শুক্রবার, ১লা অক্টোবর, ২০২০ ইং

উদয়নের বগিতে ঢুকে যায় তূর্ণা নিশীথা, নিহত ১৬

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মন্দভাগ রেলওয়ে স্টেশনে গতকাল সোমবার রাত তিনটার দিকে বড় ধরনের দুর্ঘটনায় পড়ে দুটি ট্রেন। রেলওয়ে স্টেশন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছে, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী আন্তনগর তূর্ণা নিশীথা সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী আন্তনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের মাঝামাঝি বগিতে ঢুকে পড়লে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় ১৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়াত উদ দৌলা খান জানিয়েছেন।

রেলওয়ে স্টেশন, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তূর্ণা নিশীথা গতকাল রাত ২টা ৪৮ মিনিটে শশীদল রেলওয়ে স্টেশন অতিক্রম করে মন্দভাগ রেলওয়ে স্টেশনের দিকে যাত্রা করে। ট্রেনটিকে আউটারে থামার জন্য সংকেত দেওয়া হয়। আর উদয়ন এক্সপ্রেস কসবা রেলওয়ে স্টেশন ছেড়ে মন্দভাগ রেলওয়ে স্টেশনে প্রবেশ করার পথে ট্রেনটিকে মেইন লাইন ছেড়ে ১ নম্বর লাইনে আসার সংকেত দেওয়া হয়। উদয়নের ছয়টি বগি প্রধান লাইনে থাকতেই তূর্ণা নিশীথার চালক সিগন্যাল অমান্য করে ট্রেনটির মাঝামাঝি ঢুকে পড়ে। এতে উদয়নের তিনটি বগি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

মন্দভাগ রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার মো. জাকের হোসেন চৌধুরী বলেন, তূর্ণা নিশীথা সিগন্যাল অমান্য করায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়াত উদ দৌলা খান বলেন, এই দুর্ঘটনায় ১৬ জন মারা গেছেন। নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার মদনপুর গ্রামের আইয়ুব হোসেনের ছেলে আল-আমিন (২৮), চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার মজিবুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী কুলসুম বেগম, হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার বড়বাজার এলাকার সোহেল মিয়ার দুই বছর বয়সী মেয়ে আদিবা আক্তার এবং একই এলাকার হাসান মিয়ার ছেলে আলী মো. ইউসুফ।

এই দুর্ঘটনায় শতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পর থেকেই ঢাকা-চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম-সিলেট, নোয়াখালী-ঢাকা, নোয়াখালী-সিলেট রেলপথে সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ আছে। ট্রেন দুর্ঘটনায় উদ্ধার কাজ শুরু করে কসবা, আখাউড়া ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট, কসবা থানা, আখাউড়া রেলওয়ে পুলিশ, বিজিবি। ভোর সাড়ে ৫টায় উদয়ন ট্রেনের ছয়টি বগি ফেলে দিয়ে ট্রেনটি মন্দভাগ রেলওয়ে স্টেশন ছেড়ে যায়। আখাউড়া ও লাকসাম রেলজংশন থেকে দুটি রিলিফ ট্রেন দুর্ঘটনা কবলিত ট্রেন দুটি উদ্ধারে কাজ করছে।

খবর পেয়ে রাত সাড়ে তিনটার দিকে কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদ উল আলম ঘটনাস্থলে যান। রাতেই ঘটনাস্থলে যান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়াত উদ দৌল্লা খান ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মোফাজ্জল করিম ও রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. সামসুজ্জামান। রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত