বৃহস্পতিবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

প্রয়োজনে খালেদার জামিনেও লড়বেন ড. কামাল

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, পেশাগত প্রয়োজনে তিনি কারাবন্দী বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিনেও লড়বেন। খালেদা জিয়াকে জামিন না দেওয়া সংবিধান লঙ্ঘন বলেও জানান ড. কামাল।

আজ মঙ্গলবার সকালে ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ড. কামাল হোসেন।

এক প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘আমিসহ আমরা সবাই আছি তাঁর (খালেদা জিয়া) জামিনের ব্যাপারে। তাঁর জামিনের ব্যাপারে আমাদের চেষ্টা অবশ্যই অব্যাহত থাকবে।’

খালেদার জামিনের পক্ষে দাঁড়াবেন কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক কামাল হোসেন বলেন, ‘অবশ্যই যে–কারও প্রয়োজন হলে আমার পেশাগত কাজ, এটা আমি করব।’ সর্বোচ্চ আদালতে খালেদা জিয়ার জামিন খারিজ হয়ে যাওয়ার পর আর কোনো সুযোগ আছে কি না, তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আছে। জামিন যতবার আমরা চাইতে পারি। রিভিউর ব্যাপার আছে, রিভিউ ছাড়া ফ্রেস অ্যাপ্লিকেশন করা যায়।’

খালেদা জিয়াকে জামিন না দেওয়ার সমালোচনা করে কামাল হোসেন বলেন, ‘উনাকে জামিন না দেওয়া অবশ্যই সংবিধান লঙ্ঘন করা। উনার চিকিৎসার ব্যাপারে যেটা আমরা দাবি করছি, সেটা যদি না মেনে নেওয়া হয়, সেটা সংবিধান লঙ্ঘনের শামিল হবে।’ তিনি আরও বলেন, সংবিধানের বাইরে কেউ না, সংবিধানের কর্তব্য পালনে সবাই বাধ্য।

ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি বিএনপির চেয়ারপারসন সাবেক তিন বারের প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দি খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ। এ রকম পরিস্থিতিতে আমরা তার আশু মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় কোনো অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে গেলে, তার সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে।’

ড. কামাল হোসেন বলেন, সংবাদ মাধ্যমে তিনি জানতে পেরেছেন, খালেদা জিয়া মারাত্মক অসুস্থ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। তাঁর স্বাস্থ্যের গুরুতর অবনতির কারণে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে তাঁরা গভীর উৎকন্ঠা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় আশু ব্যবস্থা গ্রহণসহ অবিলম্বে তাঁর মুক্তির দাবি করেন কামাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমরা স্পষ্টভাষায় উল্লেখ করতে চাই, খালেদা জিয়ার যেকোনো অনভিপ্রেত ঘটনা হলে তার দায়দায়িত্ব সম্পূর্ণ সরকারকেই বহন করতে হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনার নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন কামাল হোসেন।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আরেক শীর্ষ নেতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘এই সরকার কিন্তু বঙ্গবন্ধুকেই অপমান করছেন। বঙ্গবন্ধু তার ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ এবং ‘কারাগারের রোজনামচা’ বইয়ে লিখেছেন, ‘একাকিত্ব এক ধরনের অপরাধ। কাউকে যদি নিঃসঙ্গ বা একা রাখা হয়, সেটা ভয়ংকর অপরাধ। একাকিত্ব মানুষকে মানসিক অবসাদ সৃষ্টি করে। খালেদা জিয়া যদি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালেও থাকেন, সেখানেও তিনি একাকি থাকেন। এটা তার স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।’

‘দ্বিতীয় বিষয়টি হলো, আমাদের মাননীয় বিচারপতিরা মূল একটা বিষয় মিস করেছেন। খালেদা জিয়ার মেডিকেল রিপোর্ট যেটা দেওয়া হয়েছে, সেটি অসম্পূর্ণ একটা রিপোর্ট। সেখানে কোনো জায়গায় কোনো মানসিক রোগের কথা উল্লেখ ছিল না। মেডিকেল টিমে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ছিল না। খালেদা জিয়ার মূল যে রোগ ‘ফিজিওথেরাপি’ তার কোনো বিশেষজ্ঞ ছিল না। উনার যে রোগগুলো আছে, তার কোনো পরীক্ষা রিপোর্ট দেওয়া হয়নি’— বলেন ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘এই ধরনের একটা অসম্পূর্ণ রিপোর্ট দেখে মামলা ডিসমিস করে বিচারপতিরা ভুল কাজ করেছেন। অনৈতিক কাজ করেছেন। মানবিক কারণেই উনাকে মুক্তি দিতে কোথাও কোনো বাধা নেই। যদি প্রয়োজন হয় আমাদের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন কোর্টে যাবেন খালেদা জিয়ার জামিনের জন্য। কিন্তু বিচারপতিরা যদি পাথরের মতো থাকেন, বিবেকহীন থাকেন, তাহলে তো কিছু হবে না। আন্দোলন ছাড়া আমাদের কোনো পথ নাই।’

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি আবু সাইয়িদ, সুব্রত চৌধুরী, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মহসিন রশিদ, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক সিরাজ মিয়া, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি চিকিৎসক জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিকল্পধারার নূরুল আমিন ব্যাপারী প্রমুখ।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত