শনিবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

বিদেশে প্রশিক্ষিত শ্রমিক পাঠানোর ওপর গুরুত্ব প্রধানমন্ত্রীর

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

বিদেশে কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নের দিকে সরকার জোর দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, সেজন্য ইংরেজির পাশাপাশি আরেকটি ভাষা শেখার প্রতি গুরুত্ব দেন তিনি। বিশেষ করে যে শ্রমিক যে দেশে কাজ করতে যেতে চান, সেই দেশের ভাষা।

বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, অভিবাসী শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়াতে সৌদি আরব ও হংকং এর সঙ্গে যৌথভাবে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশেষ করে নারী কর্মীদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেন তারা যে কাজে যাচ্ছেন সেটা ঠিকমতো করতে পারেন। সরকার এখন প্রশিক্ষণের দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে।

ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে দেশের যে কোনো স্থান থেকে যে কেউ বিদেশ যাওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করতে পারে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরে সেখান থেকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় বেছে বেছে বিদেশে পাঠানোর জন্য মানুষ নির্বাচন করে। তিনি বলেন, ‘দেশের অনেকে জায়গায় দালালের খপ্পরে পড়ে অনেকেই সব বিক্রি করে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করে। এটা যেন কেউ না করে। ধোঁকায় যেন কেউ না পড়ে। যারা এসব করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুব সমাজ আমাদের সম্পদ। এই যুব সমাজকে দক্ষ যুব সমাজে রূপান্তর করতে হবে। প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থা করছি। দক্ষ যুব সমাজকে বিদেশে পাঠিয়ে তাদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব।

এছাড়া এখন কোনো শ্রমিক স্মার্ট কার্ড নিয়ে বিদেশে গেলে বিমানবন্দরেই তার সব তথ্য রেকর্ড থাকবে বলে জানান তিনি। এছাড়া এর ফলে দেশে ফেরার পর শ্রমিকদের হয়রানিও কম হবে বলে মনে করেননি।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ টেকসই উন্নয়নের দিকে নজর দিয়েছে। আমরা প্রবাসীদের জন্য আইন, নীতিমালা করেছি। এ সেক্টরকে ফাস্ট সেক্টর হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থকে আমরা খুবই গুরুত্ব দেই। আমাদের দেশ থেকে প্রশিক্ষিত কর্মী পাঠাতে চাই। ঘরবাড়ি জমি বিক্রি করে কেউ যেন দালালের খপ্পরে না পড়ে, কেউ যেন নিঃস্ব না হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক করেছি, এখান থেকে ঋণ নিয়ে তারা বিদেশে যেতে পারবে। এই ব্যাংকের মাধ্যমে তারা তাদের অর্থ পাঠাতে পারবে।

অবৈধ পথে অর্থ না পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে যেমন বিদেশে যাওয়া যাবে, আবার বিদেশ থেকে ফিরে এই ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বাংলাদেশেও কিছু করতে পারবেন। বিদেশগামী যুবকরা যাতে প্রতারণায় না পড়ে সে জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর দেশে দারিদ্র্য হার কমানোর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪১ ভাগ। এখন আমরা তা ২০ ভাগে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে এ দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ছিল ৫৪৩ ডলার। আর বর্তমানে মানুষের এ আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০০০ ডলারে।

‘দক্ষ হয়ে বিদেশ গেলে, অর্থ সম্মান দুই ই মেলে’ -এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্রতি বছরের মতো এবারও বাংলাদেশে বিভিন্ন আয়োজনে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ের ক্রমবর্ধমান ধারাকে অব্যাহত রাখতে এবং সুষ্ঠু নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করার জন্য সরকার দক্ষতা উন্নয়নের ওপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপের প্রেক্ষিতে এ বছরের প্রতিপাদ্য নির্বাচন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইমরান আহমেদের সভাপতিত্বে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও বায়রা সভাপতি বেনজির আহমেদ বক্তব্য রাখেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম রেজা।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত