বৃহস্পতিবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

ভারতের এনআরসি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি : মির্জা ফখরুল

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

ভারতের আসামে জাতীয় নাগরিক তালিকা (এনআরসি) বাংলাদেশের স্বাধীন, সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানানো শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এনআরসি নিয়ে বর্তমানে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তা শুধু বাংলাদেশেই নয় বরং পুরো উপমহাদেশেই অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করবে। সংঘাত তৈরি হবে। এটি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।’

তিনি বলেন, আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনা ছিল স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন বর্তমান অগণতান্ত্রিক সরকার ভেঙে খান-খান করে দিয়েছে। আমরা আজকে গণতন্ত্রহীন, জনগণের অধিকারবিহীন একটি অবস্থার মধ্যে বিরাজ করছি। তারা বাংলাদেশের সমস্ত অর্জন ধ্বংস করে ফেলেছে।

‘রাজনীতির যে মূল বিষয়গুলো ছিল, উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি, অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি, সে বিষয়গুলো ধ্বংস করে একটা সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য এ ধরনের প্রয়াস চালানো হচ্ছে।’ যোগ করেন ফখরুল।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের যিনি ঘোষণা দিয়েছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আজকে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি, বুদ্ধিজীবী যারা স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের কথা, স্বাধীনতা যুদ্ধের যিনি ঘোষণা দিয়েছেন তার সহধর্মিনী, তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীর হাতে নির্যাতিত হয়েছেন, নিগৃহীত হয়েছেন, বন্দি হয়েছেন, তাকে (খালেদা জিয়া) আজকে কারাগারে থাকতে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের যে চেতনা, আমাদের স্বাধীন স্বার্বভৌম বাংলাদেশ, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করবার যে স্বপ্ন, সেই স্বপ্ন বর্তমান অগণতান্ত্রিক সরকার আজকে ভেঙে খান খান করে দিয়েছে। তারা বাংলাদেশের অর্জনগুলোকে, জাতির অর্জনগুলোকে ধ্বংস করে ফেলেছে। আমরা আজকে একটা গণতন্ত্র বিহীন, জনগণের অধিকার বিহীন একটা অবস্থার মধ্যে বিরাজ করছি।’

বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘আজকে যখন আমাদের নেত্রী কারাগারে, যখন আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মী কারাগারে, মিথ্যা মামলায় আজকে গণতান্ত্রিক দলগুলোকে স্তব্দ করে দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে, বিএনপিকে যখন নির্মূল করার চেষ্টা হচ্ছে সেই সময়ে আজকে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন যেটা সমস্ত জাতির ঐক্য। আজকে সম্পূর্ণকে ঐক্যবদ্ধ করে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের সবাইকে সংগ্রাম করতে হবে।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘আজকে আমাদের এই দিনে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পথ অনুসরণ করে দেশের স্বাধীনতাকে স্বার্বভৌমত্ব রক্ষা করবার জন্যে, গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার জন্যে আমাদের সংগ্রামের আরও গতি বাড়াব, সংগ্রামকে আরও বেগবান করব। ইনশাআল্লাহ, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিজয় অর্জন করব।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ন-মহাসচিব খাইরুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান, বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেসউইং কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দিদারসহ অন্যরা।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত