রবিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

জনগণকে দুর্ভোগে ফেলবেন না প্লিজ: কাদের

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

সড়ক পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের উদ্দেশ করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আপনারা জনগণকে শাস্তি দেবেন না। শাস্তির ভয়ে জনগণকে শাস্তি দেবেন না। জনগণকে দুর্ভোগে ফেলবেন না প্লিজ।’

মন্ত্রী আজ বুধবার দুপুরে নোয়াখালীর শহীদ ভুলু ষ্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই আহ্বান জানান।

নতুন সড়ক পরিবহন আইন সংস্কারের দাবিতে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে আজ যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ থাকায় এসব অঞ্চলের যাত্রীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

তবে এই সংকট কাটবে বলে আশা প্রকাশ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পরিবহন মালিকদের সঙ্গে আজকে আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠক করছেন। আশা করি, আলোচনার পর তাঁরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করবেন।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা সড়কে শৃঙ্খলার জন্য আইন করেছি। কাউকে জেল-জরিমানা দিতে নয়, শাস্তি দিতে নয়। সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলার জন্য সবাই আইন মেলে চলবেন।’

ওবায়দুল কাদের এ সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সমালোচনা করে বলেন, ‘টেলিভিশনে দেখলাম পরিবহনশ্রমিকদের দাবি–দাওয়া নিয়ে তাঁরা যে কর্মবিরতি করছেন, সেখানেও বিএনপি নতুন সড়ক পরিবহন আইনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। উদ্দেশ্য, যদি শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে এখান থেকে কোনো সুযোগ পাওয়া যায়।’ তিনি বলেন, ‘ফখরুল সাহেব ধীরে আরও ধীরে। উসকানি দিয়ে লাভ হবে না।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এই নোয়াখালী নিয়ে একসময় বিএনপি গর্ব করত। বলত ১০০ বছরেও এখানে আওয়ামী লীগ আসবে না। কিন্তু সেই নোয়াখালী এখন আওয়ামী লীগের ঘাঁটি। নেতিবাচক রাজনীতির জন্য বিএনপি তাদের সব ঘাঁটি একে একে হারিয়েছে। এর মধ্যে নোয়াখালীও একটি।’

কাদের বলেন, ‘তাঁরা আন্দোলনে ব্যর্থ, নির্বাচনে ব্যর্থ। তাঁদের আছে প্রেস ব্রিফিং, গলাবাজি, মিথ্যাচার, ষড়যন্ত্র। ওপার থেকে বসে বসে হাওয়া ভবনের যুবরাজ ষড়যন্ত্রের নাটাই ঘোরায়। আমরা সব জানি। ষড়যন্ত্র কোথায় থেকে আসে।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি এখন ইস্যু খুঁজে বেড়ায়। পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি। সেখান থেকে ইস্যু। কি লাভ হয়েছে? পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। খেতের পেঁয়াজও কিছুদিনের মধ্যে বাজারে আসবে। বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে। কিছু লোক দাম বাড়িয়েছে, সিন্ডিকেট করেছে। এই সিন্ডিকেটের পেছনে বিএনপির উসকানি রয়েছে। তিনি বলেন, ‘পেঁয়াজের পর গুজব ছড়ানো হলো লবণ নিয়ে। দেশের প্রয়োজন দেড় লাখ টন। সরকারের কাছেই মজুত আছে ৬ লাখ টন। হঠাৎ করে গতকাল ফেসবুকে এলো লবণ নেই। লবণের সংকট। এরপর জানা গেল সব ভুয়া।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপিই হচ্ছে ভুয়া পার্টি। নালিশ পাটি। বাংলাদেশ নালিশ পার্টি। দেশে ব্যর্থ, জনগণ সাড়া দেয় না; এখন বিদেশিদের কাছে নালিশ করে। কিন্তু বিদেশিদের কাছে নালিশ করে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনাকে হটানো যাবে না। আমাদের শক্তির উৎস বাংলাদেশের জনগণ। কোনো বিদেশি শক্তি নয়।’ তিনি বলেন, ‘কথায় কথায় ভারত। ভারতের আনুগত্য লাভের জন্য প্রতি ইলেকশনের আগে কলকাতায়, দিল্লিতে ঘুরে বেড়ান তাঁরা। আমরা ভারতের আনুগত্য চাই না। বন্ধুত্ব চাই না।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘চুক্তি আর সমঝোতা স্মারকের মধ্যে পার্থক্য তারা জানে না। সমঝোতা স্মারককে তারা বলছে আমরা চুক্তি করেছি। ফখরুল সাহেব পড়াশোনা কী করেন না। ইচ্ছে করে এসব বলছেন? একটা চুক্তিও এই সফরে হয়নি। চারটি এম ও ইউ স্বাক্ষর হয়েছে, তিনটি উদ্বোধন হয়েছে। কোনো চুক্তি হয়নি। অথচ চুক্তি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অফিসে স্মারকলিপি দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এখন গুজবের দল হয়ে গেছে বিএনপি। তারা ফেসবুকে গুজব ছড়ায়। সর্বশেষ চালের বাজারে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। অথচ আমাদের মজুতও আছে ১৪ লাখ মেট্রিক টন। যখন আমরা কিছুদিন ধরে ভাবছিলাম উদ্বৃত্ত চাল বিদেশে রপ্তানি করব। আমরা বাজার খুঁজে বেড়াচ্ছি। সেখানে চালের বাজার অস্থিতিশীল করার জন্য গুজব ছড়ানো হচ্ছে।’

সম্মেলনের প্রথম পর্বে সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ এইচ এম খায়রুল আনম চৌধুরী। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম, প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল ও সাংসদ মির্জা আজম।

এ ছাড়া অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরী, সাংসদ মোরশেদ আলম, সাংসদ আয়েশা ফেরদাউস, সাংসদ মামুনুর রশীদ কিরণ, সাংসদ এ এইচ এম ইব্রাহিম, ফেনীর সাংসদ নিজাম হাজারী, লক্ষ্মীপুরের সাংসদ এ কে এম শাহজাহান কামাল।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শিহাব উদ্দিন শাহীন ও শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ পিন্টু। সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতার পর ওবায়দুল কাদের আগামী তিন বছরের জন্য জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি এ এইচ এম খায়রুল আনম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সাংসদ মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরীকে পুনরায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করেন।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত