সোমবার, ২০শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং

‘অপরাধী হলে শাস্তি পেতেই হবে, এটাই সিদ্ধান্ত’

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

অপরাধীকে শাস্তি পেতে হবে এটাই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘মানবাধিকার রক্ষায় সব থেকে প্রয়োজন আইনের শাসন নিশ্চিত করা। অপরাধী যেই হোক তাকে শাস্তি পেতেই হবে; এটাই আমাদের সিদ্ধান্ত। আমরা সেইভাবে কাজ করে যাচ্ছি।’

মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে এক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা একদিকে যেমন মানবাধিকার সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিচ্ছি। পাশাপাশি মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি; এর বিরুদ্ধেও আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এগুলো সমাজকে নষ্ট করে, ধ্বংস করে। কাজেই সমাজ থেকে এই জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদক, দুর্নীতি; এটাও প্রতিরোধ করতে হবে। এজন্য জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।’

সম্প্রতি নারী নির্যাতনসহ চাঞ্চল্যকর কিছু ঘটনার বিচার দ্রুত কার্যকর করার জন্য বিচারবিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দ্রুত সেটার ব্যবস্থা নিয়েছি। আমাদের বিচার খুব স্বাধীনভাবে কাজ করে। সেই স্বাধীনতাও আমরা বিচার বিভাগকে নিশ্চিত করে দিয়েছি। মানুষ যেন ন্যায় বিচার পায় আমরা এইটুকুই চাই।

মানবাধিকার দিবসের প্রতিপাদ্য তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন হয়ে আমাদের নতুন প্রজন্ম গড়ে উঠবে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। তরুণরাই তো এদেশের আগামীর ভবিষ্যৎ। তারাই গড়ে তুলবে বাংলাদেশ এবং তারাই এই অভিযাত্রাকে আরও বেশি গতিবেগ এনে দেবে।

বাংলাদেশের মানুষের মানবাধিকার রক্ষার জন্য সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, অনেক হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার হচ্ছে। এখন মানুষ বিচার পাচ্ছে। কিন্তু ৭৫-এর পর আমার বিচার চাওয়ার অধিকার ছিল না। তিনি বলেন, যুদ্ধ করে যারা দেশ স্বাধীন করেছে, খুনিরা তাদেরকেই হত্যা করেছে। তাদের মধ্যে কোনো মানবাধিকার ছিল না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট একটি পরিবারের এতগুলো মানুষকে হত্যা করা হলো অথচ তার বিচার হলো না! ইনডেমনিটি (দায়মুক্তি) অধ্যাদেশ জারি করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বন্ধ করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে একসময় যারা দম্ভ করে বলেছিল, এই হত্যার বিচার কেউ করতে পারবে না, তাদের রক্ষা করেছিল জিয়াউর রহমান। জিয়া শুধু খুনিদের রক্ষাই করেনি, তাদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছে। জিয়া ও তার স্ত্রী খুনিদের রাষ্ট্রপতির পদে নির্বাচন করিয়েছে। ভোট চুরি করে তাদের বিরোধী দলের নেতার চেয়ারে বসানো হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘জিয়া ছিলেন বড় মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করার পর এ দেশে অনেক মানুষ তার স্বজন হত্যার বিচার পায়নি। যারা মুক্তিযুদ্ধ করে এ দেশ স্বাধীন করেছে, তাদের হত্যা করে রাজাকার, আলবদর, আলশামসদের রক্ষা করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগ এখন স্বাধীন। সম্প্রতি অনেকগুলো অপরাধের দ্রুত বিচার হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, দেশের তরুণরা মানুষের মানবাধিকার রক্ষা করবে। যারা মানবাধিকার লঙ্ঘন করবে তরুণরা তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাছিমা বেগমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আইন মন্ত্রী আনিসুল হক, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক ও মিয়া সেপ্পো। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের হাতে শুভেচ্ছা স্মারক ও উত্তরীয় পরিয়ে দেওয়া হয় এবং অতিথিদের হাতে আলোকচিত্র তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হয় অনুষ্ঠান।

‘মানবাধিকার সুরক্ষায় তারুণ্যের অভিযাত্রা’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব মানবাধিকার দিবস। এ উপলক্ষে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং হিউম্যান রাইটস প্রোগ্রাম- ইউএনডিপি’র সহায়তায় বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করেছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত