শুক্রবার, ৯ই জুলাই, ২০২০ ইং

খালেদা জিয়াকে বেঁচে থাকার সুযোগ দিন : মির্জা ফখরুল

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে জামিন না দিলে এদেশের মানুষের কাছে আওয়ামী লীগ ক্ষমার অযোগ্য হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক যৌথসভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

খালেদা জিয়াকে দেশপ্রেমিক ও গণতন্ত্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে তারা (আওয়ামী লীগ) যে জঘন্য একটি নাটক করছে এই নাটক বাদ দিয়ে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে ও পরবর্তীতে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যার অবদান সবচেয়ে বেশি তার জীবন রক্ষা করার জন্য দয়া করে তাকে জামিনে মুক্ত করুন। তাকে বেঁচে থাকার জন্য চিকিৎসার সুযোগ করে দিন। অন্যথায় এদেশের মানুষ কোনদিনই আপনাদের ক্ষমা করবে না। তখন আপনারাই ক্ষমার অযোগ্য হবেন।’

তিনি বলেন, ‘আজকে দেশে আইনের শাসন নেই। একটু দেওয়ালের লিখনগুলো পড়ুন, একটু মানুষের চোখের দিকে তাকান। প্রতিটি মানুষের এখন একটাই কনসার্ন বেগম জিয়াকে কেন ছাড়া হচ্ছে না।’

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভেঙে খান খান করেছে মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, আমরা রণাঙ্গনে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় দিবস অর্জন করেছিলাম। সেই দিনটি যথাযথভাবে পালন করছি শুরু থেকেই। কিন্তু আজকে একটি দল নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের মালিকানা মনে করে। স্বাধীনতার ৪৯ বছর পরও আমরা সত্যিকারের স্বাধীন বাংলাদেশ পাইনি। যারা নিজেদের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দাবি করে তাদের দ্বারা দেশের গণতন্ত্র বার বার নিহত হয়েছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ অতীতে বাকশাল কায়েমের মাধ্যমে দেশের চারটি বাদে সব গণমাধ্যম বন্ধ করে দিয়েছিল। আজকেও তারা ভিন্ন লেবাসে বাকশাল কায়েম করেছে। আজকে গণতন্ত্রের নেত্রী যিনি দীর্ঘ ৯ বছর সংগ্রাম করেছেন। আজও সংগ্রাম করছেন, সেই নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে বন্দি রেখেছে সরকার।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ক্ষমতাসীনরা সংবিধান সংশোধন করে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করতে সব আয়োজন চূড়ান্ত করেছে। শুধু দল ও ব্যক্তিকে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য স্বাধীনতার স্বপ্ন ভেঙে খান খান করে দিয়েছে। মানুষের ভোটাধিকার হরণ করে বাকস্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে।

ফখরুল বলেন, ক্ষমতাসীনরা ভয়ের পরিস্থিতি তৈরি করে দেশ শাসন করছে। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আবারও আগের অবস্থা ফিরে এসেছে। পুলিশ নেতাকর্মীদের হয়রানি করছে।

আপিল বিভাগে আইনজীবীদের হট্টগোল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে দখলদারিত্ব মন্ত্রিসভার সদস্যরা বেগম খালেদা জিয়ার জামিন প্রসঙ্গে উল্টাপাল্টা কথা বলছেন। অথচ ২০০৬ সালের নভেম্বরে আদালতে আওয়ামী লীগের আইনজীবীরা আন্দোলন করে ভাঙচুর করেছেন। আমাদের নেতা শাহজাহান ওমরের গাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছিল। প্রধান বিচারপতির এজলাস লন্ডভন্ড হয়েছিল। আদালত শুনানি স্থগিত করেছিলেন। আজকে এসব ইতিহাস মিডিয়া লিখতে ও বলতে পারে না। আসলে দেশে আইনের শাসন নেই।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে জঘন্য নাটক করছে সরকার। আমি বলব, দয়া করে নাটক বাদ দিয়ে দেশনেত্রীকে জামিন দিয়ে বেঁচে থাকার ব্যবস্থা করুন। না হলে দেশের মানুষ কখনই আপনাদের ক্ষমা করবে না। দেয়ালের লিখনের ভাষা পড়ুন। মানুষের মুখের ভাষা বুঝতে চেষ্টা করুন।

ফখরুল বলেন, আজকে সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। প্রত্যেকটি সূচক কমেছে। গার্মেন্ট শিল্প ধ্বংস। রফতানি কমেছে। দেশকে খালি কলসির দিকে নিয়ে গেছে সরকার। এখন দুর্বৃত্তদের কবলে দেশ। রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুট করে দেশকে ফোকলা করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, কানাডায় একটি পাড়া তৈরি হয়েছে যার নাম ‘বেগম পাড়া’। আসলে তারা জানে যে, তাদের পতন অনিবার্য। এ জন্যই টাকা পাচার করেছে। তবে মানুষ কিন্তু জেগে উঠেছে। আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়েই তারা বিজয় অর্জন করবে। বিজয়ের মাস উদযাপন আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ মাসের চেতনায় দানব সরকারকে হটিয়ে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও পতাকা রক্ষা করতে হবে। আসুন আমরা সেই শপথ নিই।

ভারতের নাগরিকপঞ্জি নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ভারতের মন্ত্রীরা বলছেন, যারা অমুসলিম না তাদের যাওয়ার জায়গা আছে। তারা শুধু অমুসলিমদের নাগরিকত্ব দেবে। অন্যদিকে আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, এটা নিয়ে উদ্বেগের কোনো বিষয় নেই। কিন্তু ভারত থেকে ইতোমধ্যে যারা বাংলাদেশে ঢুকেছে তাদের বিষয়ে কিছু বলছেন না। রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করতে পারেনি। পানি সমস্যার সমাধানসহ কোনোটির সমাধান হয়নি।

এর আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা মজিবুর রহমান সারোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, মীর সরফত আলী সপু, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, আব্দুল আউয়াল খান, কাজী আবুল বাশার, আকম মোজাম্মেল হক, মুক্তিযোদ্ধা দলের ইসতিয়াক আজিজ উলফাত, তাঁতী দলের আবুল কালাম আজাদ, মজিবুর রহমান, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসাইন, যুবদলের মামুন হাসান, মহিলা দলের হেলেন জেরিন খান, মৎস্যজীবী দলের আবদুর রহিম, জাসাসের হেলাল খানসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত