রবিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

বিদেশগামী নারী কর্মীদের ৫০ শতাংশ বিধবা-তালাকপ্রাপ্ত

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ১৬ মাস ধরে বন্ধ । প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একাধিকবার এটি খোলার কথা বলা হলেও তেমন অগ্রগতি দেখা যায়নি। আজ রোববার প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেছেন, নির্ধারিত মূল্যে প্রবাসী কর্মীদের মালয়েশিয়ায় যাওয়া নিশ্চিত না করে বাজার খোলার পক্ষে নন তিনি। নতুন করে কোনো চক্র যাতে গড়ে না ওঠে, সে বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে রিপোর্টার্স ফর বাংলাদেশি মাইগ্রেন্টস (আরবিএম) আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম রেজা বলেন, বিদেশগামী নারী কর্মীদের সামাজিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে তাঁদের মধ্যে ৫০ শতাংশ বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত বা স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক নেই। তাই নারী কর্মীদের অভিবাসনে অধিকতর সুরক্ষা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী ইমরান বলেন, ‘আমাকে নিশ্চিত করতে হবে যে আমার শ্রমিক ভাইয়েরা নির্ধারিত মূল্যে কীভাবে যেতে পারে। এটা হলো আমার প্রাইম টার্গেট। এই জায়গা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমি কিন্তু মার্কেট খুলতে রাজি না। এটা না হলে কিন্তু সব দায় আমার ওপর আসবে, আমার সরকারের ওপর আসবে। শ্রমিকদের ওপর যে অতিরিক্ত টাকার চাপ ফেলা হয়, এটা যদি আমি গ্রহণ করি, তাহলে কিন্তু তাদের সঙ্গে বেইমানি করা হবে।’

স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে আলোচনা চলছে জানিয়ে ইমরান আহমদ বলেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত আছে। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস এ নিয়ে কাজ করছে। আগের মতো ৪ লাখ থেকে ৬ লাখ টাকা খরচ করে কর্মী সে দেশে যাবেন আর জঙ্গলে লুকিয়ে বেড়াবেন, ওই ধরনের কোনো চুক্তি করা হবে না। সরকারনির্ধারিত মূল্যেই কর্মীরা বিদেশ যাবেন।

নারী কর্মীদের নির্যাতনের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, নারী শ্রমিকদের নির্যাতনের অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত মাসে কিন্তু অভিযোগ কমে এসেছে। নারীরাও আগের মতো ফিরছেন না। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। জড়িত ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।

প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী একবছরে সাড়ে সাত লাখ জনশক্তি রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এই সময়ে আরও অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি শ্রমবাজার চালু করা হবে। এছাড়া বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালু করার উদ্যোগ নেবে সরকার।’

২০১৯ সালে ৬ লাখ ৫০ হাজার কর্মীকে বিদেশ পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছিল সরকার। সেখানে ৭ লাখ ১ হাজার কর্মীর বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার থেকে অর্ধ লাখের বেশি বলেও জানান মন্ত্রী।

জেলাভিত্তিক কর্মসংস্থান বিশ্লেষণে করে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কর্মী পাঠানোয় সর্বোচ্চ জেলার মধ্যে রয়েছে কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, টাংগাইল ও ঢাকা। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কর্মী গেছেন সৌদি আরব। এরপর রয়েছে ওমান, কাতার এবং সিংগাপুর।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত বছর ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি প্রবাসী আয় এসেছে। আগের বছরের তুলনায় এটি ১৬ দশমিক ২ শতাংশ বেশি।

আমাদের অনেক শ্রমিক বিদেশে গিয়ে অবৈধভাবে অন্য দেশে প্রবেশের চেষ্টা করেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘অনেকে ভ্রমণ ভিসা থেকে অন্য দেশে পালিয়ে যান। এসব কারণে অনেক দেশের সঙ্গে শ্রমবাজার বিষয়ক আলোচনার অগ্রগতি হয় না। এই চরিত্র বদল করতে পারলে দেশের জন্য মঙ্গল হবে।’

বিএমইটির মহাপরিচালক শামসুল আলম ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত