শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

তূর্ণা নিশীথার চালক ও গার্ড দায়ী: তদন্ত প্রতিবেদন

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মন্দবাগ স্টেশনে ট্রেন দুর্ঘটনায় বিভাগীয় পর্যায়ে গঠিত তদন্ত কমিটি আজ শুক্রবার বিকেলে প্রতিবেদন দাখিল করেছে। এতে তূর্ণা নিশীথার চালক ও গার্ডকে দায়ী করা হয়েছে বলে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একাধিক সদস্য জানিয়েছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার প্রতিবেদন দাখিলের কথা ছিল। কিন্তু একাধিক বিষয়ে তদন্ত কমিটির সদস্যরা একমত হতে পারেননি বলে একটি সূত্র জানায়। এ জন্য একদিন পিছিয়ে দিয়ে আজ দুপুরে তদন্ত কমিটির প্রধান ও পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা রেলের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকের মাধ্যমে মহাপরিচালকের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

তদন্ত কমিটির অন্তত দুজন সদস্য নামপ্রকাশ না করে জানান,কসবা উপজেলার মন্দবাগ স্টেশনে ট্রেন দুর্ঘটনার জন্য তূর্ণার লোকোমাস্টার (চালক) মো. তাছের উদ্দিন, সহকারী লোকোমাস্টার অপু দে এবং ট্রেনটির গার্ড আবদুর রহমানকে দায়ী করা হয়েছে। মন্দবাগ স্টেশনের বিপজ্জনক দুটি সংকেত অমান্য করে ট্রেন পার করার কারণে সোমবার রাতে মন্দবাগে দুর্ঘটনা ঘটে।

বিভাগীয় পর্যায়ের তদন্ত কমিটির প্রধান ও পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) মো. নাসির উদ্দিন জানান, শুক্রবার (আজ) দুপুরে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। মূল প্রতিবেদন ছয় পৃষ্ঠার বলে তিনি জানিয়েছেন। এই কমিটি দুর্ঘটনা কবলিত ট্রেনের লোকোমাস্টার (চালক), গার্ড ও স্টেশন মাস্টারসহ ১৭ জনের সাক্ষ্য নিয়েছে।

প্রতিবেদন একদিন দেরিতে দেওয়ার ব্যাপারে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ডিটিও মো. নাসির উদ্দিন জানান, কিছু বিষয়ে কমিটির সদস্যরা একমত হতে পারেননি। এ জন্য প্রতিবেদন দাখিল একদিন পিছিয়ে যায়।

বিভাগীয় পর্যায়ের তদন্ত কমিটির অন্য তিন সদস্য হলেন, চট্টগ্রামের বিভাগীয় প্রকৌশলী-১ মো. হামিদুর রহমান, বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী ফয়েজ আহামেদ ও বিভাগীয় টেলিসংকেত প্রকৌশলী (ডিএসটিই) মো. জাহেদ আরেফিন পাটোয়ারী তন্ময়।

বিভাগীয় টেলিসংকেত প্রকৌশলী জাহেদ আরেফিন পাটোয়ারী তন্ময় কিছু মতভিন্নতা সৃষ্টি হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তূর্ণার চালক ও গার্ডকে দায়ী করার ব্যাপারে তিনি ইঙ্গিত দেন।

গত সোমবার দিবাগত রাত পৌনে তিনটার দিকে কসবার মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনের আউটারে (বহিঃঅংশে) চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্তনগর তূর্ণা নিশীথা এবং সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেসের সংঘর্ষ হয়। উদয়নের মাঝামাঝি তিনটি বগিতে সজোরে ঢুকে যায় তূর্ণা নিশীথা। এতে ১৬ জন যাত্রী নিহত এবং শতাধিক যাত্রী আহত হন। এ ঘটনায় রেল মন্ত্রণালয়, রেল ভবন ও বিভাগীয় রেলওয়ে কার্যালয় চারটি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের একটিসহ মোট পাঁচটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

মূল কমিটির প্রতিবেদন সোমবার:
রেলওয়ে সূত্র জানায়, পূর্বাঞ্চলের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তার (সিওপিএস) নেতৃত্বাধীন মূল কমিটি তদন্তকাজ শেষ করতে পারেনি। নিখুঁতভাবে প্রতিবেদন তৈরি এবং দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে এই কমিটি আরও দুই থেকে তিনদিন সময় চেয়েছে। আগামী রোববার বা সোমবার মূল কমিটির প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন পূর্বাঞ্চলের সিওপিএস মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম।

তদন্ত কমিটি সূত্র জানায়, পূর্বাঞ্চলের সিওপিএসের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের কমিটি লোকোমাস্টার, স্টেশন মাস্টার, গার্ড এবং প্রত্যক্ষদর্শীসহ ৪১ জনের সাক্ষ্য নিয়েছেন। পূর্বাঞ্চলের প্রধান দপ্তর সিআরবিতে বুধবার দিনভর তাঁদের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। এই কমিটির অন্য তিনজন সদস্য হলেন, পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী, প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী ও প্রধান সংকেত প্রকৌশলী।

পূর্বাঞ্চলের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওপিএস) মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম বলেন, সোমবারের আগে প্রতিবেদন দাখিল করা সম্ভব হচ্ছে না। একটা বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। কেন এই দুর্ঘটনা এবং কে দায়ী তা চিহ্নিত করতে একটু সময় লাগছে।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত