রবিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

‘দেশের স্বার্থ শেখ হাসিনা বিক্রি করবে, এটি হতে পারে না’

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের স্বার্থ শেখ হাসিনা বিক্রি করবে এটা হতে পারে না। প্রাকৃতিক গ্যাস নয়, ভারতে আমাদানি হবে আমদানি করা গ্যাস।

বুধবার বিকাল সাড়ে ৩টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সাম্প্রতিক ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সফর সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

এ সময় এক সাংবাদিক জানতে চান, ভারততে গ্যাস দেওয়ার চুক্তি হয়েছে। এতে বাংলাদেশের স্বার্থ কতটুকু রক্ষা হবে।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এলপিজি গ্যাস আমাদের দেশে উৎপন্ন হয় না। এখন এই দেশ আমরা আমদানি করছি। রান্নায় সিলিন্ডারে সরবরাহ করছি। আগে স্বল্প পরিমাণে আমাদের এলপিজি উৎপাদন হতো। আমদানিকৃত গ্যাস গ্রামে বিভিন্ন কোম্পানি সরবরাহ করছে। আগে ১০ কেজির সিলিন্ডার ১৬শ টাকা দাম পড়তো। বাজার উন্মুক্ত করে দেওয়ায় এখন ৯শ টাকা। এখন অনুমোদিত ২৬টি কোম্পানি কাজ করছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা ত্রিপুরায় যে গ্যাস দিচ্ছি সেটি এলপিজি। আমাদের দেশে যেমন সরবরাহ করছি সেটিই ত্রিপুরায় দিচ্ছি। যারা এর বিরোধিতায় সোচ্চার মানে বিএনপি ২০০১ সালের কথা মনে করিয়ে দিতে চাই। আমেরিকা গ্যাস বিক্রির জন্য বলেছিল, আমি বলেছিলাম দেশের চাহিদা মিটিয়ে আমরা তারপর বিক্রি করব। যে কারণে ২০০১ সালে আমরা ক্ষমতায় আসতে পারিনি। আর যারা গ্যাস বিক্রি করে দিচ্ছে বলেছে তারাই গ্যাস দেবে বলে মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জিমি কার্টারের বাসায় আমরা বসেছিলাম। তাদের মাঝে চুক্তি হয়েছিল। বিল ক্লিনটন এসেছিলেন, তিনিও আমাকে গ্যাস বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিলেন। আমাকে আমেরিকায় দাওয়াত নিয়ে নিয়ে যাওয়া হলো। সেখানেও আমি একই কথা বলেছিলাম। আমি তখন বলেছিলাম বিএনপি গ্যাস দিতে পারবে না। কারণ আমাদের অত গ্যাস ছিল না। সার্ভে করে দেখা গেছে তারা সার্ভে করার জন্য লোক পাঠাল। বলল, বাংলাদেশ গ্যাসে ভাসছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৭১ সালের কথা যারা মনে রাখবেন আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ত্রিপুরা আমাদের একটা ঘাঁটি ছিল। সেখান থেকে যুদ্ধ পরিচালনা করা হতো। ত্রিপুরা আমাদের শক্তি ছিল। গ্যাস রফতানির মাধ্যমে আমাদের রফতানিখাতে আরেকটি মাত্রা যোগ হলো।’

দেশের স্বার্থ বিক্রির অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বার্থ শেখ হাসিনা বিক্রি করবে সেটি হতে পারে না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে আমরা ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বাংলাদেশ সফরে আমন্ত্রণ জানাই। তিনি আগামী বছর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে উৎসবে যোগ দেয়ার জন্য বাংলাদেশ সফরে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এক বিশেষ উচ্চতায় উন্নীত হয়েছে। এতে দুই দেশের সম্পর্কে এক নতুন গতির সঞ্চার হয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি ফোরামের ভারত অর্থনৈতিক সম্মেলনে যোগদানের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী গত ৩ থেকে ৬ অক্টোবর ৪ দিনের সফরে নয়াদিল্লি যান। সেখানে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত