বৃহস্পতিবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

ট্রাম্পের টিকে থাকা এখন সিনেটের ওপর

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

তৃতীয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিনিধি পরিষদের ভোটে অভিশংসিত হয়েছেন। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে থাকতে পারবেন কি না, সিনেটের ভোটে তা চূড়ান্ত হবে।

বিবিসি অনলাইনের খবরে জানানো হয়, স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদের ভোটে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিশংসিত হয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও কংগ্রেসের কাজে বাধা দেওয়ার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রতিনিধি পরিষদের ভোটে সুস্পষ্ট দলীয় বিভক্তি ছিল। ডেমোক্র্যাট সদস্যদের সবাই অভিশংসনের পক্ষে আর রিপাবলিকান সব সদস্য অভিশংসনের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের আধিপত্য থাকলেও সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকানরা।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দুটি অভিশংসন অভিযোগের ওপর দুই দলের মধ্যে ছয় ঘণ্টা ধরে বিতর্ক চলে।

এই ভোটের সময় ট্রাম্প ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য মিশিগানে তাঁর নির্বাচনী প্রচারাভিযান চালাচ্ছিলেন। মিশিগানের ব্যাটল ক্রিকে নির্বাচনী সমাবেশে তিনি বলেন, ‘মিশিগানের জন্য যখন আমরা চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করছি এবং লড়াই করছি, তখন কংগ্রেসে চরমপন্থীরা হিংসা, বিদ্বেষ ও ক্ষোভে ফুঁসছে। আপনারা দেখছেন কী চলছে।’

অভিশংসন ভোটের পর হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে বলেছে, প্রেসিডেন্ট আত্মবিশ্বাসী যে তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হবেন সিনেটের ভোটে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এর আগে প্রতিনিধি পরিষদে আরও দুজন প্রেসিডেন্টে অভিশংসিত হয়েছিলেন। তাঁরা হলেন এন্ড্রু জনসন ও বিল ক্লিনটন। তবে সিনেটে তাঁরা দোষী প্রমাণিত হননি।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসনের দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। একটি হচ্ছে, অভিশংসন তদন্ত প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানানো, সাক্ষ্য দিতে তাঁর কর্মীদের বাধা দেওয়া এবং তথ্যপ্রমাণ ধামাচাপা দেওয়ার মাধ্যমে কংগ্রেসের কাজকে বাধাগ্রস্ত করা। অপরটি হচ্ছে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন ও তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের একটি গ্যাস কোম্পানির দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে ফোন করে চাপ দেওয়া।

সিনেটে রিপাবলিকান পার্টির আধিপত্য থাকায় সেখানে ট্রাম্প দোষী প্রমাণিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। গত সপ্তাহে রিপাবলিকান সিনেট নেতা মিচ ম্যাককনেল বলেছেন, সিনেটে ভোটের সময় প্রেসিডেন্ট টিমের সঙ্গে রিপাবলিকান সিনেটরদের পুরোপুরি সমন্বয় থাকবে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ডেমোক্র্যাটরা বলেছেন, সিনেটরদের নিরপেক্ষ জুরি হিসেবে ভূমিকা পালনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

গতকাল প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাট স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিতর্কের শুরু। তিনি বলেন, ‘জনগণের জন্য গণতন্ত্র রক্ষায় শত শত বছর ধরে আমেরিকানরা লড়াই করেছে, মৃত্যুবরণ করেছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় যে হোয়াইট হাউসের কর্মকাণ্ডের কারণে আমাদের প্রতিষ্ঠাতা পূর্বপুরুষের প্রজাতন্ত্র দর্শন হুমকির মুখে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা যদি এখনই কোনো ভূমিকা না রাখি, তাহলে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন থেকে বিচ্যুত হতে পারি। এটা খুবই দুঃখজনক যে প্রেসিডেন্টের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে অভিশংসন জরুরি হয়ে পড়েছে। তিনি আমাদের জন্য আর কোনো উপায় রাখেননি।’

বিতর্কে প্রতিনিধি পরিষদের বিচার বিভাগীয় কমিটির শীর্ষ রিপাবলিকান নেতা ডগ কলিন্স ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে অবৈধ তদন্ত পরিচালনার অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন, অনুমানের ওপর ভিত্তি করে এই অভিশংসনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত