বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

সব শেষ হওয়ার পর আবরারের বাড়ি যাচ্ছেন বুয়েটের ভিসি

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের দাফন গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় সম্পন্ন হয়েছে। তার আগেরদিন, অর্থাৎ, সোমবার রাত ১০টার দিকে ঢাকায় বুয়েট প্রাঙ্গণে আবরারের প্রথম জানাজা হয়েছিল। দুটোর কোনোটিতেই উপস্থিত না থাকলেও আজ বুধবার কুষ্টিয়ায় আবরারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে রওনা হয়েছেন বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম।

বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যার ৪১ ঘণ্টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা না করা, আবরার যে হলে হত্যার শিকার হয়েছিলেন, সেখানে না যাওয়া এবং জানাজায় অংশ না নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে আছেন বুয়েটের উপাচার্য। এ নিয়ে সমালোচনার মধ্যেও আজ তিনি কুষ্টিয়ার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।

বুধবার সকালে তিনি কুষ্টিয়ার উদ্দেশে রওনা হন বলে নিশ্চিত করেছেন ভিসির একান্ত সহকারী কামরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, সকাল ১০টার দিকে ঢাকা থেকে আবরারের কুষ্টিয়ার বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন ভিসি স্যার। সেখানে তিনি আবরারের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাবেন।

গত রোববার রাত আটটায় বুয়েটের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে ডেকে নিয়ে যায় ছাত্রলীগের একদল নেতা-কর্মী। এরপর তাকে শেরে বাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনা হলের প্রাধ্যক্ষ জানেন রাত পৌনে তিনটায়। কিন্তু এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক হিসেবে উপাচার্য সেখানে যাননি পরপর প্রায় দুই দিন। এমনকি শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করলেও তাঁদের সামনে আসেননি উপাচার্য। এ নিয়ে শিক্ষার্থীরা গতকাল মঙ্গলবার দিনভর আন্দোলন করার পর তাঁদের আন্দোলনের মুখে উপাচার্য শিক্ষার্থীদের সামনে এলে তিনি তোপের মুখে পড়েন।

এ অবস্থায় রাতে শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণের আশ্বাস দেন উপাচার্য। কিন্তু শিক্ষার্থীরা আজকে সুনির্দিষ্ট সময় বেধে দিয়ে ১০ দফা দাবিতে বিক্ষোভ করছেন। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ৩০ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরেও কেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হননি, পরবর্তীতে ৩৮ ঘণ্টা পর উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ‘বিরূপ আচরণ’ করেন এবং কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে স্থানত্যাগ করেন, উপাচার্যকে আজ দুপুর দুইটার মধ্যে সশরীরে ক্যাম্পাসে এসে এর জবাবদিহি করতে হবে।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত