রবিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

বিএনপিকে হেয় করতে রাজাকারদের এই তালিকা: মির্জা ফখরুল

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাজাকারদের তালিকা সম্পর্কে বলেছেন, এটা বিএনপিকে হেয় করতে করা হয়েছে। তিনি প্রকৃত তালিকা প্রকাশের দাবি জানান। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আজ সোমবার শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

গতকাল রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথি পর্যালোচনা করে প্রথম ধাপে ১০ হাজার ৭৮৯ জন রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। সে তালিকায় জিয়াউর রহমানের সময়কার মন্ত্রীসহ বিএনপির অনেকের নাম আছে—এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই সরকার নিজের রাজনৈতিক প্রয়োজনে হীন উদ্দেশ্য নিয়ে তালিকা তৈরি করেছে। আজকে বিএনপিকে হেয়প্রতিপন্ন করতে এই তালিকা প্রকাশ করেছে। তালিকা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিচার না করে এত দিন পর প্রকাশ করেছে, তা কতটুকু সঠিক হয়েছে, তা এখনেই বলা সম্ভব না।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই তালিকা করা হয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে। আমাদের দাবি হচ্ছে প্রকৃত তালিকা নির্ধারণ করা। সেটা একমাত্র মুক্তিযোদ্ধারাই করতে পারেন। জিয়াউর রহমানের দলই সেটা করতে পারে।’

বিজয় দিবসে শহীদদের শ্রদ্ধাভারে স্মরণ করছেন জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থার জন্য যুদ্ধ হয়েছিল। কিন্তু সেই চেতনা হরণ করে নেওয়া হয়েছে, গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা হয়েছে। মানুষের স্বপ্নগুলোকে ভেঙে ফেলা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করছে। এ ছাড়া জানান, তাঁরা এখানে শপথ নিয়েছেন জনগণকে সঙ্গে নিয়ে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার।

গণতন্ত্রের জন্য খালেদা জিয়ার আন্দোলন-সংগ্রামের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া দীর্ঘ ৯ বছর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই ও সংগ্রাম করেছিলেন। তিনি জনগণের ভোটে তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন। দুবার বিরোধীদলীয় নেত্রী ছিলেন। গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করতে গিয়ে আজ অন্যায় ও নির্মমভাবে তাকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, আমরা ৯ মাস যুদ্ধ করে আজকের এই দিনে একটি স্বাধীন ভূখন্ড পেয়েছিলাম। এই যুদ্ধের মূল চেতনা ছিল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা। কিন্তু দুর্ভাগ্যের কথা আজ ৪৯ বছর পরে এই দেশ সম্পূর্ণভাবে গণতন্ত্রবিহীন হয়ে পড়েছে। এই দেশে আজ মানুষের কোন অধিকার নেই, ঠোঁটের অধিকার নেই, কথা বলার অধিকার নেই। গণতান্ত্রিক অধিকারগুলো হরণ করা হয়েছে। এমনকি মানুষের ন্যূনতম মৌলিক অধিকারগুলোও আজ হরণ করা হয়েছে।
শ্রদ্ধা জানানোর অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেলসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত