সোমবার, ২০শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং

ভিপি নুরকে পদত্যাগের আহ্বান রাব্বানীর

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে ‘আর্থিক ও নৈতিক স্খলন’র অভিযোগ তুলে তাকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন ছাত্র সংসদটির সাধারণ সম্পাদক (জিএস) গোলাম রাব্বানী।

রোববার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে ডাকসুর কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাব্বানী এ আহ্বান জানান।

ডাকসুর জিএস বলেন, আমরা ডাকসু পরিবার এই অপকর্মের দায়ভার নিতে চাই না। নুর যদি পদত্যাগ না করেন, তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে আহ্বান জানাই, যেন দ্রুত তাকে বহিষ্কার করে ডাকসুকে কলঙ্কমুক্ত করা হয়।

আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় ক’মাস আগে ডাকসুর জিএস রাব্বানীকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তখন কেন ডাকসুর জিএসের পদত্যাগ চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেননি ছাত্র সংসদটির নেতারা?-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে রাব্বানী বলেন, আমি নিজ সংগঠন থেকে অব্যাহতি নিয়েছি। আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হলেও আমি সংগঠনের স্বার্থে পদত্যাগ করেছি। আমার মত ভিপিও পদত্যাগ করুন, সেটি আমি চাই।

সম্প্রতি ডাকসুর ভিপি নুরের ফোনালাপ নিয়ে একাধিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়। ফোনালাপে নুরের তদবির ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য প্রকাশ হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় খবরে। তবে নুর দাবি করেন, ওই সংবাদমাধ্যমগুলো তার ফোনালাপের অংশবিশেষ তুলে ধরে খবর প্রচার করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। তিনি তিনটি সংবাদমাধ্যমকে এজন্য ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান, অন্যথায় আইনের আশ্রয় নেবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ডাকসুর সদস্য রাকিবুল হাসান রাকিব বলেন, ‘বিগত নয় মাসে ডাকসু ভিপির উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি কাজও সম্পন্ন হয়নি। ভিপি পদ ব্যবহার করে নুর নিজের রাজনৈতিক অভিলাষ পূরণের কাজ পুরো দমে করেছেন। বিভিন্ন ভবনে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রি অফিসে একাধিক টেন্ডারবাজি, তদবির বাণিজ্য, নিয়োগ ও বদলি ইত্যাদি কর্মকান্ডে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ‘সম্প্রতি দুইটি টেলিফোন ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার মাধ্যমে নুরের স্বরূপ সকলের সামনে উন্মোচিত হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে কাণ্ডজ্ঞান হারিয়ে অজ্ঞান হয়ে যাবার অভিনয় করতে করতে নুর যে টেন্ডারবাজি, তদবির বাণিজ্য, অনৈতিক লেনদেন ইত্যাদিতেও দক্ষতা অর্জন করেছেন তা ছাত্রসমাজের সামনে পরিষ্কার হয়েছে।’ সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রনেতারা বলেন, ‘নুরকে নিজের সকল অপকর্ম, ব্যর্থতা, অক্ষমতা স্বীকার করে ডাকসুর ভিপি পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে।’

ডাকসু এজিএস সাদ্দাম হোসেন বলেন, ডাকসুর ভিপি তার পদকে ব্যবহার করে মৌলবাদী ফায়দা নিচ্ছেন। বিভিন্ন জায়গায় টেন্ডারবাজি ও তদবির করে যাচ্ছেন। বনানীর অগ্নিকাণ্ডে সেলফি তুলেছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তিতে সোচ্চার তিনি, রেজিস্টার অফিসে একাধিক টেন্ডারবাজিতে জড়িত তিনি। নির্বাচনী ইশতেহারের কোনও কিছুই পূরণ করেননি তিনি। আমরা নুরের এসব কাজের নিন্দা জানাচ্ছি এবং অনতিবিলম্বে তার পদত্যাগ দাবি করছি।

সংবাদ সম্মেলনের ডাকসুর অন্য সদস্যরা দাবি করেন, ভিপি নুরের আন্টির সাথে যে ব্যবসার কথা হয়েছে তার সব বিবরণ তুলে ধরতে হবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সামনে। নিজের অক্ষমতার কথা স্বীকার করে পদত্যাগ করতে হবে তাকে।

পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নুরের কর্মকাণ্ড তদন্তেরও আহ্বান জানান ডাকসুর নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক সাদ বিন কাদের চৌধুরী, সাহিত্য সম্পাদক মাজহারুল কবির শয়ন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আসিফ তালুকদার, তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আরিফ ইবনে আলি, পরিবহন সম্পাদক শামস ই নোমান, সদস্য রকিবুল ইসলাম ঐতিহ্য, তিলোত্তমা সিকদার, তানভীর হাসান সৈকত, মাহমুদ হাসান।

ছাত্রলীগের দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে তাহলে আমি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করব। কিন্তু ছাত্রলীগৈর কথায় আমি পদত্যাগ করব না। আমি ছাত্রলীগের নিপীড়নের প্রতিবাদ করি বলে ছাত্রলীগ রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।’

Print Friendly, PDF & Email

মতামত