বৃহস্পতিবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

ভয় পেলে অভিযানে নামতাম না : প্রধানমন্ত্রী

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান ও নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের বক্তব্য প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ভয় পেলে এ অভিযানে আমি নামতাম না। আমি যখন নেমেছি, তখন সে কি করে, কোন দলের সেটি আমার কাছে বিবেচ্য বিষয় নয়।

মঙ্গলবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সম্প্রতি আজারবাইজান সফর নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম। আমার বাবাকে দেখেছি কীভাবে সাহসের সঙ্গে বাংলাদেশকে স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। কাজেই ভয় এ শব্দটা আমার ছোটবেলা থেকেই নেই। ভয় পাওয়ার লোক আমি না। ভয় পেলে এ অভিযানে আমি নামতাম না। আমি যখন নেমেছি, তখন সে কি করে, কোন দলের সেটি আমার কাছে বিবেচ্য বিষয় নয়।’

বিএনপিকে দুর্নীতির খনি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে দুর্নীতির দুয়ার খুলে দিয়েছিল জিয়াউর রহমান। তার হাতে গড় দল, সেখানে আপনারা দেখেন প্রত্যেকের বিরুদ্ধে মামলা তো আছেই। হত্যা, খুন, দুর্নীতি এমন ধরনের কোন কাজ নেই, যা তারা করেনি। সেই দলের নেতা যিনি চেয়ারপারসন দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামি কারাগারে। আরেকজন যাকে ভারপ্রাপ্ত করা হলো, সে দুর্নীতিগ্রস্ত এবং মামলায় দেশান্তর। তাদের মুখে এতো কথা কোথা থেকে আসে, কোন সাহসে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের এক নেতা (রাশেদ খান মেনন) হয়তো কিছু কথা বলেছেন। কারণ, তার মনে তো একটা দুঃখ হতেই পারে। তিনি জেনে হোক, না জেনে হোক এক ক্লাবের চেয়ারম্যান করা হয়েছে এলাকার এমপি হিসেবে। স্বাভাবিকভাবেই কিছু তথ্য এসেছে। যখন কিছু তথ্য এসেছে, তিনি কিছু কথা বলেছেন। তিনি ভুলে গেছেন তিনিও নির্বাচন করে জয়ী হয়ে এসেছেন। নির্বাচনের প্রশ্ন তুললে তার নির্বাচিত হওয়াটাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়। কাজেই সেটা তিনি তখন বুঝে বলেছেন, নাকি না বুঝে বলেছেন সেটা আমি জানি না।

‘জনগণ যদি আমাদের ভোটই না দিত, আর জনসমর্থন যদি আমাদের পক্ষে না থাকতো, তাহলে তো যেভাবে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ সালে খালেদা জিয়া ভোটারবিহীন নির্বাচন করেছিল, যার বিরুদ্ধে আমরা আন্দোলন করেছি, দেশবাসী আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল। দেশবাসী খালেদা জিয়াকে পদত্যাগে বাধ্য করেছিল। তারা সে ধরনের আন্দোলন গড়ে তুলতে পারল না কেন? এদেশের সব ব্যবসায়ী সম্প্রদায়, সব শ্রেণি-পেশার মানুষ, এমনকি সব সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রত্যেকে যেভাবে আমাদের সমর্থন দিয়েছে, এটা বাংলাদেশের জন্য একটা অভূতপূর্ণ ঘটনা’- বলেন প্রধানমন্ত্রী।

আরেক প্রশ্নের উত্তরে শেখ হাসিনা বলেন, কোনো সাংবাদিক, কোনো সংবাদপত্র কিন্তু একটা নিউজও করেনি যে, বাংলাদেশে এমন ক্যাসিনো খেলা হয়। আমি যদি এখন প্রশ্ন করি- আপনারা এতো খবর রাখেন, এ রকম আধুনিক আধুনিক যন্ত্রপাতি এসে গেছে, এতো কিছু হলো আপনারা কেউ খবর রাখলেন না। কেউ খবর পেলেন না। ক্যাসিনো সম্পর্কে কেউ কোনো নিউজ দেননি।

‘বাংলাদেশে সব থেকে বেশি সংবাদপত্র। কয়েকশ সংবাদপত্র। একসময় বাংলাদেশে একটাই চ্যানেল ছিল। আমি তো সবকিছু ওপেন করে দিলাম। ৩২টির মতো চ্যানেল চালু। কোনো একটি চ্যানেল থেকে এ বিষয়ে কোনো একটি নিউজ দিতে পারলেন না। এর জবাব কি আপনারা জাতির কাছে দিতে পারবেন। পারবেন না’- বলেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, মানুষ যখন কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়ায়, সে মনে করে- আর কেউ জানবে না। কিন্তু ধরা কোনো না কোনোভাবে পড়ে যেতেই হয়। এটা হলো বাস্তবতা। আমরা চাচ্ছি, দেশটা শান্তিপূর্ণভাবে চলুক। দেশের উন্নতি হোক। দিন-রাত পরিশ্রম করি দেশের মানুষের শান্তি, জীবনমান যেন উন্নত হয়।

দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত এমন ১০০ জনের নাম আপনি দিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনকে। এ রকম আর কতজনের তালিকা আপনার হাতে আছে- এমন এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কতজনের তালিকা আছে, সেটা কেন আমি এখন বলব। তবে এতটুকু বলতে পারি, কোনো এক পত্রিকার সম্পাদক, কোনো এক ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে ফোন করে বলেছেন- কিছু একটা টাকা চায়, সেটা যদি না দেয়া হয় তাহলে এমন লেখা লিখবে যে, তার জীবনটাই ধ্বংস হয়ে যাবে। সেটা বের হোক তারপর জানবেন। ব্যাংকের এমডি ফোন করে বলে দিয়েছেন কত দিতে হবে। না দিলে নিউজ হয়ে যাবে। এটা রেকর্ড আছে।

ন্যাম সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্য প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও সংঘর্ষ পরিহারে সাংস্কৃতিক মূল্যবাবোধের ওপর আমি জোর দিই। এছাড়া একটি শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও সম্প্রীতিময় বিশ্ব নির্মাণে সবাইকে একযোগে কাজ করার বিষয়ে আমি গুরুত্বারোপ করি। দেশে চলমান সংঘাত নিরসন, এসডিজি বাস্তবায়ন, পরমাণু অস্ত্র নিরন্ত্রিকরণ, ফিলিস্তিনি সমস্যার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে চলমান সংঘাত নিরসনে জনগণের মুক্তির বিষয়ও আমার বক্তব্যে উঠে এসেছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি আমার বক্তৃতায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও রোহিঙ্গা সমস্যাকে বাংলাদেশের জন্য প্রধান দুটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরেছি। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।

তিনি আরও বলেন, ‘ন্যাম-এ প্রদত্ত ভাষণে ফিলিস্তিনি জনগণের মুক্তির বিষয়টি উল্লেখ করা এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি বাংলাদেশের অব্যাহত সমর্থনের জন্য ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে ধন্যবাদ জানান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এসময় ফিলিস্তিনের হেবরনে অবস্থিত একটি সড়কের নাম বঙ্গবন্ধুর নামে নামকরণ করা হবে বলে ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, রোহিঙ্গা সমস্যাসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ন্যামের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে একযোগে কাজ করার বিষয়গুলো বিশ্ববাসীকে অবহিত করা সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘের পাশাপাশি ন্যামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের কিছুদিন পরেই দ্বিতীয় বৃহত্তম এই বহুপাক্ষিক ফোরামে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের অবস্থানকে জোরদার করেছে।’

Print Friendly, PDF & Email

মতামত