শনিবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

ফু-ওয়াং ক্লাবে অভিযান : পুলিশ কিছু না পেলেও র‌্যাব পেল বিপুল মাদক

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

পুলিশের অভিযানে কিছু না পাওয়া গেলেও ঠিক তার দুই দিন পর র‌্যাবের অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক পাওয়া গেছে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ফু-ওয়াং ক্লাবে।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে ফু-ওয়াং ক্লাবের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, এখানে অনুমোদিত মাদকের বাইরে তিন শতাংশ অবৈধ মাদক মজুদ করে রেখেছিল তারা। যার কোনো কাগজপত্র তাদের কাছে নেই। ফু-ওয়াং ক্লাব থেকে ২০০০ এর মতো বিদেশি মদের বোতল ও ১০ হাজার হান্টার ক্যান ও নগদ সাত লক্ষাধিক টাকা জব্দ করা হয়েছে।

এরপরই ক্লাবটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। এ সময় সেখান থেকে তিনজনকে আটক করেছে র‌্যাব। তারা হলেন- জাহিদ, জেবিআর ও চঞ্চল।

জানা গেছে, অভিযানে ক্লাবটিতে মাদকের অনুমোদন ও পরিমাণ যাচাই করতে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকেও সহায়তার জন্য ডাকে র‌্যাব। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টায় অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহায়তা নেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়।

র‍্যাব জানায়, ক্লাবে অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু মদ জব্দ করা হয়েছে। এগুলো অনুমোদিত কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। সাধারণত নির্দিষ্ট কিছু ব্র্যান্ডের মদ আনার অনুমোদন থাকে। জব্দ করা মদ সেই তালিকায় আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে র‌্যাবের অধিনায়ক সারোয়ার বিন কাসেম বলেন, ‘গতকাল রাতে আমরা ফু-ওয়াং ক্লাবে অভিযান পরিচালনা করেছিলাম এবং সারা রাত ধরে আমরা এই অভিযানটি চালাই। সকাল বেলা সব গণনা শেষ করে আমরা এখানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মাদক পাই, যা তাদের মজুদ বইতে সঠিকভাবে উল্লেখ নেই।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ২ হাজার ২শ’র বেশি বিদেশি মদ পাই এবং ১০ হাজারের উপরে বিয়ার পেয়েছি। এখন যে জিনিসটা ইমপোর্টেন্যান্ট, যেকোনো অবৈধ জিনিসের সঙ্গে যদি বৈধ জিনিস থাকে তাহলে পুরো জিনিসটাই কিন্তু অবৈধ হিসেবে গণ্য হয়। একই সঙ্গে একটা ট্রেড লাইসেন্সের বিপরীতে কিন্তু একটা সুনির্দিষ্ট পরিমাপ থাকে যে একটা ট্রেড লাইসেন্সে কি পরিমাণ বিয়ার বা মদ থাকবে। সেই পরিমাপের কোনো মাত্রা এখানে ছিল না এবং অধিক মাত্রায় মদ এবং বিয়ার আমরা পেয়েছি।’

ফু-ওয়াং ক্লাব তাদের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে সক্ষম হয়নি উল্লেখ করে সারোয়ার বিন কাসেম বলেন, ‘এখানে বিদেশি কিছু সিগারেট আছে যেগুলো আমদানি নিষিদ্ধ। এর কোনো বৈধ কাগজপত্র তারা আমাদের দেখাতে পারেনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে যে কর্মচারীরা আছেন যাদের মাদক বিক্রি করার জন্য লাইসেন্স থাকার কথা ছিল সেগুলো সঠিকভাবে নেই। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মাদকদ্রব্য আইনে মামলা রজু করব।’

র‌্যাবের এই অধিনায়ক বলেন, ‘মামলায় প্রধান আসামি অর্থাৎ এই ক্লাবের যে স্বত্ত্বাধিকার মো. শেখ নুরুল ইসলাম তার ট্রেড লাইসেন্স অনুযায়ী আমরা তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করব। তার বিরুদ্ধে আমরা মামলা দায়ের কবর। এবং যে তিনজন কর্মচারী আছেন ম্যানেজার, বার টেন্ডার তাদের বিরুদ্ধে আমরা মামলা দায়ের করছি।’

ফু-ওয়াং ক্লাবের সদস্য ছাড়াও বাইরের অনেকেই সেখানে যেতেন এবং মাদক সেবন করতেন বলেও জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তিনি বলেন, ‘এখানের মাদকদ্রব্য বাইরেও বিক্রি করা হতো এবং এই ক্লাবের সদস্য নন তারাও এখানে এসে মাদক সেবন করতেন।’

গত সোমবার বিকেলে একই ক্লাবে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযান চলাকালে ঢাকা জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, জুয়া, ক্যাসিনো বা অবৈধ কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো কিছু ফু-ওয়াং ক্লাবে পাননি। ক্লাবের বারের বৈধ কাগজপত্র আছে।

অবৈধ ক্যাসিনো ও জুয়ার বিরুদ্ধে গত কিছুদিন ধরে অভিযান চাচ্ছে র‍্যাব ও পুলিশ।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত