রবিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

বিএনপির মনমানসিকতা একেবারেই সেকেলে: কাদের

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

বিএনপির নেতাকর্মীদের মানসিকতা একেবারেই সেকেলে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সিটি নির্বাচনে বিএনপি ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) বিরোধিতা প্রসঙ্গে এ মন্তব্য করেন তিনি।

বুধবার সকালে রাজধানীর উত্তরায় দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেল লাইনে রেল-ট্র্যাক স্থাপন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ওবায়দুল কাদের। এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি আধুনিকতা থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে সারা পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ডিজিটাল পদ্ধতি যারা পছন্দ করে না, তারা কতটা আউটডেটেড (সেকেলে) মনমানসিকতার, কতটা পেছানে আছে সেটি ভাবতে হবে।

‘ইভিএম ডিজিটাল ভোটচুরির মেশিন’– বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এটি লেটেস্ট টেকনোলজি। ইভিএমে যদি ভোট হয় সেটি ত্রুটিমুক্ত নির্বাচন হবে। এ পদ্ধতিতে সহজেই ভোট গণনা করা যায়। এটি অ্যাকসেপটেড (গ্রহণযোগ্য) একটি সিস্টেম, কাজেই এ নিয়ে বিতর্কের কোনো অবকাশ নেই।’

‘নির্বাচনে শেষটা দেখে ছাড়ব’– ঢাকা উত্তর বিএনপির প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের এমন মন্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেন, বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকবে এটি তো ভালো কথা। তাদের পুরনো সংস্কৃতি নির্বাচনের আগেই ভোট বয়কট করা। সেখান থেকে যদি সরে আসতে পারে তা হলে সেটি ভালো কথা। নির্বাচনের শেষটি দেখবেন এবং রেজাল্ট পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন আমরা সেটিই চাই।

ভোটে থাকার বিষয়ে বিএনপির অবস্থান নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, জানি রেজাল্ট হওয়ার আগ পর্যন্ত তারা বলবে ভোট কারচুপি হয়েছে, জালিয়াতি হয়েছে, ডাকাতি হয়েছে– এসব অভিযোগ তারা দেবেন। সুতরাং তারা যে অঙ্গীকার করেছে, ভোটের শেষ পর্যন্ত থাকবে, সেটি যেন তারা করেন।

নতুন বছরের প্রথম দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এমআরটি লাইন ১ ও এমআরটি লাইন ৫ এর ডিপিপি অনুমোদন হয়ে গেছে, ফলে কাজ শুরু করতে আর কোনো বাধা নেই। মেট্রোরেলের এই দুই লাইনের মধ্যে একটিতে ১৬ কিলোমিটার, অন্যটিতে সাড়ে ১৩ কিলোমিটার অংশ পাতাল রেল হবে।’

‘সব মিলিয়ে ২০৩০ সালে ছয়টি মেট্রোরেলের পৌনে ২০০ কিলোমিটারের সব কাজ যখন শেষ হবে, এর ফলে ঢাকায় যানজটমুক্ত অনিন্দ্য সুন্দর এক দৃশ্যপট আমরা দেখতে পাব। ঢাকা শহরে আজকের যান চলাচলের চিত্রই পাল্টে যাবে,’ বলে জানান সেতুমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা এমআরটির সবকটি লাইন যখন চালু হয়ে যাবে, যানজটের দৃশ্যপট বদলে যাবে।’

এমআরটি-৬ লাইনের বিদ্যুত সঞ্চালন লাইন ও রেল-ট্র্যাক বসানোর কাজের উদ্বোধন করে মন্ত্রী জানান, ‘আজকে আমি আনন্দের সঙ্গে বলছি, আমাদের এমআরটি লাইন ৬ মেট্রোরেল প্রকল্পের সাড়ে ৮ কিলোমিটার এখন দৃশ্যমান।’

২০১৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মেট্রোরেল প্রকল্পের মূল কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের কাজ শেষ করে মেট্রোরেল চলাচল শুরুর জন্য কয়েক দফা সময় নির্ধারণ করা হয়। এখন ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মেট্রোরেল চালু করা যাবে বলে আশা করছেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি ২০২১ সালে বিজয়ের মাসে ইনশাআল্লাহ এমআরটি লাইন ৬, তরুণ প্রজন্মের ড্রিম প্রজেক্ট, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রয়োরিটি প্রজেক্ট, মেগা প্রকল্প, ফার্স্ট ট্র্যাক প্রজেক্ট, মেট্রোরেলের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হবে, বিজয়ের মাসে উদ্বোধন হবে, এটাই আমাদের নববর্ষের প্রত্যাশা।’

সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সব মেগা প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়েই সম্পন্ন হবে। আগের চেয়ে বাস র্যাপিড ট্রানজিটের গতি বেড়েছে। কর্ণফুলী ট্যানেলের কাজ ৫০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। পদ্মা সেতুর কাজ ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। সুতরাং, মেট্রোরেলও আমরা নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করতে পারব।’

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড দেশের প্রথম এই মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ২০ দশমিক ১০ কিলোমিটার এই মেট্রোরেল মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। ফলে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত সহজেই লোকজন যাতায়াত করতে পারবে।

এ সময় সেতু সচিব নজরুল ইসলাম, বিআরটিএ চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত