মঙ্গলবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

দাদার সঙ্গে রেডিওতে বাংলাদেশকে স্বীকৃতির ঘোষণা শুনি: ভারতীয় দূত

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে ভারতের স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণাটি দাদার সঙ্গে রেডিওতে শুনেছিলেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশ।

তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় একাত্তর সালের ৬ ডিসেম্বর ভারত সবার আগে বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। আমি তখন ছোট্ট একটি মেয়ে হিসেবে দাদার সঙ্গে রেডিওতে স্বীকৃতির এই ঘোষণা শুনি। ওই সময়ে ভারত সরকার নিজের সম্পদের ওপর চাপ নিয়েও বাংলাদেশের এককোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে বন্ধুরাষ্ট্রের পক্ষে ছিল।’

শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) বাংলাদেশকে ভারতের স্বীকৃতির ৪৮তম বার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। ‘মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান ও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক’ শীর্ষক আলোচনা সভাটি একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আয়োজনে জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে রীভা গাঙ্গুলি বলেন, একাত্তরে দুই দেশের যেমন সুসম্পর্ক ছিল, তা ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অনেক আগেই বলেছেন— সবার আগে প্রতিবেশী, আর বাংলাদেশ প্রতিবেশীদের মধ্যে প্রথম।

সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক ডেপুটি স্পিকার কর্নেল শওকত আলী, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি এবং লেখক ও সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, মানবাধিকার নেত্রী আরমা দত্ত এমপিসহ আরও অনেকে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, আজকের (৬ ডিসেম্বর) এই দিনটি নিঃসন্দেহে একইসঙ্গে বাংলাদেশ ও ভারতের জন্য একটি অত্যন্ত স্মরণীয় ও ঐতিহাসিক দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে ভারত। আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারত সরকার ও ভারতীয় জনগণের বহুমাত্রিক অবদানের বিস্তারিত আলোচনা ছাড়া বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অসম্পূর্ণ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা দুই বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে একইসঙ্গে রক্ত ঝরিয়েছি। মুক্তিযুদ্ধ ছিল জনযুদ্ধ। বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা, কৃষক-শ্রমিক, উকিল-মোক্তার, বুদ্ধিজীবী, যুবক-যুবতী, সব শ্রেণির জনগণ এ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। দেশের তিন কোটি লোক বাড়িছাড়া হয় এবং মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাংলাদেশের এককোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে এবং তাদের অস্ত্র সরবরাহের মাধ্যমে ভারত যে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে, পৃথিবীর ইতিহাসে তা তুলনাহীন। বাংলাদেশের বিপৎকালে ভারতের জনগণের সহানুভূতি ও আতিথেয়তা এ দেশের মানুষ সবসময়েই স্মরণ করবে। এছাড়াও, বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পক্ষে জনমত গঠনে ভারত সরকারের অপরিসীম অবদান কখনই ভোলার নয়। বাংলাদেশকে স্বাধীন করার জন্য ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর প্রায় ১৭,০০০ সদস্য শহিদ হয়েছেন এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন। আজ শ্রদ্ধাবনতচিত্তে মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় সশস্ত্রবাহিনীর সেসব শহীদ ও ভারতীয় জনগণের অপরিসীম অবদানের কথা স্মরণ করছি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সম্পর্কের শুরু থেকেই দুই দেশ অভিন্ন ইতিহাস, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বন্ধনে আবদ্ধ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সুসম্পর্কের শক্তিশালী বীজ বপন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় এ দুই দেশের বন্ধুত্ব, পারস্পরিক বিশ্বাস, আস্থা ও বোঝাপড়া বর্তমানে অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে দৃঢ়তর। বিগত এক দশকে আমাদের দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এক অনন্য উচ্চতায় আসীন হয়েছে, যাকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘সোনালি অধ্যায়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। আমরা আশাবাদী, আগামীতে আমাদের এ সম্পর্ক ক্রমান্বয়ে নিবিড়তর হবে। সেইসঙ্গে আমাদের দেশের জনগণের প্রত্যাশা, বন্ধুপ্রতিম ভারত এমন কিছু করবে না যাতে দুই দেশের জনগণের মধ্যে দুশ্চিন্তা বা আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। পরস্পর বন্ধুত্বের মাধ্যমেই বাংলাদেশ ভারত এগিয়ে যাবে, দুই দেশের জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত