রবিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

বিএনপি নেতাদের দাবি ও চিকিৎসকদের রিপোর্ট এক নয় : কাদের

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী কাদের এ কথা বলেন।

বিএনপির নেতারা কারাবন্দী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বেগম জিয়ার সঙ্গে দেখা করার পর সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বেগম জিয়া খুবই অসুস্থ, তিনি জামিন পেলে বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাবেন।

দুর্নীতির মামলায় কারাবন্দী খালেদা জিয়া জামিন পেলে যে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে চান বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে জানানা হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কোনো ম্যাসেজ (নির্দেশনা) দেননি বলে জানান ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে তারা (বিএনপি) যেটা চান সে বিষয়ে কোনো নির্দেশ পাইনি।’

জামিনের বিষয়ে কোনো সহযোগিতা করবেন কি না- জানতে চাইলে কাদের বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে বের করার জন্য বিএনপি আন্দোলনের কথা বললেও এখন পর্যন্ত তারা তা করতে পারেনি। আমি চাই তারা আন্দোলন করুক। আমি বলেছি তারা আন্দোলন করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করুক। এত বড় একটা দল, খালেদা জিয়ার জন্য রাজপথে কোনো আন্দোলন হলো না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তো বিএনপিকে সভা-সমাবেশের অনুমতি দিয়েছি। খালেদা জিয়া এত বড় নেত্রী, তার জন্য কোথায় আন্দোলন হলো? আবারও বলি, আপনারা আন্দোলন করছেন না কেন?’

‘অসুস্থতা মানবিক দিক, তবে তারা সেটা বলছেন না তারা তো আন্দোলনের কথা বলছেন। বিএনপি নেতারা যেভাবে বলছেন চিকিৎসকদের রিপোর্ট তো তা বলছে না, সেটা তো পাচ্ছি না, সেরকম পাওয়া গেলে দেখা যাবে।’

খালেদার মুক্তির জন্য বিএনপি নেতারা আন্দোলন না করে আপনাদের কাছে আসছেন, এটা দলটির আত্মসমর্পণ কি না, এ বিষয়ে কাদের বলেন, ‘আমি এ ধরনের কথা কেন বলব? একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে বিরোধীদলে আছেন তারা। তারা নানা কারণে সরকারের কাছে আসতেই পারেন। সরকার ও বিরোধীদলের মধ্যে সম্পর্ককে বলে কর্মসম্পাদন বা ওয়ার্কিং আন্ডারস্ট্যান্ডিং। বিএনপির মতো একটি দলের সঙ্গে ওয়ার্কিং আন্ডারস্ট্যান্ডিং থাকতে পারে সরকারের। তাই যেকোনো বিষয়ে তাদের নেতারা সরকারের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।’

চলমান শুদ্ধি অভিযানে আরো অনেক রাঘব বোয়াল ধরা পড়বেন বলে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিগত দিনে যারা গ্রেফতার হয়েছেন তারা কেউ ছোট খাটো অপরাধী নন। তৃণমূলে যাতে কোনো অনুপ্রবেশকারী, অপকর্মকারী না ঢুকতে পারে সেজন্য নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিভাগীয় পর্যায়ে বিগত দিনে অনুপ্রবেশকারীদের তালিকাও কেন্দ্র থেকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। যাতে নতুন নেতৃত্ব বাছাই করতে সুবিধা হয়।

তিনি আরো বলেন, অভিযান চলছে, চলবে। এর মধ্যে আরও অনেক খবরই আপনারা পাবেন। এই অভিযানের আওতায়, আইনের আওতায় অনেকেই আসবে।’

আওয়ামী লীগকে ঢেলে সাজাতে নভেম্বরের মধ্যে মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের চারটি সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও কৃষকলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ, ২০১২ সালে সম্মেলন হয়েছে। ৭ বছর অতিক্রান্ত, কাজেই এসব সংগঠনের সম্মেলন জাতীয় সম্মেলনের আগে নভেম্বরের মধ্যে শেষ করার জন্য আমাদের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন। রাতে আমাদের অফিসের মাধ্যমে সহযোগী সংগঠনের নেতাদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে।’

সারা দেশে আওয়ামী লীগের অনুপ্রবেশকারী ও অপকর্মকারীদের তালিকা করা হয়েছে জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘এরা যাতে নতুন কমিটিতে স্থান না পেতে পারে সেই ব্যাপারে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এসব সম্মেলনে যাতে অনুপ্রবেশকারী, বিতর্কিত ব্যক্তি, কোনো অপকর্মকারী কমিটিতে স্থান না পায় সে ব্যাপারে নেতৃবৃন্দকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।’

দীর্ঘ ১১ বছরে দলে অনুপ্রবেশকারী দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন, তাদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে কিনা- এ বিষয়ে কাদের বলেন, ‘অনুপ্রবেশকারীদের একটা তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আছে। সারা বাংলাদেশে দলে অনুপ্রবেশকারী, অপকর্ম যারা করেছে তাদের একটা তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আছে। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বিভাগীয় দায়িত্বে যারা আছেন তাদের এই তালিকাটি দেখবার জন্য বলেছেন, তালিকা দেখে যার যার এলাকায় কমিটি গঠনে সতর্ক এবং সজাগ থাকার জন্য বলেছেন, যাতে এই ধরনের লোকেরা আওয়ামী লীগের কমিটিতে স্থান না পেতে পারে সেই ব্যাপারে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন।’

Print Friendly, PDF & Email

মতামত