রবিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

রাস্তায় নামলে এতদিনে নেত্রীর মুক্তি হয়ে যেত: গয়েশ্বর

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আদালতের ওপর বিএনপি নেতাদের অতিমাত্রায় নির্ভরতার সমালোচনা করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেছেন, এক বছর ১০ মাস আদালতের রায়ের ওপর ভরসা না করে যদি আমরা রাস্তায় আন্দোলন করতাম, তাহলে এতদিনে নেত্রী মুক্তি পেয়ে যেতেন।

সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী প্রচার দল আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

গয়েশ্বর রায় বলেন, দেশের জনগণ যা কিছু পেয়েছে, আন্দোলন করেই পেয়েছে, আদালতের রায়ে পায়নি। দেশ স্বাধীন করা হয়েছে, সেটাও আন্দোলনের মাধ্যমে, যুদ্ধের মাধ্যমে হয়েছে, আদালতের রায়ে হয়নি। নেত্রীকে মুক্ত করতে হলে আন্দোলন করেই করতে হবে। আদালতের রায়ে হবে না।

৫৬ হাজার বর্গমাইলের মধ্যে জিয়া পরিবার বিস্তৃত মন্তব্য করে গয়েশ্বর বলেন, জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে, কিন্তু গণতন্ত্র আর ষড়যন্ত্র একসঙ্গে চলে না। গণতন্ত্র নেই সে কারণেই ষড়যন্ত্র।

তিনি বলেন, এই যে জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, তাহলে জিয়া পরিবারের সদস্য সংখ্যা কয়জন? বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান, আরাফাত রহমান কোকো (মারা গেছে) এবং তাদের সন্তানেরা এই কজন? জিয়া পরিবারের সদস্য সংখ্যা বাংলাদেশে কম হলেও ১৬ কোটি। এই ১৬ কোটি মানুষ বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইলের মধ্যে বিস্তৃত।

বিএনপির অন্যতম এই নীতি নির্ধারক বলেন, সরকার সবকিছুকে গুজব বলে চালিয়ে দিচ্ছে। পেঁয়াজের দাম আকাশচুম্বি, চালের দাম বৃদ্ধি, শিশু ধর্ষণ, ক্যাসিনোকাণ্ড, ব্যাংকের টাকা লুট- এসবই কি গুজব? এসব বুঝ দিয়ে আর কতদিন চলবে?

দেশে গণতন্ত্র নেই, আছে ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে গয়েশ্বর বলেন, সরকার ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে জিয়া পরিবারের ওপর। এ জিয়া পরিবারের সংখ্যা দেশে কম হলেও ১৬ কোটি। এ পরিবারের প্রতি ষড়যন্ত্র করা মানেই দেশের প্রতি, রাষ্ট্রের প্রতি ষড়যন্ত্র করা। আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, কিন্তু গণতন্ত্র পাইনি। আমাদের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার জরুরি। গণতন্ত্র নিয়ে যদি আমরা আন্দোলন করি, তাহলে আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে পারব।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মাহফুজ কবির। এতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত