শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

আসামির মাথায় আইএসের টুপি

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

হলি আর্টিজান মামলার রায়ে আট আসামির মধ্যে সাতজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার পর সাড়ে ১২টার দিকে এজলাসকক্ষ থেকে আসামিদের একে একে আদালত চত্বরে প্রিজনভ্যানে নিয়ে আসেন পুলিশ সদস্যরা। এসময় প্রত্যেকে ছিলেন স্বাভাবিক, হাস্যোজ্জ্বল। তবে চোখে-মুখে ছিল আস্ফালন। তবে এসময়ে একজন আসামির মাথায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) এর একটি লোগো সম্বলিত একটি টুপি দেখা গেছে। যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে উপস্থিত সকলের মনে।

আসামিটি কোথায় পেলেন এই বিশেষ টুপি? সে প্রশ্ন সারাবাংলার পক্ষ থেকে করা হয়েছিলো রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌসুলি আবদুল্লাহ আবুকে। তিনি নিজেও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, কোথায় পেলেন আসামি এই টুপি!

যে আসামির কপালে টুপিটি পরা ছিলো তার নাম রকিবুল হাসান রিগান। জঙ্গিদের অস্ত্র প্রশিক্ষক বলেই তার সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করে তাকেও মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

টুপি কোথায় পেয়েছে রিগান তা জানেন না পুলিশেরও কেউ। টুপি পড়ার বিষয়টি উর্ধবতনদের জানানো হয়েছে বলে বলেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোয়েন্দা পুলিশের একজন সদস্য।

এসময় আসামিরা চিৎকার-চেঁচামেচি করে রায় মানি না, মানি না বলতে থাকে। প্রথমে বড় মিজানকে প্রিজনভ্যানে তোলা হয়। এসময় তাকে বেশ হাস্যোজ্জ্বল দেখা যায় এবং আল্লাহু আকবর বলতে বলতে প্রিজনভ্যানে ওঠেন তিনি।

প্রিজনভ্যানে ওঠার পরেও আল্লাহু আকবর ধ্বনি দিয়ে এ রায় না মানার কথা বলতে থাকেন তারা। এদের একজন আসলাম হোসেন ওরফে র‌্যাশ মাথায় আইএস’র কালো পতাকা বেঁধে আল্লাহু আকবর বলে চিৎকার করতে দেখা যায়। তিনি লিফটে ওঠার সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সামনেই আইএসের প্রতীক চিহ্নিত কালো টুপি পরেন। এজলাসেও তার মাথায় ছিল এ টুপি।

আসামি হাদিসুর রহমান সাগর প্রিজনভ্যান থেকে বলতে থাকেন, আমরা কিছু করিনি। আমাদের কেন ফাঁসি দেওয়া হলো?

রাশেদ বলেন, আমরা ফাঁসি ভয় পাই না। আমরা খেলাফত যোদ্ধা।

তারা উত্তেজিত হয়ে নানা ধরনের বক্তব্য দিতে থাকেন। সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে নানা ধরনের অকথ্য কথা বলতে থাকেন। সবাই ছিলেন হাস্যোজ্জ্বল। ফাঁসির আদেশ শোনার পরও কারও মধ্যে কোনোরকম ভীতি লক্ষ্য করা যায়নি।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের এমন আস্ফালনে আদালত প্রাঙ্গণে অনেকেই বেশ অবাক হন। তাদের এই চিৎকার চেঁচামেচির মধ্যেই আসামিদের বহনকারী প্রিজনভ্যান আদালত চত্বর ছেড়ে যায়।

আদালত চত্ত্বরে আইএসের পতাকা সরবরাহ করায় রাষ্ট্রপক্ষের অন্য আইনজীবীরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী আব্দুল্লাহ আবু প্রশ্ন করে বলেছেন, এই ঘটনা অভাবনীয়। আসামীরা আইএসের টুপি কোথায় পেল? আদালত চত্ত্বরে কারা তাদেরকে আইএসের পতাকা সরবরাহ করেছে?

তবে, এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা আসলে আমার জানার কথা নয়। তবে অবশ্যই বিষয়টির তদন্ত হওয়া উচিত। এই প্রেস কনফারেন্স শেষ করেই আমি এ বিষয়ে তদন্ত করতে বলব।’

২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে হামলা চালিয়ে বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে হত্যা করে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির (আত্মঘাতী) সদস্যরা। তাদের গুলিতে দুই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। পরে কমান্ডো অভিযানে নিহত হন পাঁচ জঙ্গি।

ওই ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গুলশান থানায় একটি মামলা করেন ওই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিপন কুমার দাস। পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের পরিদর্শক হুমায়ুন কবির মামলাটি তদন্ত করে ২০১৮ সালের ১ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।

একই বছরের ২৬ নভেম্বর অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান।

এক বছরের বিচারকালে মামলার মোট ২১১ জন সাক্ষীর ১১৩ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন। এরপর আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন এবং রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মাধ্যমে গত ১৭ নভেম্বর এ মামলার বিচারকাজ শেষ হয়। ওইদিনই আদালত রায় ঘোষণার জন্য ২৭ নভেম্বর দিন ধার্য করেন।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত