শুক্রবার, ২৪শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং

জয়বাংলাকে জাতীয় স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করতে হাইকোর্টের আদেশ

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

মহানমুক্তি যুদ্ধের সময় ব্যবহৃত স্লোগান ‘জয়বাংলা’-কে জাতীয় স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) এ রায় দেওয়া হয়।

এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর মহানমুক্তি যুদ্ধের সময় ব্যবহৃত ‘জয়বাংলা’ কেন জাতীয় স্লোগান হিসেবে ঘোষণা করা হবে না- জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। এই রুলে মন্ত্রী পরিষদ সচিব, আইন সচিব ও শিক্ষা সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলেন হাইকোর্ট।

এ সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে সোমবার (০৪ ডিসেম্বর) বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

জয়বাংলাকে জাতীয় স্লোগান বা মোটো (মূলমন্ত্র) হিসেবে ঘোষণার নির্দেশনা চেয়ে রিট দায়ের করেন হাইকোর্টের আইনজীবী বশীর আহমেদ। পরে তিনি নিজেই শুনানি করেন। আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

বশীর আহমেদ জানান, আদালত আদেশের সময় বলেছেন, জয় বাংলা স্লোগানই ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। এই স্লোগান দিয়েই জনগণকে একত্র করা হয়েছিল। এ কারনেই আমরা পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করতে পেরেছি।’

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার বলেন, ১৬ ডিসেম্বর থেকে সব জাতীয় দিবস ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে সর্বস্তরে জাতীয় স্লোগান হিসেবে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ব্যবহার করা উচিত বলে অভিমত দিয়েছেন হাইকোর্ট।

‘জয় বাংলা’কে কেন জাতীয় স্লোগান হিসেবে ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে জারি করা রুলের পরবর্তী শুনানির জন্য ১৪ জানুয়ারি দিন ঠিক করেছেন।

এর আগে ২০১৭ সালের ৪ ডিসেম্বর ‘জয় বাংলা’ কে জাতীয় স্লোগান হিসেবে ঘোষণা করতে হাইকোর্টে রিট করেন আইনজীবী ড. বশির আহমেদ। পরদিন রিটের শুনানি নিয়ে রুল জারি করেন আদালত।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব ও শিক্ষা সচিবকে রুলের জবা দিতে বলা হয়। ওই রুলের ওপর বর্তমানে শুনানি চলছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার জানান, আদালতে এ বিষয়ে মতামত দেন আইনজীবী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, আবদুল মতিন খসরু ও এএম আমিন উদ্দিন। আবেদনের পক্ষে ছিলেন আবেদনকারী ড.বশির আহমেদ।

তিনি জানান, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আমাদের সাবমিশন ছিল সংবিধানের ৩ এবং ৪ অুনচ্ছেদে রাষ্ট্রভাষা বাংলা, রাষ্ট্রের প্রতীক, জাতীয় সঙ্গীত, জাতীয় পতাকা সব আছে, কিন্তু জাতীয় স্লোগান নেই। সংবিধানের ৫০(২) অনুচ্ছেদ, অনুসারে ৭ মার্চের ভাষণকে যেহেতু অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, রাষ্ট্রপক্ষ লিখিতভাবে আবেদনকারীর এ আবেদনকে সমর্থন করেছে।

আজকে শুনানি শেষে আদালত বলেছেন, সামনে ১৬ ডিসেম্বর আছে বা পরবর্তীতে যে কোনো জাতীয় দিবসে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রের শীর্য পর্যায় থেকে সর্বস্তরের দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে তাদের ভাষণ ও বক্তব্যের শেষে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে হবে।

পরে ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন সাংবাদিকদের বলেন,‘জয় বাংলা‘ ছিল আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল মন্ত্র। যে স্লোগান দিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করেছেন, জীবন দিয়েছেন, শহীদ হয়েছেন সেটাকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করে এটাকে জাতীয় স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করা হোক। অনেক দেশে এটা আছে। আমাদের আইনজীবী মহলেরও দাবি এটা নিয়ে কোনো বিরোধ নেই। জয় বাংলা স্লোগানকে সংবিধানে সন্নিবেশিত করে জাতীয় স্লোগান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য বলেছি।

আবদুল মতিন খসরু বলেন, ‘একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে দলমত নির্বেশেষে সবার হৃদয় উৎসারিত শব্দ ছিল জয় বাংলা। আমরা আশা করি, রিট আবেদনকারীর পক্ষে জয় বাংলার পক্ষে রায় দেবেন।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত