সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

কাজ করে যাচ্ছি জানালেন বুয়েট উপাচার্য

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেছেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে আমি একমত। সমস্যা সমাধানের উপায় বের করা হচ্ছে। আমি কাজ করে যাচ্ছি।’ তবে আল্টিমেটাম অনুযায়ী সব দাবি পূরণ সম্ভব হবে কিনা সে বিষয়ে আশ্বাস দিতে পারেননি তিনি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বুয়েট ভিসি ফের কার্যালয়ে ঢুকেছেন। আর কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান নিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

বেঁধে দেওয়া সময় শেষে উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টার পরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সামনে হাজির হন। নিজ কার্যালয়ের সামনে তিনি শিক্ষার্থীদের এসব কথা বলেন।

এর আগে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বুয়েটের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। এরপর তাঁরা উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন।

শিক্ষার্থীরা যখন উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিচ্ছিলেন তখন এক ছাত্রী সেখানে এসে বলেন, উপাচার্য ওই কার্যালয়ের ভেতরে অন্য শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। শিক্ষার্থীদের সামনে না আসায় তখন উপাচার্যের কার্যালয়ের ফটকেও তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এরপর শিক্ষার্থীরা সেখানে ‘হইহই রইরই ভিসি স্যার গেল কই’ বলে স্লোগান দেন। বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা জানান, আংশিক কোনো দাবি মানা হবে না। এরপরই বুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের সামনে আসেন। তিনি শিক্ষার্থীদের বলেন, ‘দাবির সঙ্গে আমি একমত। উদ্ভূত সমস্যা সমাধানের উপায় বের করা হচ্ছে। আমি কাজ করে যাচ্ছি।’ এ সময় এক শিক্ষার্থী জানতে চান, ‘স্যার, আপনি কী কাজ করছে?’ তখন তিনি বলেন, ‘তোমাদের এই ব্যাপারটি নিয়ে কাজ করছি। আমি রাত একটা পর্যন্ত কাজ করেছি।’

পরে ভিসি সাইফুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক বসতে চান। তবে শিক্ষার্থীরা তাদের আল্টিমেটাম ভিসি দেখেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাবা আল্টিমেটাম দিও না। দাবি তো মেনে নিয়েছি। আমাদের তো বিশ্ববিদ্যালয় চালাতে হবে।’

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনার প্রায় ৪০ ঘণ্টা পর উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম প্রকাশ্যে আসেন। উপাচার্য শিক্ষার্থীদের সামনে না আসায় ক্ষোভ জানান শিক্ষার্থীরা। পরে মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার মধ্যে উপাচার্য সশরীরে এসে এ বিষয়ে জবাবদিহি না করলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা। এরপরই সন্ধ্যা ছয়টার পর উপাচার্য শিক্ষার্থীদের সামনে আসেন।

ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রধান ফটকে তালা দেওয়া পরে উপাচার্যের কার্যালয়ের সমানে অবস্থান নিয়েছেন। ঢাকা, ৮ অক্টোবর। ছবি: প্রথম আলোক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রধান ফটকে তালা দেওয়া পরে উপাচার্যের কার্যালয়ের সমানে অবস্থান নিয়েছেন। ঢাকা, ৮ অক্টোবর। ছবি: প্রথম আলো

গতকাল সোমবার উপাচার্য তাঁর কার্যালয়ে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। সেখানে তিনি শিক্ষকদের সঙ্গে একটি সভায়ও অংশ নেন। তবে যেখানে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, সেই শেরেবাংলা হলে তিনি যাননি, এমনকি প্রকাশ্যেও দেখা যায়নি তাঁকে। তাঁর প্রকাশ্যে না আসার বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ। বুয়েট শহীদ মিনারে জড়ো হয়ে শিক্ষার্থীরা আজ সকালে উপাচার্যকে এ বিষয়ে জবাবদিহি করার আহ্বান জানান।

এর আগে শিক্ষার্থীরা ভিসির কার্যালয়, একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন ও বুয়েটের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। তাঁরা জানান, আংশিক কোনো দাবি মানা হবে না।

শিক্ষার্থীরা বলেন, তাঁদের দাবি মানা না হলে আগামী ১৪ অক্টোবর বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষা বন্ধ থাকবে।

আবরার হত্যার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।বুয়েটের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। ঢাকা, ৮ অক্টোবর। ছবি: প্রথম আলোবুয়েটের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। ঢাকা, ৮ অক্টোবর। ছবি: প্রথম আলো

আবরার ফাহাদকে হত্যার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের সাত দফা দাবি
মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে (২১) হত্যার প্রতিবাদে সাত দফা দাবি জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকেই বুয়েট ক্যাম্পাসে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে বুয়েট ক্যাফেটেরিয়ার সামনে থেকে একটি মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলের আগে সব শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দাবির বিষয়ে আলোচনা করে নেয় তাঁরা।

‘আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার চাই’—ব্যানারে মিছিলটি বুয়েটের হলগুলো ঘুরে বেলা সোয়া ১১টার দিকে বুয়েট শহীদ মিনারের সামনে আসেন। সেখানে সাংবাদিকদের কাছে নিজেদের সুনির্দিষ্ট সাতটি দাবি তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা।

সেগুলো হলো

১. খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
২. ৭২ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের শনাক্ত করে সবার ছাত্রত্ব আজীবন বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
৩. দায়েরকৃত মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের অধীনে স্বল্পতম সময়ে নিষ্পত্তি করতে হবে।
৪. বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কেন ৩০ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়নি, তা তাঁকে সশরীরে ক্যাম্পাসে এসে আজ বিকেল ৫টার মধ্যে জবাবদিহি করতে হবে। একই সঙ্গে ডিএসডব্লিউ স্যার কেন ঘটনাস্থল থেকে পলায়ন করেছেন, এ বিষয়ে তাঁকে আজ বিকেল ৫টার মধ্যে সবার সামনে জবাবদিহি করতে হবে।
৫. আবাসিক হলগুলোতে র‍্যাগের নামে ও ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর সকল প্রকার শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন বন্ধে প্রশাসনকে জড়িত সবার ছাত্রত্ব বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে আহসানউল্লা হল এবং সোহরাওয়ার্দী হলের আগের ঘটনাগুলোতে জড়িত সবার ছাত্রত্ব বাতিল ১১ অক্টোবর, ২০১৯ তারিখ বিকেল ৫টার মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে।
৬. রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে আবাসিক হল থেকে ছাত্র উৎখাতের ব্যাপারে অজ্ঞ থাকা এবং ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হওয়ায় শেরেবাংলা হলের প্রভোস্টকে ১১ অক্টোবর, ২০১৯ তারিখ বিকেল ৫টার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে।
৭. মামলা চলাকালে সকল খরচ এবং আবরারের পরিবারের সকল ক্ষতিপূরণ বুয়েট প্রশাসনকে বহন করতে হবে।

গত রোববার দিবাগত রাত তিনটার দিকে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের একতলা থেকে দোতলায় ওঠার সিঁড়ির মাঝ থেকে আবরারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। জানা যায়, ওই রাতেই হলটির ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরারকে পেটান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, তাঁর মরদেহে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আবরার বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ছিলেন।

গতকাল সোমবার আবরার হত্যার প্রতিবাদে দিনভরই উত্তপ্ত ছিল বুয়েট ক্যাম্পাস। গতকাল দুপুর থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত শেরেবাংলা হলের প্রভোস্টকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। তাঁরা হলের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা রোববার রাতের ফুটেজ দেখানোর এবং দোষী ব্যক্তিদের নাম প্রকাশের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত