রবিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর আগে সব ষড়যন্ত্র প্রতিহতের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর প্রাক্কালে দেশে গণতন্ত্র ও সরকারবিরোধী সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঐক্যবদ্ধভাবে গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষার আহ্বানও জানান তিনি।

আজ রোববার সকালে চট্টগ্রামে বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিতে নৌবাহিনীর শীতকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এদিন নৌ বাহিনীর ৭২ কর্মকর্তাকে কমিশন প্রদান করা হয়।

কুচকাওয়াজ পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর প্রাক্কালে দেশে গণতন্ত্র ও সরকারবিরোধী সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের এই উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন আজ সমগ্র বিশ্বের জন্য উন্নয়নের বিস্ময়। দেশের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে নৌবাহিনীও এগিয়ে চলছে। আমি বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ নেভাল একাডেমির অব্যাহত অগ্রযাত্রা ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করছি।’

দেশের অগ্রগতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮.১৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। দারিদ্র্যের হার ২০.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। আমাদের মাথাপিছু আয় বেড়ে ১ হাজার ৯০৯ মার্কিন ডলার হয়েছে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসসহ রেল, নৌযোগাযোগ ক্ষেত্রে ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আমরাই বিশ্বে প্রথম শত বছরের বদ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০ বাস্তবায়ন শুরু করছি। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করছি। বাংলাদেশ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে ও বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইতোমধ্যে নৌবাহিনীতে দুটি সাবমেরিন সংযোজনের মাধ্যমে ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিতে চালু হয়েছে উন্নত প্রশিক্ষণ সুবিধা সম্পন্ন আন্তর্জাতিক মানের সুবিশাল বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স।’

আধুনিক এ প্রশিক্ষণ সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে সমুদ্রসীমায় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নবীন কর্মকর্তাদের আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নৌবাহিনীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চীন থেকে দুটি ফ্রিগেট শিগগিরই নৌবহরে যুক্ত হবে। এছাড়া উল্লেখযোগ্য সংখ্যক করভেট, মাইনহান্টার, ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ভেসেল ও সেইলিং শিপসহ বিভিন্ন জাহাজ ক্রয় ও নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নেভাল এভিয়েশনের জন্য মেরিটাইম পেট্রল এয়ারক্রাফট, অ্যান্টি সাবমেরিন হেলিকপ্টার ও এমআরএমপিএ (লংরেঞ্জ মেরিটাইম পেট্রল এয়ারক্রাফট) ক্রয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটি শক্তিশালী নৌবাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে মিশাইল, আরএফএফ সিস্টেম ইত্যাদিসহ আধুনিক যুদ্ধ প্রযুক্তি সংযোজনের কাজও চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সর্ববৃহৎ ঘাঁটি ‘বানৌজা শেরে-ই-বাংলা’ ও ‘বানৌজা শেখ হাসিনা’ ঘাঁটির কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘নবীন কর্মকর্তারা নেভাল একাডেমি থেকে অর্জিত জ্ঞান যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে নিজেদের যোগ্য কর্মকর্তা হিসেবে গড়ে তুলবে এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে এ প্রশিক্ষণ কাজে লাগিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা ও অগ্রগতির পথে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবে।’

রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে আরও উপস্থিত ছিলেন তিন বাহিনীর প্রধান, নৌ সদর দফতরের পিএসও, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর আঞ্চলিক অধিনায়ক। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দেশি বিদেশি কূটনীতিক, সামরিক- বেসামরিক কর্মকর্তা ও শিক্ষা সমাপনী ব্যাচের অভিভাবকরা।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত