মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল, নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন শেখ হাসিনা: তথ্যমন্ত্রী

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি বলেছে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি যথেষ্ট নয়। অথচ ব্যাপক ও পর্যাপ্ত প্রস্তুতির ফলে আমাদের প্রাণ ও সম্পদ উভয় ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবিলা পর্যবেক্ষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন।

আজ রোববার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ১০ নভেম্বর শহীদ নূর হোসেন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন হাছান মাহমুদ। শহীদ নূর হোসেন সংসদ এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলার প্রস্তুতি ও পরবর্তী করণীয় বিষয়ে বারবার নির্দেশনা দিয়েছেন, নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন। আর যে বিএনপি আমাদের সরকারের প্রস্তুতিকে অপর্যাপ্ত বলছে, তাদের নেত্রীর প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, তাদের সময় ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর মানুষের লাশ পানিতে ভেসেছে, পুরো চট্টগ্রামে লাশের গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছিল।’

আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি বলেছে, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি নাকি যথেষ্ট নয়। অথচ ব্যাপক ও পর্যাপ্ত প্রস্তুতির ফলে আমাদের প্রাণ ও সম্পদ উভয়ই ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। আমি তাদের বলব নিজের চেহারাটা আয়নায় দেখতে। কারণ, তাদের সময়ে ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে লাখ লাখ প্রাণহানি ও ব্যাপক সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।’ তিনি বলেন, সে সময়ে বিমানবাহিনীর ৩৫টির বেশি যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল শুধু ব্যবস্থাপনার ত্রুটিতে, কারণ বিমান তো উড়িয়েই অন্যত্র নেওয়া যেত। বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারগুলো চলে এসেছিল রাস্তায়।

এ দেশের মানুষের প্রতি বঙ্গবন্ধুকন্যার গভীর মমতার কথা উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যাঁর রক্ত–ধমনিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর রক্তস্রোত প্রবহমান, তিনি বারবার মৃত্যু উপত্যকা থেকে ফিরে এসে দেশ ও মানুষের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছেন, মেহনতি মানুষের জীবনের উন্নয়ন ঘটিয়েছেন। সে কারণেই শেখ হাসিনার অপর নাম গণতন্ত্র, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর দেশ ও জাতির উন্নয়ন।

নূর হোসেন সম্পর্কে তথ্যমন্ত্রী বলেন, নূর হোসেন ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের রক্ত বৃথা যায়নি। তাঁদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেই সঙ্গে এ দেশের মানুষ ভাত ও ভোটের অধিকার পেয়েছে। এর পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় হাছান মাহমুদ সবাইকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর শুভেচ্ছা জানান।

শহীদ নূর হোসেন দিবস উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি তছলিম আহম্মেদের সভাপতিত্বে সভায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, সহসভাপতি সাংসদ নূরুল আমিন রুহুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ মান্নান কচি, প্রচার সম্পাদক আকতার হোসেন, শহীদ নূর হোসেনের বড় ভাই মোহাম্মদ আলী হোসেন, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার প্রমুখ বক্তব্য দেন।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত