মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

উত্তরে তাবিথ দক্ষিণে ইশরাক প্রায় নিশ্চিত

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরও বিএনপির প্রার্থী কে হচ্ছেন তা নিয়ে দলের মধ্যে তেমন জল্পনা-কল্পনা নেই। নাটকীয় কিছু না ঘটলে ঢাকা উত্তরে তাবিথ আউয়াল এবং দক্ষিণে ইশরাক হোসেন প্রার্থী হচ্ছেন, এটি অনেক আগে থেকেই নিশ্চিত।

কয়েক মাস আগেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দুই নেতাকে সবুজ সংকেত দিয়েছেন। তবে দক্ষিণে প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে বেশ আগ্রহী হাবিব-উন নবী খান সোহেল। দলের নীতিনির্ধারণী সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

নির্বাচন নিয়ে গতকাল সোমবার বিকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বৈঠক বসে দলের স্থায়ী কমিটি। এতে স্কাইপের মাধ্যমে যোগ দেন তারেক রহমান। বৈঠকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে আলোচনা হলেও চূড়ান্তভাবে কারও নাম বলেননি তিনি। তবে তাবিথ ও ইশরাক যে প্রার্থী হচ্ছেন, সে ব্যাপারে তার ইঙ্গিত ছিল স্পষ্ট।

বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মেয়র পদে দলীয় মনোনয়নপত্র বিতরণ হবে ২৬ ডিসেম্বের সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত এবং জমা পরদিন বিকাল ৪টার মধ্যে। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার হবে ২৮ ডিসেম্বর চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে। দলের এক নীতিনির্ধারক বলেন, প্রার্থী তো চূড়ান্ত। এর পরও কারা আগ্রহ প্রকাশ করেন, মনোনয়নপত্র বিক্রি হলে জানা যাবে।

বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, তফসিল ঘোষণা হলেও ডেঙ্গু, বায়ুুদূষণসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত ঢাকা নগরীতে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাতে নির্বাচন শেষ পর্যন্ত হবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা এখনো রয়েছে। তবু দল প্রার্থী চূড়ান্ত করে রেখেছে। সম্ভাব্য দুই প্রার্থী ইতোমধ্যে প্রায় সব থানায় কর্মিসভা করেছেন। ‘অদম্য ঢাকা’র ব্যানারে রাজধানীর বিভিন্ন সমস্যা এবং তা সমাধানে করণীয় নিয়ে ফেবসুকে তাবিথ আউয়ালের ভিডিও দেখা যাচ্ছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায় বলেন, দল সব স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সে অনুযায়ী ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও যাবে বিএনপি।

বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, তাবিথ আউয়ালকে এবারও যে প্রার্থী করা হচ্ছে, সে বার্তা ঢাকা মহানগর উত্তর দলের নেতাকর্মীদের কয়েক মাস আগেই জানিয়ে দিয়েছেন তারেক রহমান। উত্তর কমিটিকে তাবিথের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

দক্ষিণে প্রভাবশালী নেতা স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের স্ত্রী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের মেয়র পদে নির্বাচনের আগ্রহ নেই। তবে দল চাইলে তিনি প্রার্থী হবেন। অবশ্য সেখানে বিএনপি নেতা প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেনকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত রয়েছে। খোকার জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগাতে চায় বিএনপি। যদিও দক্ষিণে প্রার্থী হতে আগ্রহী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব-উন নবী খান সোহেল। স্থায়ী কমিটির গতকালের বৈঠকেও বিষয়টি আলোচনায় আসে। তবে স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্য মনে করেন, ইশরাককে প্রার্থী করা উচিত।

বিএনপি নেতারা বলছেন, ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময় বিএনপি সরকারবিরোধী আন্দোলনে ছিল। দলের নেতাকর্মীদের অধিকাংশ হয় কারাগারে নইলে পলাতক ছিলেন। এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। নেতাকর্মীরা জামিনে আছেন। আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তাই নির্বাচন মোটামুটি স্বচ্ছ হলেই জয়ী হবেন তারা।

তাবিথ আউয়াল বলেন, গতবার প্রার্থী ছিলাম। নির্বাচনের পর থেকেই উত্তর সিটি করপোরেশনের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এখনো করছি। নির্বাচনের জন্য আমি প্রস্তুত।

ইশরাক হোসেনও সিটি করপোরেশনে নির্বাচন করতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, ঢাকাকে অনেক কাছ থেকে দেখেছি। আমি নিজেও যানজট নিয়ে পড়াশোনা করেছি। তাই বাবার অভিজ্ঞতা আর আমার পড়াশোনাকে কাজে লাগিয়ে আধুনিক ঢাকা গড়তে পারব।

স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ঢাকার সিটি নির্বাচনে তড়িঘড়ি করে তফসিলের পেছনে সরকারি দলের প্রার্থীকেই জেতানোর পুরনো কৌশলের আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের আগেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল, স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলোয় অংশ নেব। সে ধারাবাহিকতায় আমরা এ নির্বাচনেও অংশ নেব। তবে সেটা সম্পূর্ণভাবে নির্বাচনের পরিবেশ-পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। ইভিএমে ভোটগ্রহণের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, ইভিএমে যথেষ্ট সুযোগ থাকবে ভোটের ফল পরিবর্তনের, নিয়ন্ত্রণের।

খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও তার বিচারের বিষয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বিবৃতি দেওয়ায় বৈঠকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয় বলে জানান বিএনপি মহাসচিব।

বৈঠকে মহাসচিব ছাড়াও ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বরচন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত