বৃহস্পতিবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

দুমাসের শিশু থেকে ৯০ বছরের বৃদ্ধ কেউ নিরাপদে নেই: মির্জা ফখরুল

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

বাংলাদেশ সন্ত্রাসের জনপদে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, এদেশে দুই মাসের শিশু থেকে ৯০ বছরের বৃদ্ধ কেউ নিরাপদে নেই।

রোববার দুপুরে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ‘নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম’ এ সেমিনারের আয়োজন করে।

মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশে যারা দুর্বল—শারীরিকভাবে একটু নাজুক, তারা সবচেয়ে বেশি অনিরাপদে আছেন। এখানে দুমাসের শিশু থেকে শুরু করে ৯০ বছরের বৃদ্ধা অথবা তরুণ যুবক, ভাই-বাবা— কেউ নিরাপদে নেই। কারণ, বাংলাদেশ এখন সন্ত্রাসের জনপদ।

তিনি বলেন, ‘সারা বাংলাদেশে প্রতিদিনই নারী-শিশু এবং দুর্বলের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন চলছে। আওয়ামী লীগের সব চেয়ে বড় অপরাধ- তারা এই দেশ ও সমাজকে দ্বিধা-বিভক্ত করে ফেলেছে। সমাজকে পুরোপুরিভাবে দুষিত করে ফেলেছে। আজ সবখানে বিভক্তি এবং সেই বিভক্তিটা ভয়ংকরভাবে সমাজের মধ্যে বিস্তার লাভ করেছে। এখন কেউ ভয়ে-ত্রাসে কথাও বলতে চায় না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে অনেকেই হতাশার কথা বলেন। তবে হতাশাই শেষ কথা নয়। মনে রাখতে হবে অন্ধকারের পরেই আসবে নতুন ভোর। এ দানব সরকারকে সরাতে হলে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাস্তায় নামতে হবে। এটাই হচ্ছে একমাত্র পথ।’

আওয়ামী লীগের রোল মডেলের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখন যা দাঁড়িয়েছে তারা এখন সন্ত্রাসের রোল মডেল, ধর্ষণের রোল মডেল, তারা দুর্নীতির রোল মডেল। তারা হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করে দিচ্ছে।’

‘টাকা বানানো একটা রোগ’ প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সে রোগে তো আপনারাই বেশি আক্রান্ত। আপনার সোনার ছেলেদেরকে এখন ধরে ধরে আনছেন, বলার চেষ্টা করছেন যে তোমরা এখন ভালো হয়ে যাও।

ফখরুল বলেন, সমাজকে বিভক্ত করে ফেলা আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় অপরাধ। সমাজকে পুরোপুরিভাবে দূষিত করে ফেলেছে তারা। চারদিকে তাকালেই দেখা যাবে বিভক্তি। এ বিভক্তিটা ভয়ঙ্করভাবে সমাজের মধ্যে চলে গেছে। সেই ভয়ে, ত্রাসে কেউ কথাও বলতে চায় না।

নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের সভাপতি এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমানের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরীর সঞ্চালনায় সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন, ঢাবির সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দিন আহমেদ, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, প্রফেসর দিলারা চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুর রহমান প্রমুখ।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, স্থায়ী কমিটির সাদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান অ্যডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদীর লুনা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম, স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত