রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

বিএনপি ক্ষমতায় থাকলেও সন্ত্রাস করে, না থাকলেও সন্ত্রাস করে: শেখ হাসিনা

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

বিএনপি ক্ষমতায় থাকলেও সন্ত্রাস করে না থাকলেও সন্ত্রাস করে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বিএনপি যে অগ্নিসন্ত্রাস করেছে, মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে- এর চেয়ে জঘন্য কাজ আর কিছু হতে পারে না। আসলে তারা সরকারে থাকলেও সন্ত্রাস করে, না থাকলেও সন্ত্রাস করে।

শুক্রবার বিকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ বিএনপির অগ্নিসন্ত্রাসের মোকাবেলা করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ওপর আঘাত এসেছে বারবার। জাতির পিতাকেও হয়রানি, মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে, ফাঁসির আদেশ হয়েছে। তারপরও তিনি সততার সঙ্গে এগিয়ে গিয়েছিলেন বলেই বাঙালি একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছে।

নেতাকর্মীদের তৃণমূল পর্যায় থেকে সংগঠনকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, যিনি ত্যাগ স্বীকার করতে পারেন, তিনিই সফল হবেন। আর এই কাজটা আওয়ামী লীগই সবচেয়ে বেশি করেছে। এর জন্যই জনগণ কিছু পেয়েছে।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়। আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে, মানুষকে কিছু দিয়েছে। অসহায় মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য বঙ্গবন্ধু কাজ করে গেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তাদের শ্রদ্ধা করি। আওয়ামী লীগ জন্ম লগ্ন থেকে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জন্ম। এই দল ক্ষমতার অলিঙ্গন থেকে প্রতিষ্ঠিত কোনো দল নয়, জনগণের ভেতর থেকে প্রতিষ্ঠিত দল।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে, মানুষকে কিছু দিয়েছে। অসহায় মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য বঙ্গবন্ধু কাজ করে গেছেন। এ দেশের মানুষ ছিল দারিদ্র্য সীমার নিচে। তারা এক বেলা খেতে পেতো না, ছিল গৃহহারা। শিক্ষার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। ছিল শোষিত-বঞ্চিত। তাদের কীভাবে মুক্তি দেবেন, এটাই ছিল জাতির পিতার একমাত্র লক্ষ্য। এ জন্য তিনি দেশ স্বাধীন করেছিলেন। মানুষ তার ডাকে সাড়া দিয়েছেন।’

আওয়ামী লীগের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘জন্মলগ্ন থেকেই আওয়ামী লীগ মানুষের অধিকার নিয়ে সংগ্রাম করেছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় বসে গঠন করা কোনো দল নয়। একেবারে গ্রাম বাংলার সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করার লক্ষ্য নিয়ে এই দল প্রতিষ্ঠিত। এ কারণে বাংলার মানুষের যতটুকু অর্জন, একমাত্র আওয়ামী লীগ যখন সরকারে এসেছে, কাজ করেছে, তখনই মানুষ কিছু পেয়েছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতা সাধারণ জনগণ যারা দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত ছিল, তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য সংগ্রাম করেছে। এই সংগ্রামের মাধ্যমে তিনি জাতিকে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেছেন। কারণ এ দেশের মানুষ ছিল দারিদ্র্যসীমার নিচে। একবেলা খাবার পেত না। মাথাগোঁজার ঠাঁই ছিল না। রোগে চিকিৎসা পেত না। শিক্ষার ব্যবস্থা ছিল না। শোষিত-বঞ্চিত ছিল। বঞ্চনার হাত থেকে কীভাবে মুক্ত হবে, সেটি ছিল জাতির পিতার লক্ষ্য। সে জন্য দেশ স্বাধীন করে যান।’

‘জাতির পিতা ১৯৭২ সালে ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড ফ্রস্টকে ইন্টারভিউয়ে বলেছিলেন জীবনকে সংগ্রামের মাধ্যমে দেশকে স্বাধীন করে যাওয়া, সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ । বঙ্গবন্ধু অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান। নেতৃত্ব দিতে হলে সবচেয়ে বেশি আত্মত্যাগ প্রয়োজন। আপনারা অসমাপপ্ত আত্মজীবনীতে দেখবেন বঙ্গবন্ধু কষ্ট করেছেন। বাংলার মানুষের জন্য, দুঃখী মানুষের জন্য। সেই লক্ষ নিয়েই তিনি সংগ্রাম করে গেছেন।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘তিনি বারবার কারাবরণ করেছেন। বিনা বিচারে বছরের পর বছর তিনি কারাবরণ করেছেন। কখনও তিনি দেশের মানুষের কল্যাণের পথ ছেড়ে যাননি। এই বাংলার জনগণের জন্য যে কোনো আত্মত্যাগে তিনি সদা প্রস্তুত ছিলেন।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আমরা বাঙালি জাতি, আমাদের জাতিসত্তা আছে। আমাদের সংস্কৃতি, ভাষা আছে। প্রতিটি নেতাকর্মীকে অনুরোধ জানাব, এই জাতিসত্তার চেতনা নিয়ে আমাদের কাজ করে যেতে হবে।’

কাউন্সিল অধিবেশনে শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘আমরা সবসময় লক্ষ করেছি, এই বাংলাদেশে বারবার আঘাত এসেছে। আওয়ামী লীগকে সম্পূর্ণভাবে শেষ করে দেওয়ার অনেক প্রচেষ্টা বারবার হয়েছে। পাকিস্তান আমল থেকে আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া খান, পঁচাত্তরের পর খালেদা জিয়া, সব আঘাত আওয়ামী লীগের ওপরেই এসেছে। কিন্তু জাতির পিতার হাতে গড়া আদর্শের সংগঠন বলে কেউ এটিকে নিঃশেষ করে দিতে পারেনি। ধ্বংস করতে পারেনি।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত করা হয়েছিল। অনেকবার ভাঙন এসেছে। আমরা আবার নতুনভাবে দলকে গড়ে তুলেছি। আমি সারাদেশ ঘুরেছি। আজ আওয়ামী লীগ এই দেশে সবচেয়ে বড় সংগঠন ও সবচেয়ে শক্তিশালী সংগঠন। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে জনগণ কিছু পায়, এটি প্রমাণিত সত্য।

এর আগে বিকাল ৩টা ৫ মিনিটে সম্মেলন স্থলে উপস্থিত হয়ে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন শেখ হাসিনা। এরপর আওয়ামী লীগের দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন দলটির সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

পরে শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।

উদ্বোধনের পর ২৫ মিনিট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলে। এতে দলীয় সংগীত ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করা হয়।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত