শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছে পুলিশ : প্রধানমন্ত্রী

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষায় পুলিশ দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখেছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পুলিশ বাহিনী প্রতিটি ক্ষেত্রে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। পুলিশ জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছে বলেও জানান তিনি।

আজ রোববার সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে বার্ষিক পুলিশ প্যারেডের মধ্য দিয়ে পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। প্যারেড পরিদর্শনের পর বাহিনীর ১১৮ সদস্যকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক ও রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক তুলে দেন তিনি।

পরে ভাষণে সরকারপ্রধান বলেন, ‘জনগণের যে আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করা, এটা পুলিশ বাহিনী আজকে করেছে। ৯৯৯- এখানে যেকোনো সমস্যায় পড়ে মানুষ টেলিফোন করলে পুলিশ ছুটে যায় এবং তাদের উদ্ধার করে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘পুলিশ বাহিনী প্রতিটি ক্ষেত্রে দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে। বিশেষ করে নিরাপদ সড়ক যাতে সৃষ্টি হয় তার জন্যে যথেষ্ট ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে আমাদের যারা পথ চলে, তারা অনেক সময় আমাদের ট্রাফিক রুলস মানে না। তারা যত্রতত্র যেখান থেকে সেখান থেকে গাড়ি চালাবে অথবা গাড়ির সামনে দিয়ে ‍ছুটে চলে যাবে। ’

‘কাজেই আমাদের স্কুল জীবন থেকে এই ট্রাফিক রুলস জানা এবং এ সম্পর্কে রাস্তায় চলার সম্পর্কে জ্ঞান দেওয়া একান্তভাবে কর্তব্য। এ বিষয়ে আরও যত্নবান হতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপির সন্ত্রাসীরা যখন অগ্নিসন্ত্রাস করেছে, তখন তাদের হাতে ২৯ জন পুলিশ নিহত হয়েছিলেন। এ সময় পুলিশ অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তুলে জনগণের জানমাল রক্ষা করেছে। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেছে।’

জাতীয় সম্পদ রক্ষা করার জন্য পুলিশ বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সন্ত্রাস, মাদক, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছি। পুলিশ বাহিনী অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে এগুলো মোকাবিলা করছে। বিশেষ করে জঙ্গিবাদ দমনে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এটা শুধু আমাদের দেশে নয়, বিদেশেও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।’

গুজবের বিরুদ্ধে পুলিশ যথাযথ ভূমিকা পালন করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেখি যে, সোশ্যাল মিডিয়াতে অনেক সময় নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়। ইতিমধ্যে আমরা সাইবার ক্রাইম আইন একটা করে দিয়েছি, এইখানে এই সমস্ত গুজব রটানো করে যারা মানুষের ক্ষতি সাধন করে, তাদের বিরুদ্ধেও পুলিশ যথাযথ ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশ পুলিশকে আধুনিক জনবান্ধব করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাাশি পুলিশের জনবল ধাপে ধাপে বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। জঙ্গিবাদ সন্ত্রাস নির্মূলে এন্টি টেরোরিজম ইউনিট, কাউন্টিার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিট (সিটিসিসি) গঠন করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।’

তিনি বলেন, আমরা চাই, আমাদের পুলিশ শুধু দেশে না, এখন জাতিসংঘেও পুলিশ বাহিনী বিশেষ করে আমাদের মেয়েরা সেখানে অবদান রাখছে। তাই পুলিশের সদস্যদের বিদেশে পাঠিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা নিয়েছি। যেন আধুনিক যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের পুলিশ বাহিনী চলতে পারে। সেই ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি। আমাদের নারী পুলিশ সদস্যের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাদের ট্রেনিংয়ের জন্য আলাদা ব্যবস্থা নেবো। ট্রেনিং সেন্টার খোলার চিন্তাভাবনা আমাদের রয়েছে।

পুলিশের কল্যাণে রেশনব্যবস্থাসহ বিভিন্ন দিক তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে যখন সরকারে আসি, তখন দেখেছিলাম মাত্র ২০ শতাংশ পুলিশ রেশন পেত। এখন আমরা পূর্ণাঙ্গ রেশন সকলের জন্য দিয়ে দিচ্ছি। আর যারা অবসরপ্রাপ্ত, তাদের আজীবন রেশনের ব্যবস্থাও আমাদের বিবেচনায় রয়েছে, আমরা সেটাও ব্যবস্থা করে দেবো। তাছাড়া আমি সকলের বেতনভাতা বৃদ্ধি করে দিয়েছি।

পুলিশের আবাসন সংকট দূর, যানবাহনসহ অবকাঠামোগত উন্নত করে দেওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলাতে বরাদ্দকৃত অর্থকে আমরা ঠিক ব্যয় হিসাবে নিই না। আমরা মনে করি, জনগণের স্বার্থে, জনগণের কল্যানে এটা আমাদের এক ধরনের বিনিয়োগ। কাজেই সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা এই পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক সাজে সজ্জিত করে এবং আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছি। যেন জনগণের সেবা তারা নিশ্চিত করতে পারে।

তিনি বলেন, ২০২০ আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সাল। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী আমরা উদযাপন করব। ২০২১ সালের ২৬মার্চ আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। আমরা ২০২০সালের ১৭মার্চ থেকে মুজিব বর্ষ ঘোষণা দিয়েছি। জাতির পিতা এই দেশ স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। আামদের লক্ষ্য, বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের জনগণ সারাবিশ্বে মর্যাদা নিয়ে চলবে।

জাতির পিতার এই জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা যেন অব্যাহত থাকে উল্লেখ করে রাজধানীর রাজারবাগে বর্ণাঢ্য পুলিশ প্যারেডের মধ্য দিয়ে পুলিশ সপ্তাহ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যদের নয়নাভিরাম প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন তিনি।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত