মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ কেড়ে নিল ৫ প্রাণ

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

প্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে গাছ চাপা পড়ে দুই জেলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া বরগুনায় আশ্রয়কেন্দ্রে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও দুইজনের। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে চার জেলায় বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ৯ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬ জন হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল’র প্রভাবে দমকা হাওয়ায় গাছ চাপা পড়ে খুলনা ও পটুয়াখালীতে তিন জন মারা গেছে। এছাড়াও বরগুনার ভানাই সদরের একটি আশ্রয় কেন্দ্রে ৭০ বছর বয়ষ্ক একজন মারা গেছেন।

খুলনার দাকোপ ও দিঘলিয়া উপজেলায় গাছচাপা পড়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এরা হলেন— প্রমিলা মণ্ডল (৫২) ও আলমগীর হোসেন (৩২)।

রোববার (১০ নভেম্বর) সকালে উপজেলার দক্ষিণ দাকোপ গ্রামে গাছচাপা পড়ে মারা যান প্রমিলা মণ্ডল। তিনি প্রমিলা ওই গ্রামের সুভাষ মণ্ডলের স্ত্রী। দাকোপ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আবদুল ওয়াদুদ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, রাতে প্রমিলা মণ্ডল দক্ষিণ দাকোপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র ছিলেন। সকালে তিনি বের হয়ে দেখেতে যান তার ঘরের কী অবস্থা। তখনো দমকা বাতাস বয়ে যাচ্ছিল। একটি গাছ ভেঙে তার মাথায় পড়লে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

এদিকে দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি ইউনিয়নে আলমগীর হোসেন (৩২) নামে আরেক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। খুলনার জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আজিজুল হক জোয়ার্দার জানিয়েছেন, আলমগীর গাছচাপা পড়ে মারা গেছেন।

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় ঘরচাপা পড়ে হামেদ ফকির (৬৫) নামে এক ব্যক্তি মারা গেছেন। ভোর রাতে উপজেলার উত্তর রামপুরা গ্রা‌মে এ ঘটনা ঘটে। মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আনোয়ার তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দমকা বাতাসে তার ঘরের ওপর একটি রেইন্ট্রি ও একটি চাম্বল গাছ ভেঙে পড়লে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত হামেদ ফকিরের বয়স ৬৫ বছর। পেশায় তিনি ছিলেন একজন মৎস্যজীবী।

আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফেরার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় আবুল কালাম (৬০) নামে এক বৃদ্ধ মারা গেছেন। সকাল ১১টায় উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।

আবুল কালামের বাড়ি গাবুরা ইউনিয়নের চকবারা গ্রামে। তার বাবা মৃত আজিজ সরদার। গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম জানান, রাতে আবুল কালাম গাবুরা আশ্রয়কেন্দ্রে ছিলেন। সকালে বাড়ি ফিরে যাওয়ার সময় তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

এদিকে বরগুনা সদর উপজেলার ডিএল কলেজ আশ্রয়কেন্দ্রে অসুস্থ হয়ে হালিমা খাতুন নামে (৭০) এক বৃদ্ধা মারা গেছেন। বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আনিচুর রহমান বলেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি মারা গেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়শা আক্তার জানান, উপকূলীয় জেলাগুলো খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। সব জেলা থেকে এখনো তথ্য আসেনি।

এদিকে সচিবালয়ে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে ক্ষয়-ক্ষতির প্রসঙ্গে কথা বলেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান। সকালে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে আমরা দুইজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। উপকূলীয় ১৪ জেলার অন্তত ৫ হাজার ঘর-বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কৃষির তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, পটুয়াখালী জেলায় আমন ধানের উৎপাদন বেশি হয়। আমন পানি সহনীয় ফসল বলে ক্ষতি পরিমাণ নির্ধারণ করা যায়নি। তবে শীতের সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঝড়-বৃষ্টি কমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে তথ্য সংগ্রহ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে বৈঠক করে পুর্নবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত