শুক্রবার, ১লা অক্টোবর, ২০২০ ইং

জাবিতে অভিযোগ প্রমাণ করুন, অন্যথায় শাস্তি: প্রধানমন্ত্রী

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

দুর্নীতির অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণের দাবিতে আন্দোলন চলছে। এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হলে অভিযোগকারীদের শাস্তি পেতে হবে। মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপনের কারণে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুর্নীতির অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণের দাবিতে আন্দোলন চলছে। এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হলে অভিযোগকারীদের শাস্তি পেতে হবে। মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপনের কারণে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আজ বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সাংবাদিকদের পরিবারের পাশাপাশি অসুস্থ, আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও আহত সাংবাদিকদের বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যদি তাঁরা (আন্দোলনকারীরা) অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন, তবে তাঁরা অসত্য অভিযোগ উত্থাপনের জন্য শাস্তি পাবেন…আমরা অবশ্যই এটি করব। কারণ, দিনের পর দিন ক্লাস বন্ধ রাখা সহ্য করা হবে না।’

শেখ হাসিনা বলেন, তিনি ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অভিযোগকারীদের সমস্ত অভিযোগ, বক্তব্য এবং ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণে রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন।

অভিযোগকারীদের অবশ্যই অভিযোগের প্রমাণ দিতে হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যদি কেউ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়, তবে অভিযোগকারীকে একই ধরনের শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে; যেহেতু আইনেই এটা বলা আছে। তারা মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা এ–জাতীয় পদক্ষেপ নেব। আমি এটি পরিষ্কারভাবে জানিয়েছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাঁরা উপাচার্যকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলছেন। আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই যে যাঁরা দুর্নীতির অভিযোগ আনছেন, তাঁদের এই অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে এবং অভিযোগের সপক্ষে তথ্য সরবরাহ করতে হবে। যদি তাঁরা তথ্য সরবরাহ করতে পারেন, তবে আমরা অবশ্যই দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্দোলনের নামে উপাচার্যের বাড়ি ও অফিস ভাঙচুরের পাশাপাশি ক্লাস ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালাতে বাধা দেওয়াও একধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা সরকার গঠনের পর থেকে অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছি। আজকে এতগুলো টিভি চ্যানেল, আগে একটিমাত্র টিভি চ্যানেল ছিল। এতগুলো চ্যানেলের ফলে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। আজকে প্রায় ৪৪টি চ্যানেল অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে ২৪টি চ্যানেল ইতোমধ্যে চলছে। সেখানে কত কর্মসংস্থান, কাজর ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। আবার সেখানে মধ্য রাতে ট শো চলে। সেখানে অনেক কথা বলার পরেও তারা বলে আমারা কথা বলার অধিকার নেই। আমরা তথ্য অধিকার আইন করে তথ্য কমিশন গঠন করেছি। সেখানে যে কেউ যেকোনো তথ্য পেতে পারে। এই সুযোগ কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারই দিয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার যত বেশি সুযোগ দেয় তত বেশি সমালোচানার শিকার হয়। আগে কথাও বলতে পারতো না, সমালোচনা করতেও পারত না।

তিনি বলেন, আজকে বাংলাদেশ আর্থসামাজিকভাবে উন্নতি করেছে, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। মানুষের আর্থিক স্বচ্ছলতা এসেছে, সব দিক থেকে দেশের উন্নতি হয়েছে, তাহেল অভিযোগটা কী? আমারা তো কাজ করে যাচ্ছি। আমরা মেট্রোরেলের কাজ করছি, এখানে স্টেশন হতে পারবে না, ওখানে হতে পারবে না। যাদের সুবিধার জন্য তারাই সেখানে আন্দোলন করে স্টেশন হতে দেবে না।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিতে কাজ করতে হলে তো কতগুলো নিয়ম মানতেই হবে। তাদের অসুবিধাটা কোথায়? তারা ট্রেন থেকে নেমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস করতে চলে যাবে। আর তারাই যদি বাধা দেয়ার চেষ্টা করে তাহলে ডেভলেপমেন্টটা হবে কীভাবে?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে এখন প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১৩তে উঠে গেছে, স্বল্পন্নত উন্নয়নশীল দেশে আমরা অগ্রযাত্রা শুরু করেছি। অনেকের কাছে এটা হয়তো পছন্দ হবে না। কারণ ৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার পরে বাংলাদেশকে পিছনে টেনে রাখতে সক্ষম হয়েছিল তারা। কিন্তু বর্তমানে আওয়ামী লীগ সরকার আসার পর আর তা সম্ভব হচ্ছে না। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে সেখানেই বোধহয় তাদের মনে কষ্ট।

তিনি বলেন, রেসিডেনশিয়াল মডেল স্কুলে যে ঘটনাটা ঘটলো, যারা অনুষ্ঠান করে তাদের তো একটা দায়িত্ববোধ থাকে। যারা স্কুলের মাঠে অনুষ্ঠান করছে তাদের ওই বাচ্চাদের সেফটি সিকিউরিটির দিকে দেখা উচিত ছিল। তারা এতটাই নেগলেট করেছে যে ইলেকট্রিক কারণে মারা গেছে বাচ্চাটা। ধানমন্ডির ওই এলাকায় কতগুলো হাসপাতাল, কিন্তু সেগুলোতে না নিয়ে মহাখালী একটি হাসপাতালে নিয়ে গেছে। ইলেকট্রিকের ওই বিষয়গুলোর দিকে তারা দৃষ্টিই দেইনি। এত অবহেলা কীভাবে করতে পারে। তারা অনুষ্ঠান করেছেন, তাদের কি কোনো দায়বদ্ধতা নেই? এটি তাদের একটি গর্হিত অপরাধ। এভাবে একটা বাচ্চা মারা যাবে এটা তো বরদাসত করা যায় না।

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী মো. মুরাদ হাসান, তথ্য মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান হাসানুল হক ইনু।

দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগ এনে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে বেশ কয়েক দিন ধরে উপাচার্য ফারজানা ইসলামের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং ভিসিপন্থী শিক্ষক ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষের ঘটনার পর ক্যাম্পাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে আন্দোলনকারীরা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে উপাচার্যবিরোধী আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত