মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

প্রমাণ পেলে সম্রাটও গ্রেফতার হবে: ওবায়দুল কাদের

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

গ্রেফতার করার মতো তথ্য-প্রমাণ হাতে পেলে দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন সম্রাটসহ নানা অপরাধের অভিযোগ ওঠা নেতাদের গ্রেফতার করা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) সচিবালয়ে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের এ সব কথা বলেন।

সাংবাদিকরা এ সময় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের কাছে জানতে চান ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে শুদ্ধি অভিযানে ছাড় দেওয়া হচ্ছে কিনা। জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কোনো অপরাধীই ছাড় পাবেন না। তথ্য-প্রমাণ পেলেই গ্রেফতার করা হবে।’

এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বক্তব্যের রেশ ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘গ্রেফতারের বিষয় সময় হলেই জানতে পারবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ শুদ্ধি অভিযান অপরাধীদের বিরুদ্ধে। বিশেষ কোনো দল বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই অভিযান নয়।’

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, দলে কিংবা দলের বাইরে দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, মাদক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িত অপরাধীরা গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছেন। এমনকি প্রশাসনের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারাও এই নজরদারির বাইরে নন। তথ্যপ্রমাণ হাতে পেলে পর্যায়ক্রমে সব অপরাধীকে শাস্তি পেতে হবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিলো, অপরাধীদের কোনো তালিকা তৈরি করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযানে নেমেছে কিনা?

জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তথ্য রয়েছে। তবে অপরাধীদের বিষয়ে তথ্য হাতে নিয়েই অভিযান চালানো হচ্ছে।’ এদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের ওপরে ছেড়ে দেন তিনি।

অভিযান প্রসঙ্গে বিএনপি নেতাদের নানা সমালোচনার জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন অনেক নেতাই দুর্নীতি করে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে তারা জড়িত থেকেছেন। কারও বিরুদ্ধে শাস্তি নিশ্চিতের নজির বিএনপি দেখাতে পারবে না। এ অভিযানে দেশবাসী সন্তুষ্ট। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাবমূর্তি বেড়েছে। আর তা বিএনপি সহ্য করতে পারছে না বলেই ভালো কাজের সমালোচনা করছে।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ মন্ত্রী-এমপিদের হিসাব প্রকাশের যে দাবি জানিয়েছেন সে প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তিনি নিজের সম্পত্তির হিসাব আগে দিন। কী কারণে তার বাড়ি চলে গেল?’ বলেন, ‘মৃত ব্যক্তির নামে ভুয়া কাগজ আদালতে জমা দিয়ে বাড়ির মালিকানা দাবি করেছেন। প্রমাণ হয়েছে তিনি দুর্নীতি করেছেন। দুর্নীতির অভিযোগে তিনি সাজাও ভোগ করেছেন। তার কত সম্পদ আছে জানা দরকার বলেও উল্লেখ করেন ওবায়দুল কাদের।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সরকারের মন্ত্রীরা প্রতিবছরই সম্পদের হিসাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেন। ট্যাক্স দিয়ে থাকেন, সে সব হিসাব দেওয়া হয়।’ কোনো এমপি বা মন্ত্রী যদি অবৈধ সম্পদ অর্জন করে আর যদি ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে থাকেন তবে তা তুলে ধরতে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘একমাত্র আওয়ামী লীগই নিজ দলের অপরাধীদের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নিতে পেরেছে। সরকার প্রমাণ করতে চায়, নিজেদের মধ্যে থাকা অপরাধীদের শাস্তি দিতে চায়। সে জন্য ক্ষমতাসীন দল ঘর থেকেই এ অভিযান শুরু করেছে। আওয়ামী লীগই সৎ সাহস দেখাচ্ছে যে, দলের লোক হলেও অপরাধ ক্ষমা করছে না। তবে বাইরে দলে কিংবা অন্য কোথাও থেকেও অপরাধ করলেও ছাড় দেওয়া হবে না।

টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থেকে এতদিনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে অভিযান শুরু করেছেন, তা আগে নজরে আসেনি কেন, সে প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তথ্য প্রমাণ না পেলে কাউকে দোষারোপ করা যায় না। দীর্ঘদিন থেকে নজরদারি করেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযানে নেমেছে বলে ওবায়দুল কাদের উল্লেখ করেন।

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত এই অভিযান চলবে। প্রতিদিনই কেউ না কেউ গ্রেফতার হচ্ছেন। অভিযান শুরু হয়েছে, শেষ পর্যন্তই চলবে। এমনকি পরিবহন খাতের চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজরাও এ অভিযান থেকে বাদ যাবে না। এরমধ্যে প্রশাসনে থেকে যারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।’

আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীরা অপকর্ম করে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে এমন প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, অন্য দল থেকে এসেছে কিনা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। কারণ তিনি অপরাধ করছে আওয়ামী লীগ পরিচয়ে। তারপরেও যারা অন্য দল থেকে আওয়ামী লীগ পরিচয়ে অপরাধ করছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধ যত বড় শাস্তি আরও বড় হবে।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত