শনিবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

প্রথম ধাপে ১০ হাজার ৭৮৯ জন রাজাকারের তালিকা প্রকাশ

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথি পর্যালোচনা করে প্রথম ধাপে ১০ হাজার ৭৮৯ জন রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এই তালিকা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। যাচাই-বাছাই করে ধাপে ধাপে আরও তালিকা প্রকাশ করা হবে। আজ রোববার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এসব কথা বলেন।

আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘যাঁরা ৭১ সালে রাজাকার, আলবদর, আল শামস বা স্বাধীনতাবিরোধী হিসেবে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছিলেন এবং যেসব পুরোনো নথি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংরক্ষিত ছিল, সেটুকু প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়া যেসব দালিলিক প্রমাণ পাওয়া যাবে, শুধু সেটুকু প্রকাশ করা হবে। কোনো তালিকা শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে প্রকাশ করা হবে না। অন্যায়ভাবে কেউ তালিকাভুক্ত হবে না।’

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ‘জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে রেকর্ডরুমের পুরোনো নথি চাওয়া হয়েছে। তাঁদের কোনো তালিকা প্রস্তুত করতে বলা হয়নি। শুধু রেকর্ডরুমে থাকা নথি পাঠাতে বলা হয়েছে। তবে, এ ক্ষেত্রে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যায়নি।’ আগামী জানুয়ারি মাসের মধ্যে যেসব রেকর্ড পাওয়া যাবে, সেগুলো মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর আহ্বান জানান মন্ত্রী।

আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘৭১ সালে যত গেজেট হয়েছিল, সেগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। ১৯৭১ সালে একটি তথাকথিত উপনির্বাচন হয়েছিল। সে নির্বাচনে কারা বিজয়ী হয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের কাছে সে তালিকা চাওয়া হয়েছে। কমিশন এখনো সেটি সরবরাহ করতে পারেনি।’

এক প্রশ্নের জবাবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, জাতি যদি প্রত্যাশা করে এবং সরকার যদি মনে করে, তবে এ তালিকা গেজেট করা হবে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সঙ্গে এই তালিকার সম্পর্ক নেই। ট্রাইব্যুনাল আছেন। যদি কেউ বাদী হয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনেন, তবে মামলা হবে। এ তালিকা করা হয়েছে, কারণ ৭১ সালে কার কী ভূমিকা ছিল, জাতির তা জানা প্রয়োজন।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ২ লাখ ১০-১২ হাজারের বেশি হবে না।

আগামী ২৬ মার্চ মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে জানান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী।

মন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে জানান, এটি আমাদের প্রস্তুত করা কোনো তালিকা নয়। সুতরাং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রেকর্ড অনুসারে যাদের তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে আমরা সেগুলো প্রকাশ করছি। পর্যায়ক্রমে আরও তালিকা প্রকাশ করা হবে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অঙ্গীকার করেছিলাম রাজাকারদের তালিকা প্রকাশ করব। দালিলিল প্রমাণের মাধ্যমে তাদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে যেগুলো উদ্ধার করতে পেরেছি সেই তালিকাটি আমরা প্রাথমিকভাবে প্রকাশ করতে পারছি। মহান জাতীয় সংসদে দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতির আলোকে আমরা প্রথম পর্যায়ের তালিকা প্রণয়ন করেছি।’

সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী জানান, ১৯৭১ সালে ১৯টি জেলা ছিল। ওই জেলার রেকর্ডরুমে যে সমস্ত দালিলিল প্রমাণ আছে সেগুলো দিয়ে সহায়তা করার জন্য জেলা প্রশাসকদের অনুরোধ জানিয়েছি। দুঃখজনক হলে আমরা আশানুরূপ সাড়া পাইনি। যেহেতু এটি ৪৮ বছরের পুরনো রেকর্ড, সেগুলো পেতে সময় লাগবে। তাই তাদের সময় দেওয়া বাঞ্ছনীয় বলে মনে করি। আজকে সংবাদ সম্মেলনের পর আবার জেলা প্রশাসকদের কাছে অনুরোধ জানানো হবে। তাদের এক দেড় মাস সময় দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করি।’

আ. ক. ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘একাত্তর সালে যে সব গেজেট হয়েছিল, আমরা সেগুলো উদ্ধার করার চেষ্টা করছি। ১৯৭১ সালের সমস্ত গেজেট তারা ঠিকমতো দিতে পারেনি। ১৯৭১ সালে একটি নির্বাচন হয়েছিল। ইয়াহিয়া খান সমস্ত আসন শূন্য ঘোষণা করে উপনির্বাচন করেছিল। ওই সময়ে যারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হয়েছিল আমরা সেই তালিকা নির্বাচন কমিশনে চেয়েছি। তারা এখনও সরবরাহ করতে পারেনি। সেই নির্বাচনে যারা এমপি হয়েছিল আমরা তাদের তালিকাও প্রকাশ করব। সেগুলো আমরা পাওয়ার অপেক্ষায় আছি।’

Print Friendly, PDF & Email

মতামত