মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

‘অপপ্রচারে কান দেবেন না, এটা মোকাবিলা করেই চলতে হবে’

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

দেশবাসীকে অপপ্রচারে কান না দিতে অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘হঠাৎ পেঁয়াজ নাই, লবণ নাই, এটা নাই-সেটা নাই; নানা ধরনের কথা প্রচার হয় এবং এভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করে ফেলার চেষ্টা করা হয়, সেটাকে মোকাবিলা করেই আমাদের চলতে হবে।’

বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষ্যে সেনানিবাসে আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের এবং ২০১৮-২০১৯ সালের সশস্ত্র বাহিনীর শান্তিকালীন সেনা/নৌ/বিমান বাহিনী পদকপ্রাপ্ত সদস্যদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এসময় খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও সশস্ত্রবাহিনীর মৃত সদস্যদের পক্ষে তাদের পরিবারের সদস্যরা স্মারক গ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে বাংলাদেশ জাতির পিতা স্বপ্ন দেখেছিলেন, আমরা সেই স্বপ্ন পূরণ করে বাংলাদেশকে একটা ক্ষুধামুক্ত দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ হিসাবে গড়ে তুলব। সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা পরিকল্পনা প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।’

এসময় তার সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও লক্ষ্যমাত্রা হাতে নেওয়ার কথা তুলে ধরেন সরকার প্রধান।

তিনি বলেন, ‘মানুষকে একটু সুন্দরভাবে জীবন দেওয়া, এ দেশের একটি মানুষ না খেয়ে কষ্ট পাবে না; এটাই আমাদের লক্ষ্য। আজকে আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং উদ্বৃত্ত খাদ্যের দেশ। মাঝে মাঝে আমরা দেখি, অনেক সময় কিছু অপপ্রচার চালিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে। আমি সবাইকে একটি কথা বলব, এই অপপ্রচারে কান দেবেন না।’

‘এটা করবে আমি জানি, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু সেটাকে মোকাবিলা করেই আমাদের চলতে হবে। আমরা সেই ভাবেই চলছি,’ যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের বিভিন্ন মেয়াদে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা প্রতিটি মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের যথাযথ কাজ হাতে নিয়েছি এবং এটা আমরা অব্যাহত রাখব।’

শেখ হাসিনা বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের সম্মানিত কাজেই তাদের সব রকম সহযোগিতা ও তাদের মর্যাদা দেওয়া হয়। এজন্য মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত স্থান, গণহত্যার স্থানগুলো সরকারের পক্ষ থেকে সংরক্ষণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা আপনাদের সামনে, ছেলেমেয়ে নাতিপুতি অথবা এলাকাবাসীর কাছে মুক্তিযুদ্ধের গল্প করবেন। আমরা প্রত্যেকটা উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স করে দিচ্ছি। যাতে ওই অঞ্চলে যে যুদ্ধ হয়েছে, সেই স্মৃতিচিহ্নগুলো যেন থাকে। আমাদের দেশের প্রজন্মের পর প্রজম্মের ছেলেমেয়েরা যেন সেটা জানতে পারে। কারণ মুক্তিযুদ্ধে আমরা বিজয় অর্জন করেছি। আমরা বিজয়ী জাতি। বিজয়ী জাতি হিসাবে আমাদের ইতিহাস যেন প্রজন্মের পর প্রজন্ম জানতে পারে। বাঙালি কখনো পরাজিত হতে পারে না এবং জাতির পিতা তার ৭ই মার্চের ভাষণে বলেগিয়েছেন কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না। তাই বাঙালি জাতিকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারে নাই, পারবে না।’

‘কাজেই সেই বিজয়ের ইতিহাস আমাদের নতুন প্রজন্ম যারা আসবে, তারা জানবে। সেই ভাবে তারাও বিজয়ী জাতি হিসাবে নিজেদের আত্মমর্যাদাবোধ গড়ে উঠবে। মাথা উঁচু করে তারা চলতে শিখবে। কারো কাছে হাত পেতে নয়। আমরা আমাদের নিজেদের সম্পদ দিয়ে নিজেদেরকে গড়ে তুলব। এবং বিশ্বসভায় আমরা সম্মানের সাথে মাথা উঁচু করে চলব। কারণ আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী জাতি। এই কথাটা সবসময় আমাদের মনে রাখতে হবে। সেইভাবেই আমরা দেশকে গড়তে চাই। আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও সেইভাবে গর্বিত জাতি হিসাবে গড়ে তুলতে চাই।’

মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কাজেই আপনাদের কাছে আমাদের অুনরোধ থাকবে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসগুলি আপনারা আপনাদের এলাকার ছেলেমেয়েদের কাছে জানাবেন, যেন তারাই এই গর্বে গর্বিত হয়ে নিজের দেশকে যেন গড়ে তুলতে পারে।’

Print Friendly, PDF & Email

মতামত