বৃহস্পতিবার, ১লা অক্টোবর, ২০২০ ইং

বিনিয়োগ এবং সোর্সিংয়ের অনুকূল গন্তব্য হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বে বিনিয়োগ এবং সোর্সিংয়ের জন্য অনুকূল গন্তব্য হয়ে উঠেছে। দেশের বিনিয়োগবান্ধব নীতি এবং বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত কোটা সুবিধা বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করছে।’ তাই বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উইন উইন পরিস্থিতির জন্য ব্যবসার সুবিধার্থে বিনিয়োগ এবং সোর্সিংয়ের জন্য বাংলাদেশকে পছন্দের তালিকায় নিতে আহ্বান জানান।

বুধবার (১ জানুয়ারি) রাজধানীর শের-ই বাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০২০-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো যৌথভাবে ২৫তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ)-এর আয়োজন করে।

প্রধানমন্ত্রী সরকারের ধারাবাহিকতায় ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অগ্রগতির দিক তুলেন। তিনি বলেন, ‘কেউ যদি বিনিয়োগ করতে আসে, সব থেকে সমস্যা হয় ভূমির। তাই এই ভূমির সমস্যাটা যেন না হয়, তার জন্য আমরা ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলে উন্নত করে দিচ্ছি। যখনই যারা বিনিয়োগ করতে আসবে, যেন জমির সঙ্গে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পেতে পারে, আমরা সেই সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এইটুকু বলতে পারি যে, আমরা নিজেরা ব্যবসা করি না কিন্তু আমরা ব্যবসাবান্ধব সরকার। আমরা ব্যবসা করার জন্য অন্যকে সুযোগ সৃষ্টি করে দেই। আর বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান যেটা গত বছরে ৮৯তম ছিল এখন আমরা ৭২তম অবস্থানে চলে এসেছি। ইনশাল্লাহ, ভবিষ্যতে আমরা আরও উন্নতি করতে পারব।’

এছাড়া সরকার কূটনৈতিক অর্থনীতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে লক্ষ্য স্থির করে কাজ করে যাচ্ছে বলেও অবহিত করেন প্রধানমন্ত্রী।

সকলকে রফতানির ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘একটা দুইটা পণ্যের ওপর নির্ভরশীলতা না। আরও অধিক পরিমাণে পণ্য যেন আমরা উৎপাদন করতে পারি, রফতানি করতে পারি। আমার দেশের বাজার বা প্রতিবেশি দেশগুলোতে যাতে পণ্যটা প্রয়োজন হয়, সেদিকেও আমরা বিশেষভাবে দৃষ্টি দিচ্ছি।’

বাণিজ্য মন্ত্রণলায় ‘এক্সপোর্ট কমপিটিটিভ প্লেস ফর জবস’ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের সম্ভাবনাময় চারটি সেক্টর (চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাদুকা শিল্প, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য এবং প্লাস্টিক খাত) আধুনিক প্রযুক্তি সমন্বয় ঘটিয়ে এসব খাতে রফতানি আয় বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি করবে বলেও আশা করেন প্রধানমন্ত্রী।

একই সঙ্গে আইসিটি খাতকে সব থেকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কারণ বিশ্ব প্রযুক্তি নির্ভর। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা একান্তভাবে দরকার। বিশেষ করে ডিজিটাল ডিভাইস আমরা যতবেশি উৎপাদন, ব্যবহার এবং রফতানি করতে পারব। আমাদের অর্থনীতিতে সেটা আরও বেশি অবদান রাখতে পারবে। এই আইসিটি সেক্টরটা আমাদের সব থেকে বড় একটা সেক্টর হবে ভবিষ্যতে; এই পণ্য রফতানি করে আমরা বিশাল অংকের অর্থ উপার্জন করতে সক্ষম হব। তাই সেভাবে আমাদের ছেলে-মেয়েদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি, আইসিটি পার্ক করে দিচ্ছি, সেইভাবে বিভিন্ন কাজ করে যাচ্ছি।’

পরিবেশ রক্ষার দিকে এখন মানুষের দৃষ্টি খুব বেশি দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিবেশবান্ধব একটি কৃষিপণ্য হচ্ছে পাট। কাজেই পাটের জিনোম সেটাও আমরা আবিষ্কার করেছি। পাটের বিভিন্ন পণ্য গবেষণার মাধ্যমে ইতোমধ্যে আবিষ্কার করে কিছু কিছু উৎপাদনের ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং এই ক্ষেত্রে আমাদের বেসরকারি খাত বা দেশি-বিদেশি কেউ যদি এই খাতে আরও বিনিয়োগ করতে চান, আমরা তাদেরকে আহ্বান জানাই। এই পরিবেশবান্ধব, পাট পণ্য, যেটা বর্তমান বিশ্বের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের যে প্রভাব সমগ্র বিশ্বে পড়ছে তা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য এই কৃষিজাত পণ্যটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দেশের ভৌগোলিক অবস্থানের সুবিধাগত বিভিন্ন দিক তুলে ধরে প্রাশ্চ্য-পাশ্চাত্যের মধ্যে সেতু তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে সেইভাবে অবকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা সব দিক থেকেই দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করছি। যে অঞ্চলেই শিল্প গড়ে উঠুক খুব দ্রুত যেন পোর্টে পৌঁছাতে পারে, রফতানি হতে পারে সেই ব্যবস্থাটা আমরা নিচ্ছি, সেই সুযোগটা আমরা সৃষ্টি করে দিচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে আমরা জাতিসংঘ ঘোষিত সাসটেইনেবল ডেভলপমেন্ট গোল; সেটা অর্জন করব। পাশাপাশি আমাদের নিজস্ব যে প্রেক্ষিত পরিকল্পনা; বাংলাদেশকে আমরা উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসাবে গড়ে তুলতে চাই। ইতোমধ্যে; বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে। ইনশাল্লাহ, বাংলাদেশ আগামীতে উন্নত দেশ হিসাবে দক্ষিণ এশিয়ায় আমরা প্রতিষ্ঠা পাব। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমাদের সকল পরিকল্পনা নিচ্ছি।’

সরকারের ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন প্রেক্ষিত পরিকল্পনা গ্রহণের কথা তুলে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘২০২১ থেকে ২০৪১ পর্যন্ত বাংলাদেশের উন্নয়ন কিভাবে হবে? সেই প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ আমরা শুরু করেছি। ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ সেটাও আমরা প্রণয়ন করে বাস্তবায়ন শুরু করেছি। অর্থাৎ একটা সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়েই বাংলাদেশের উন্নয়নের যাত্রা নির্দিষ্ট করেছি। ব্যবসা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, খাদ্য উৎপাদন, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আইন প্রণয়ন করাসহ আন্তর্জাতিক মানের অনলাইনভিত্তিক ওয়ান স্টপ সার্ভিস গত বছর জানুয়ারি থেকে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। ওয়ান স্টপ সার্ভিস পূর্ণাঙ্গভাবে তৈরির মাধ্যমে বিনিয়োগ পরিবেশের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।’

এছাড়াও অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়েছে। যাতে ব্যবসা বাণিজ্য আরও সহজ হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘প্রায় ১৭ কোটি ভোক্তার বাজার নিয়ে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার গেটওয়ে হওয়ায় ৪ বিলিয়ন ভোক্তার সঙ্গে সংযুক্ত। বাংলাদেশ বিশ্বে বিনিয়োগ এবং সোর্সিংয়ের জন্য অনুকূল গন্তব্য হয়ে উঠেছে।’ বাংলাদেশের বিনিয়োগ বান্ধব নীতি এবং একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত কোটামুক্ত সুবিধা বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরকেও আকর্ষণ করছে বলেও জানান তিনি। এ লক্ষ্যে কূটনৈতিক ও বিদেশি ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উইন উইন পরিস্থিতির জন্য ব্যবসার সুবিধার্থে বিনিয়োগ এবং সোর্সিংয়ের জন্য বাংলাদেশকে যেন সকলে বেঁছে নেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। এছাড়া বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দিন, স্বাগত বক্তব্য রাখেন রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা ইয়াসমিন।

ধর্মীয়গ্রন্থ পাঠদানের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হলে বাণিজ্য প্রসার ও অগ্রযাত্রা নিয়ে একটি ভিডিও তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। ডিজিটাল ডিসপ্লের মাধ্যমে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০২০ উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।
এরপর মেলার মূল প্রবেশদ্বারে ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করে বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত