শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

পিটিয়েই হত্যা করা হয়েছে আবরারকে

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের কারণেই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের (২১) মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে তার লাশের ময়নাতদন্ত শেষে এ তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ।

ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, ‌‘দুপুর দেড়টার দিকে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। তার শরীরে অনেকগুলো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাই প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পিটুনির আঘাতেই তার মৃত্যু হয়েছে।’

শরীরের কোন কোন জায়গায় আঘাত করা হয়েছে জানতে চাইলে সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘ফাহাদের হাতে, পায়ে ও পিঠে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এই আঘাতের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।’

কী ধরনের অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে এই চিকিৎসক বলেন, ‘আঘাতের ধরন দেখে মনে হয়েছে ভোঁতা কোনো জিনিস যেমন, বাঁশ বা স্টাম্প দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। তবে তার মাথায় কোনো আঘাত নেই। কপালে ছোট একটি কাঁটা চিহ্ন রয়েছে।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে ফরেনসিক বিভাগের প্রধান বলেন, ‘তার শরীরে বিশেষ কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। হাতে, পায়ে ও পিঠে আঘাতের স্থানে রক্তক্ষরণ ও পেইনেই তার মৃত্যু হয়েছে।’

ঢামেক মর্গের সামনে নিহত আবরার ফাহাদের মামাতো ভাই জহুরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ফাহাদ কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিল না। সে কুষ্টিয়া জেলা স্কুল থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে ঢাকায় নটরডেম কলেজে ভর্তি হয়। সেখান থেকে এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ পায়। পরে বুয়েটে ভর্তি হয়।

জহুরুল আরও বলেন, ফাহাদের মরদেহ গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ায় নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে। আবরারের বাবা-মা এখনও ঢাকায় পৌঁছায়নি। তারা এলে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে।

এর আগে বুয়েটের শের-ই বাংলা হল থেকে আবরার ফাহাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গতকাল রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে হলের নিচতলা থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সে সময় আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করে সহপাঠীরা। তিনি ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

সহপাঠীরা বলছে, গতকাল রাত আটটার দিকে শের-ই বাংলা হলের এক হাজার ১১ নম্বর কক্ষ থেকে কয়েকজন আবরারকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর রাত দুইটা পর্যন্ত তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাদের ধারণা, ২ হাজার ১১ নম্বর রুমে নিয়ে তাকে পিটানো হয়। পরে শের-ই বাংলা হলের একতলা ও দুই তলার মাঝখানের সিঁড়িতে আবরারের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন তারা।

কে বা কারা আবরারকে হত্যা করেছে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ। তবে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বুয়েটের দুজন শিক্ষার্থীকে আটক করার কথা জানিয়েছে চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহরাব হোসেন।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত