শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

বাংলাদেশ এখন বিশ্ব দরবারে ‘সম্মানিত জাতি’: প্রধানমন্ত্রী

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

সারাবিশ্বের কাছে বাংলাদেশ এখন একটা সম্মানের দেশ। সম্মানিত জাতি হিসাবে অন্তত বাংলাদেশের অবস্থান তৈরি হয়েছে। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তারই পদাঙ্ক অনুসরণ করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) রাজধানীর সেনানিবাসের আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে ‘সশস্ত্র বাহিনী দিবস-২০১৯’ উপলক্ষ্যে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সশস্ত্র বাহিনী দিবসে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারদের এবং ২০১৮-২০১৯ সালের সশস্ত্র বাহিনীর শান্তিকালীন তিন বাহিনীর পদকপ্রাপ্ত সদস্যদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার নেতৃত্বে একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়সহ তার নেতৃত্বে স্বাধীনতার পর দেশ গঠনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে স্বাধীনতাযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাসহ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের অসামান্য অবদানের কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার কথা স্মরণ করে বলেন, তিনি এই দেশটাকে যখন উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। আমাদের প্রবৃদ্ধি ৭ ভাগ পর্যন্ত অর্জন করেছিলেন। সেই সময় জাতির পিতাকে ১৫ আগস্ট নির্মমভাবে স্বপরিবারে হত্যা করা হয়। যিনি এদেশের স্বাধীনতার জন্য নিজের জীবনের সবটুকু ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন। তাকেই এদেশে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল।

নির্মম ১৫ আগস্টের ভয়াবহতা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষ একটা শোক সইতে পারে না। আর আমি সব হারিয়ে; সেই হারাবার বেদনাকে সম্বল করে এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। যে বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করে বিশ্বে একটা সম্মান পেয়েছিল। কিন্তু ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যার পর যে দেশ সেই সম্মান হারিয়েছিল। সেই ইতিহাস আবার আমরা ফিরিয়ে আনতে পেরেছি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে পেরেছি।’

‘একাত্তর সালে যে সম্মান পেয়েছিল বাংলাদেশ ১৯৭৫ সালে সেই সম্মান ধুলায় লুন্ঠিত হয়েছিল। অন্তত আমি এইটুকু দাবি করতে পারি। এখন সারাবিশ্বের কাছে বাংলাদেশ একটা সম্মানের দেশ এবং সম্মানিত জাতি হিসাবে অন্তত আমরা আমাদের অবস্থানটা করে নিতে পেরেছি। জাতির পিতার আদর্শ বুকে ধারণ করে তারই পদাঙ্ক অনুসরণ করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি’। বলেন প্রধানমন্ত্রী।

‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, বাংলাদেশ বিশ্বের ক্ষুধামুক্ত দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হবে। আজকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছি। ইনশাল্লাহ, এই বাংলাদেশ জাতির পিতা যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, ক্ষুধামুক্ত দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। সেই বাংলাদেশই আমরা গড়ে তুলব। সেটাই আমাদের প্রত্যয়।’

এর কারণ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে এই স্বাধীনতা। এই স্বাধীনতা অর্জন করতে যেয়ে কত মানুষ স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে বেঁচে আছে। পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। জীবনটাকে উৎসর্গ করেছে। কাজেই এই ত্যাগ কখনও বৃথা যেতে পারে না। মাঝখানে হয়ত একটা সময় আমাদের একটা অন্ধকার যুগ ছিল। আজকে আমরা কাটিয়ে উঠেছি। আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, এগিয়ে যাব। এটাই হচ্ছে আমাদের কথা।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একটি স্মারক ক্রেস্ট উপহার দেন সেনাবাহিনী প্রধান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের (এএফডি) প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো.মাহফুজুর রহমান। এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, তিন বাহিনী প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও শহীদ এবং খেতাবপ্রাপ্ত সকল মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারবর্গ ও শান্তিকালীন সময়ে কৃতিত্বপূর্ণ কর্মকান্ডের স্বীকৃতি স্বরূপ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের আর্থিক সম্মাননা ও শুভেচ্ছা সম্মাননা দেওয়া হয়। দিবসটিতে সেনাবাহিনী প্রধানকে ‘বিশিষ্ট সেবা পদক’ এ ভূষিত করা হয়। এছাড়াও সেনাবাহিনীর আট জন নৌ বাহিনীর দুই জন, বিমান বাহিনীর তিনজন সর্বমোট ১৩ জন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যকে সেনা নৌ ও বিমান বাহিনীর পদকে ভূষিত করা হয়।

দিবসটিতে প্রধানমন্ত্রী খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের উত্তরাধিকারীদের আর্থিক সম্মানী ও শুভেচ্ছা উপহার প্রদান করেন। প্রথমে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সাত জন বীরশ্রেষ্ঠদের পরিবারবর্গের হাতে সম্মাননা তুলে দেন। এরপর একে একে বীর উত্তমসহ অন্যান্য বীরমুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারবর্গের হাতে সম্মাননা ও শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন।

প্রসঙ্গত, বিগত সময়ে সশস্ত্র বাহিনী দিবসকে ৬০ থেকে ৭০ জন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারীকে সংবর্ধনা জানানো হলেও ২০১৭ সাল হতে এই সংখ্যা বাড়িয়ে ১০১ জনে উন্নীত করা হয়েছে। একই সাথে খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারীদের সঙ্গে সহযোগী হিসাবে একজন নিকটাত্মীয়কে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

তার আগে সকালে সশস্ত্র বাহিনী দিবস-২০১৯ উপলক্ষ্যে ঢাকা সেনানিবাসের ‘শিখা অনির্বাণে’ বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার এর আগে, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে এসে পৌঁছলে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল আবু মোজাফ্ফর মহিউদ্দিন মোহাম্মাদ আওরঙ্গজেব চৌধুরী, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবত এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের (এএফডি) প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাহফুজুর রহমান প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।

শিখা অনির্বাণে শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শেষে প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে যান, যেখানে তিন বাহিনী প্রধানদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ১৯৭১ সালের এই দিনে সেনা, নৌ এবং বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী দখলদার পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত আক্রমণ শুরু করে। ফলে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় ত্বরান্বিত হয়। বাংলাদেশ স্বাধীনের পর এই দিনটি প্রতিবছর সশস্ত্র বাহিনী দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত