বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

আগামীকাল ভারত যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

নয়াদিল্লির আগ্রহে চারদিনের দ্বিপক্ষীয় সফরে বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) ভারত যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুদেশের মধ্যে সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে আসন্ন দ্বিপক্ষীয় সফরে কমবেশি এক ডজন চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন কূটনৈতিক সূত্রগুলো।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফরকে সামনে রেখে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মঙ্গলবার (২ অক্টোবর) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে এক প্রেসব্রিফিংয়ে অংশ নেবেন।

ঢাকা-নয়াদিল্লি কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে, অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী যে ভারত যাচ্ছেন তা অনেক আগে থেকেই ঠিক করা ছিল। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই সফর উপলক্ষে ঢাকা সফর করেন। প্রথমে কথা ছিল, আগামী ৩ ও ৪ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ইন্ডিয়া ইকোনমিক সামিটে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরবর্তী সময়ে এই সফরটিকে নয়াদিল্লি একটি দ্বিপক্ষীয় সফরের আগ্রহ দেখালে ঢাকা তাতে সাড়া দেয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে আগামী শনিবার (৫ অক্টোবর) সকালে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে যুব উন্নয়ন, বন্দর ব্যবহার, যোগাযোগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা, পানি, সমুদ্র অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও জ্বালানি গুরুত্ব পাবে বলে জানা যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ সফরে দু-দেশের মধ্যে যোগাযোগ, সংস্কৃতি, কারিগরি সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ খাতে প্রায় ৮টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে। তবে এ সংখ্যা শেষ মুহূর্তে বাড়তে বা কমতেও পারে বলে জানিয়েছে কূটনৈতিক সূত্র।

এদিকে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনারকে উদ্ধৃত করে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসস জানিয়েছে, দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে তিস্তা ও রোহিঙ্গা ইস্যুসহ সব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

সূত্র জানায়, ভারতের ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেন (এনআরসি) বিষয়েও বাংলাদেশের উদ্বেগ রয়েছে। তবে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন না হতে বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশকে এ ইস্যুতে বিশ্বাস করতে চায়।

সর্বশেষ, গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ অধিবেশনের সাইড লাইনে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে সন্ত্রাস এবং চরমপন্থা ইস্যুতে জিরো টলারেন্সের বার্তা পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দুদেশের সম্পর্কে স্থল, নদী ও আকাশ যোগাযোগে উন্নতি, জ্বালানি খাতে দৃষ্টান্তস্বরূপ অগ্রগতি এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক খাতের উন্নয়ন এই অঞ্চলের শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে অবদান রাখছে বলে দুই প্রধানমন্ত্রী গত ২৭ সেপ্টেম্বর একমত পোষণ করেন।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত