বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

অভিযোগ সংসদীয় কমিটিতে : এখনো ধরা ছোয়ার বাইরে জি কে শামীম ঘনিস্ট গণপূর্তের সেভেন স্টার প্রকৌশলী গ্রুপ

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

স্টাফ রিপোর্টার: টেন্ডারবাজি, অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসাসহ নানা অভিযোগে জি কে শামীম ও যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট গ্রেফতারের পর বেশ কয়েকজন প্রকৌশলীর ব্যাংক হিসাব তলব ও বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও এখনো ধরা ছোয়ার বাইরে রয়ে গেছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরে তাদের সহযোগী প্রকৌশলীরা। এই প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গণপূর্ত অধিদপ্তরে জি কে শামীমের সহযোগী হিসেবে সেভেন স্টার প্রকৌশলী গ্রুপ এর নামে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর তোলপাড় শুরু হয়। কিন্তুু কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারিরা। এবিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে গণপূর্ত মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির কাছে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের উদ্বৃতি দিয়ে অভিযোগে বলা হয় এই সেভেন স্টার প্রকৌশলী গ্রুপ বিভিন্ন সময়ে যুবলীগ নেতা জিকে শামীমকে বড় বড় প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দিতে সহায়তা করত। এর বিনিময়ে তারা পেতেন ১ থেকে ২ শতাংশের কমিশন। আর এসবই করতেন ঢাকায় বিভিন্ন জায়গায় কর্মরত সাত উপসহকারী প্রকৌশলী। যারা গণপূর্তের সবার কাছে সেভেন স্টার গ্রুপ নামে পরিচিতি লাভ করেছেন।

এই সেভেন স্টার গ্রুপের সদস্যরা হলেন জাতীয় সংসদে কর্মরত উপসহকারী প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম, মহাখালী গণপূর্তে কর্মরতহুমায়ুন কবির, নওশাদুল হক উপসহকারী প্রকৌশলী (ইএম) সার্কেল-৩, আতাউর রহমান ঢাকার শেরে বাংলানগরের গণপূর্তের বিভাগ-১ (সিভিল), মিজানুর রহমান প্রধান গণপূর্তের ইএম ডিভিশন-৪, আসাদুজ্জামান লিপটন বর্তমানে মিরপুরে কর্মরত।

জানা গেছে, এই সাত উপসহকারী প্রকৌশলীর রয়েছে নিজস্ব গাড়ি ও ফ্ল্যাট। তারা এতটাই প্রভাবশালী যে, কোন কর্মকর্তার বদলি কোথায় করা হবে তাও ঠিক করেন এবং সাবেক ও বর্তমান প্রধান প্রকৌশলীদের ম্যানেজ করে জিকে শামীম ও খালেদ ভূঁইয়াকে প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেওয়ার কাজটি করেন। এই গ্রুপের প্রধান ভূমিকা পালন করেন আমিনুল ইসলাম। তারা ঢাকায় গণপূর্তের উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর ধরে চাকরি করছেন। কোনোভাবেই তাদের বদলি করা যায় না। কারও অন্যত্র বদলি হলেও আবার ঢাকায় আসেন। কোনো অনুষ্ঠান হলেই এক রঙের পোশাক পরেন তারা। আবার ঢাকার বছিলা হাউজিংয়ে একই সঙ্গে প্লটও কিনেছেন। এই সাত কর্মকর্তার সঙ্গে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ঈসমাইল হোসেন সম্রাট ও জিকে শামীমের সঙ্গে রয়েছে বেশ সখ্য। যার প্রমাণ পাওয়া গেছে বিভিন্ন সময়ের ফটোসেশনের ছবিতে। এই সাত উপসহকারী প্রকৌশলী এমপি শাওন, যুবলীগ নেতা সম্রাটের প্রভাব খাটিয়ে পিডব্লিউডি ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতিও দখল করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

জাতীয় সংসদে গণপূর্ত বিভাগের ইএম ডিভিশন-৭-এ কর্মরত আমিনুল ইসলাম মূলত এই গ্রুপের প্রধান হয়ে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন। ছোট পদে চাকরি করলেও গ্রামে যান হেলিকপ্টারে করে। বেশিরভাগ সময় তিনি ওই এলাকার এমপিরও সফর সঙ্গী হয়েছেন। উপসহকারী প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির বর্তমানে ঢাকার মহাখালী গণপূর্তে কর্মরত।

অভিযোগ রয়েছে, মহাখালী ক্যানসার হাসপাতাল, গেস্ট্রোলিভার হাসপাতাল, বক্ষব্যাধি হাসপাতাল, যক্ষ্মা হাসপাতালসহ তার জোনে অন্তত ১০টি প্রকল্পের কাজ জিকে শামীমকে পাইয়ে দিতে সহযোগীতা করেছেন তিনি। এই কর্মকর্তা ঢাকায় প্রায় ১০ বছর ধরে কর্মরত। সম্প্রতি সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের কাজ পেয়েছিলেন ঠিকাদার জিকে শামীম। কিন্তু নিম্নমানের কাজ করার পর অভিযোগ উঠলেও সেই শামীমকে পুরো বিল দিয়েছেন এই হুমায়ুন। অথচ প্রকল্পটির দেখভালের দায়িত্ব ছিল তার। তিনি বিএনপির নেতা শাহাবুদ্দিন লাল্টুর ভাগনে হিসেবেও পরিচিত।

আতাউর রহমান কর্মরত ঢাকার শেরে বাংলানগরের গণপূর্তের বিভাগ-১ (সিভিল)-এ। তিনি পঙ্গু হাসপাতালের কাজের পুরো ফিল্ড তদারকির দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু তিনি ভালোভাবে কাজ না করায় সেই প্রকল্পের পিডি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিল এবং এ কাজের মান অত্যন্ত খারাপ হওয়ার পরও ঠিকাদার জিকে শামীমকে কাজের বিল দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সেভেন স্টার গ্রুপের ব্যাপারে আমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমের কাছে বলেন, ‘সেভেন স্টার গ্রুপ নামে কিছু নেই। পিডব্লিউডি ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতির নেতৃত্ব
নিয়ে দ্বন্দ্বের কারনে একটি পক্ষ তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে সুনাম নস্ট করছে। তারা ছোট চাকরি করেন। তাই কাউকে কাজ দেওয়ার ক্ষমতা তাদের নেই।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত