রবিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

রাজাকারের তালিকা করতে গিয়ে আ.লীগই ফেঁসে গেছে: রিজভী

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, রাজাকারের তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ অন্যকে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেরাই ফেঁসে গেছে।

আজ বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন রিজভী।

বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, রাজাকারের তালিকা নিয়ে এখন এক মন্ত্রণালয় আরেক মন্ত্রণালয়ের ওপর দায় চাপাচ্ছে।

গত ১৫ ডিসেম্বর ‘একাত্তরের রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও স্বাধীনতাবিরোধী তালিকা প্রকাশ—প্রথম পর্ব’ শিরোনামে ১০ হাজার ৭৮৯ জনের নামের তালিকা প্রকাশ করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। তালিকার অসংগতি নিয়ে সারা দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। জীবন বাজি রেখে যাঁরা যুদ্ধে গিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই এখন রাজাকারের তালিকায় নিজেদের নাম দেখে ক্ষুব্ধ। আবার কুখ্যাত অনেক রাজাকারের নাম তালিকায় না থাকায় সারা দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

প্রথম ধাপের এ তালিকায় যুদ্ধাপরাধী হিসেবে সাজাপ্রাপ্ত মতিউর রহমান নিজামী, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, কাদের মোল্লা, মীর কাসেম আলী, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীদের নাম নেই। অথচ এখন পর্যন্ত অন্তত ১৭ জন মুক্তিযোদ্ধার নাম পাওয়া গেছে, যাঁরা রাজাকারের তালিকাভুক্ত হয়েছেন।

এর বাইরে আছে আওয়ামী লীগের বেশ কিছু নেতার নাম, যাঁদের অনেকে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে পরিচিত। নারী রাজাকার হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন ৩৮ জন। হিন্দুধর্মাবলম্বীর ৯২ জনের নামও এসেছে তালিকায়। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার, বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্যের নামও যুক্ত হয়েছে স্বাধীনতাবিরোধী হিসেবে।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করতে গিয়ে আরেক কেলেঙ্কারির জন্ম দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অন্যকে ফাঁসাতে গিয়ে এবার আওয়ামী লীগ নিজেরাই ফেঁসে গেছে। রাজাকারের তালিকায় দেখা যায়, অধিকাংশই আওয়ামী লীগের চিহ্নিত নেতা-কর্মী। এতে জনগণ বিস্মিত নয়, কারণ ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছিলেন কি না, এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। প্রকাশিত তালিকায় প্রমাণিত হয়েছে, জনগণের সেই আশঙ্কাই সত্যি হয়েছে।’

বেশি ভুল প্রমাণিত হলে তালিকা প্রত্যাহার করা হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘তালিকায় আওয়ামী লীগের চেহারা ফাঁস হয়ে যাওয়ায় তারা এখন নিজেরাই তর্কে লিপ্ত হয়েছে। প্রত্যাহারের কথা বলছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় একে অপরের ওপর দায় চাপাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেন, বিএনপির কারাবন্দী চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঠিক চিকিৎসা হচ্ছে না। চিকিৎসকেরা সরকারের নির্দেশে মেডিকেল রিপোর্ট তৈরি করেছে। তিনি খালেদা জিয়ার দ্রুত মুক্তির দাবি জানান।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত