সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

হোলি আর্টিজানের ৩ হামলাকারী সরবরাহ করেছিলেন জাহাঙ্গীর

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

গুলশানের হোলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলায় নিজের ভূমিকা সম্পর্কে আদালতে বক্তব্য দিয়েছেন অন্যতম আসামি জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী। আদালতে আজ বুধবার জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, তিনি ২০০২ সাল থেকে জেএমবির সঙ্গে যুক্ত। ২০১৪ সালে আইএসের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করেন তিনি।

জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, জঙ্গি নেতা তামিম চৌধুরী ও সারোয়ার জাহানের নির্দেশে তিনি সাংগঠনিক কাজ পরিচালনা করতেন। গুলশান হামলার তিন হামলাকারী তিনি সরবরাহ করেছিলেন।

আদালতে জাহাঙ্গীর এও বলেন, হোলি আর্টিজান হামলার দুদিন পর তিনি ঢাকায় আসেন । নয় দিনের মাথায় কাউন্টার টেররিজম তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তিনি কাউন্টার টেররিজমের কাছে ছয় মাস ‘গুম হয়ে ছিলেন’ বলে দাবি করেছেন।আজ বুধবার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়। বিচারক মজিবুর রহমান আসামিদের উদ্দেশ্য করে জানতে চান তাঁরা কিছু বলতে চান কি না। আট আসামির তিনজন বক্তব্য দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। বাকিরা লিখিতভাবে তাঁদের বক্তব্য জানাবেন। প্রথমেই বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীর। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা ধরে তিনি কথা বলেন।

জাহাঙ্গীর জানান, ২০০২ সালে তিনি জেএমবিতে যোগ দেন। ইরাক ও সিরিয়ায় খিলাফত প্রতিষ্ঠার পর তামিম চৌধুরী ও সারোয়ায় জাহান মানিকের মাধ্যমে আইএসের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করেন। তিনি আইএসের উত্তরবঙ্গ শাখার প্রধান ছিলেন। তিনি উত্তরবঙ্গে বেশ কিছু অভিযান চালান। রংপুরে জাপানি নাগরিক কোনিও হোশি, কুড়িগ্রামে মুসলিম থেকে খ্রিষ্টান হওয়ায় হোসেন সরকারকে তাঁর নেতৃত্বে হত্যা করা হয়। ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত জাহাঙ্গীর উত্তরবঙ্গে আইএসের সামরিক শাখার প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০১৬ সিলের ৩ মার্চ মারজান তাঁকে থ্রিমা অ্যাপসের মাধ্যমে সিরাজগঞ্জের ফুড ভিলেজে আসতে বলেন। তিনি বিকেল ৪টায় সেখানে পৌঁছান। ওই দিন মারজান তাঁকে দুজন ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। তারা হলেন রোহান ইমতিয়াজ ও শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল। এদের নিয়ে তিনি কয়েকটি অভিযান চালান। ১৫ মে মেজর জাহিদ তাঁকে থ্রিমা অ্যাপসের মাধ্যমে সিরাজগঞ্জের হানিফ হোটেলে আসতে বলেন। বিকেল ৩ টায় সেখানে পৌঁছানোর পর মেজর জাহিদ তিনজনকে আনতে বলেন। রোহান, উজ্জ্বল ও পায়েল ওই তিনজনকে নিয়ে মেজর জাহিদ চলে যান।

জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমার জানামতে মেজর জাহিদ ও সারোয়ার জাহান মানিক ওই তিনজনকে প্রশিক্ষণ দেন।’

গুলশানের হোলি আর্টিজানে ওই তিনজন জড়িত ছিল। জাহাঙ্গীর বলেন, ২০১৬ সালের ২০ মে তামিম চৌধুরী থ্রিমা অ্যাপসের মাধ্যমে চিড়িয়াখানায় যেতে বলেন। জাহাঙ্গীর দুপুর ১২টায় সেখানে যান। সেখানে ঢোকার পর তামিম, সারোয়ার, বাশারুজ্জামান চকলেট, মারজান, নাঈম, তওসিফ, তারেককে তামিম চৌধুরীর সঙ্গে দেখা যায়। তামিম চৌধুরী তাঁকে উত্তরবঙ্গ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন এবং কিছু দিকনির্দেশনা দেন। তাওসিফকে গ্রেনেড এবং বাশারুজ্জামান, নাঈম ও তারেককে অস্ত্র জোগাড়সহ সব নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে তাঁরা যে যার মতো চলে যান।

উত্তরবঙ্গে প্রশাসন তৎপর হওয়ায় তামিমের নির্দেশে জাহাঙ্গীর বসুন্ধরার বাসায় (ওই বাসাটি ছিল সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা তানভীর কাদেরী ও বেসকারি উন্নয় সংস্থা সেভ দ্য চিল্ড্রেনের সাবেক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা আবেদাতুন ফাতেমার) এসে ওঠেন। তাঁকে ওই বাসায় নিয়ে যান বাশারুজ্জামান চকলেট । বাসায় ঢুকে তিনি তামিম, সারোয়ার, তানভীর কাদেরী ও তাদের দুই ছেলে, চকলেটসহ গুলশান হামলায় অংশ নেওয়া পাঁচজনকে দেখেন।

জাহাঙ্গীর জানান, একদিন পর বসুন্ধরার ওই বাসায় মারজান চলে আসেন। তাঁকে একটি কক্ষে রাখা হয় থাকতে দেওয়া হয়। মাঝে মাঝে বৈঠকে ডাকা হতো। তারপর সরঞ্জামাদি আস্তে শুরু করে বাশারুজ্জামান অস্ত্র নিয়ে আসে। তারেক ও নাঈম গ্রেনেড আনে। জাহাঙ্গীর বলেন,’ আমি রোহান, পায়েল ও উজ্জ্বলকে জিজ্ঞাসা করি ঢাকায় কি কোনো হামলা হবে? কই হবে? তারা বলে সঠিক জানি না।”

জাহাঙ্গীর বলেন, ‘ওই দিন ছিল ২৫ জুন। তারা উল্টো তাঁর কাছে জানতে চান কোথায় হামলা হবে? ২৭ জুন আবারও জিজ্ঞাসা করেন। তখন তাঁরা বলেন, বেশ কটি জায়গা দেখতে বলেছে। তামিমকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন ১ জুলাই চলে যাবেন। তখন পর্যন্ত কেউ জানত না কোথায় হামলা। তামিম, সারোয়ার, মারজান ছাড়া আর কেউ জানে না।
১ তারিখ সকাল আটটায় পায়েল জানান, ঢাকায় হামলা হবে। হামলার পর ৩ তারিখ তামিম ঢাকায় ডাকেন। তিনি সিরাজগঞ্জ থেকে আসেন ঢাকায়। তাঁকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে আবার রেকি করতে বলেন। এর মধ্যেই দাওয়াতি বিভাগের প্রধান রজবকে আনতে বাসস্ট্যান্ডে যান। ১০ জুলাই সেখান থেকে তাঁকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরের বছর জানুয়ারি পর্যন্ত কাউন্টার টেররিজম তাঁকে গুম করে রাখেন সেখানে তাঁর সংগঠনের মারজান ও চকলেটকে দেখেন। তাঁদের ক্রসফায়ার দেওয়া হয়। তাঁকেও ক্রসফায়ারের ভয় দেখানো হয়।

জাহা্ঙগীর আজ বলেন, চাপে পড়ে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দিতে যারা ছিল না তাঁদের নাম ও তিনি বলেছেন।

আগামী ৬ নভেম্বর এ মামলার যুক্তিতর্কের দিন ধার্য হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত