতে মঞ্চে যান শেখ হাসিনা। সঙ্গে ছিলেন ছোট বোন শেখ রেহানা ও পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ল্যাপটপের বাটনে ক্লিক করে মুজিববর্ষের লোগো উন্মোচন ও মুজিবর্ষের ক্ষণগণনার উদ্বোধন ঘোষণা করেন। একই সময়ে দেশের ১২ সিটি করপোরেশনে ২৮টি স্পটে, ৫৩ জেলায় ও দুটি উপজেলা মিলিয়ে ৮৩টি জায়গায় বসানো কাউন্টডাউন ক্লকও চালু হয়ে যায়।

ক্ষণগণনা শেষে ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে সূচনা হবে মুজিববর্ষের বছরব্যাপী অনুষ্ঠানের; চলবে নানা আয়োজন। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নানা আয়োজন থাকবে।

পুরাতন বিমানবন্দরের পাশাপাশি একই সময়ে হাতিরঝিলেও মুজিববর্ষের ক্ষণগণনার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাজু ভাস্কর্যের পাশে মুজিববর্ষ উপলক্ষে স্বতন্ত্র ডিজাইনের ক্ষণগণনার ঘড়ি স্থাপন করা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত