রবিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

আপনাদের ভাবতে হবে আমার বয়স হয়ে গেছে: শেখ হাসিনা

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে পরিচালনার ভার আবারও বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপরই দিলেন দলটির কাউন্সিলররা। এ নিয়ে টানা নবম বারের মতো সভানেত্রী নির্বাচিত হলেন তিনি।

সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, আমি চাচ্ছিলাম, আমাকে একটু ছুটি দেবেন। আপনাদের ভাবতে হবে আমার বয়স হয়ে গেছে। আমার বয়স এখন ৭৩। এবারও আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন।

আবেগতাড়িত হয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৫ সালে মা-বাবা-ভাই-বোন সব হারিয়েছি। আপনজন যাদেরকে রেখে গিয়েছিলাম তারা আর কেউ নেই। আওয়ামী লীগকে আমার পরিবার হিসেবে নিয়েছি। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ভালোবাসাই ছিল আমার চলার শক্তি।

তিনি বলেন, আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন সে দায়দায়িত্ব যেন সঠিকভাবে পালন করতে পারি।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে আমি পরিবার হিসেবেই নিয়েছিলাম। আর আওয়ামী লীগের যে অগণিত নেতাকর্মী, তাদের স্নেহ-ভালোবাসাই আমার চলার পথে শক্তি। অর্থ-সম্পদ কোনোকিছু নয়, আমার একটিমাত্রই শক্তি, সেটা হলো আওয়ামী লীগের অগণিত নেতাকর্মী।

শনিবার (২১ ডিসেম্বর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে কাউন্সিল অধিবেশনে টানা নবমবারের মতো দলের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি এ কথা বলেন।

টানা নবমবার আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হলেও শেখ হাসিনা বলেন, তিনি দলের কাছ থেকে নিজের ‘ছুটি’ প্রত্যাশা করেছিলেন। তিনি বলেন, আমি চাচ্ছিলাম, যে এই দীর্ঘ দিন আওয়ামী লীগের দায়িত্বে ছিলাম, অন্তত আমাকে একটু ছুটি দেবেন। ৩৮টি বছর আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে আছি, ৩৯ বছর হতে চলছে। তাই একটু ছুটি দেবেন চাচ্ছিলাম।

তিনি বলেন, আমি কোনো পদে থাকি বা না থাকি, আওয়ামী লীগেই আছি, আওয়ামী লীগেই থাকব। এটাই আমার পরিবার। পঁচাত্তরে মা-বাবা-ভাই সব হারিয়েছি। যেদিন বাংলাদেশে ফিরেছিলাম, সেদিনই দেখেছি, আমি একটি বিশাল পরিবার পেয়েছি। সেটা হচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এরপর থেকে এই সংগঠনটিকেই গড়ে তুলতে চেষ্টা করেছি যোকোনো মূল্যে।

শেখ হাসিনা বলেন, তবে আপনাদের সামনের কথাও ভাবতে হবে। কারণ আমারও বয়স হয়ে গেছে। আমার কিন্তু ৭৩ বছর বয়স। এটা ভুলে গেলে চলবে না। কাজেই আস্তে আস্তে সংগঠন নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। আগামীতে নতুন নেতাও আপনাদের নির্বাচন করতে হবে। এখানে আপনারা দায়িত্ব দিয়েছেন। আমাদের নির্বাচন পর্ষদ (কমিশন) তারা আপনাদের কাছে মতামত চেয়ে আমাকে সভাপতি পদে আবার নির্বাচন করেছেন এবং ওবায়দুল কাদের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন।

দ্বিতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার ওবায়দুল কাদেরকে অভিনন্দনও জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন আমরা একসঙ্গে কাজ করছি এবং ছাত্রলীগ সংগঠন থেকেই যাত্রা শুরু সকলের। আমি মনে করি, যে গুরুদায়িত্ব আপনারা দিয়েছেন, এই দায়িত্ব যেন যথাযথভাবে পালন করতে পারি তার জন্য সবার দোয়া চাই, সমর্থন চাই। আর আপনারা নিজ নিজ সংগঠন গড়ে তুলবেন।

কাউন্সিল অধিবেশনে আওয়ামী লীগের আগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নাম প্রস্তাব চাওয়া হয়। তবে সভাপতি পদে শেখ হাসিনা ছাড়া আর কারও নাম প্রস্তাব করেননি কাউন্সিলররা। এর জন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান শেখ হাসিনা।

কাউন্সিলরদের প্রতি সংগঠন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের সংগঠনকে আমরা গড়ে তুলতে চাই। এখানে আমাদের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এই কাউন্সিল থেকেই আমাদের বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ড ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ড— এই দুইটি বোর্ড গঠন করে নিয়ে যেতে চাই। এ বিষয়ে আপনাদের অনুমোদন চাচ্ছি। এসময় উপস্থিত কাউন্সিলররা সবাই হাত ‍উঠিয়ে সম্মতি জানান।

আওয়ামী লীগের দুদিনব্যাপী জাতীয় সম্মেলনের শনিবার সমাপনী অধিবেশনে কাউন্সিলরদের সমর্থনে সর্বসম্মতিক্রমে শেখ হাসিনা সভাপতি ও ওবায়দুল কাদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় দলের প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে তাদের নির্বাচিত ঘোষণা করেন।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত