শনিবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

রাখাইনে গণহত্যা ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালিয়েছে মিয়ানমার: মাহাথির

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

মালেশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ বলেছেন, মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যা হয়েছে তা গণহত্যা ও সেখানে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালানো হয়েছে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে নীরব থাকায় জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে যা ঘটেছে, সেটি গণহত্যা। খবর মালয় মেইলের।

জাতিসংঘ সদর দফতরে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকালে ওআইসি সেক্রেটারিয়েট ও জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা সংকট: উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের এক সভায় এ কথা বলেন মালেশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। এ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ওআইসির মহাসচিব ইউসেফ আহমেদ আল-ওথাইমিন প্রমুখ।

মালয়েশীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণহত্যা, ধর্ষণসহ ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছিল মিয়ানমারে। ফলে রোহিঙ্গারা দেশ ছেড়ে পালায়, যাদের অধিকাংশ আশ্রয় নিয়েছে কক্সবাজারে। বাংলাদেশ ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে।

রাখাইনে মিয়ানমারের কথিত সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানকে হাস্যকর মন্তব্য করে মাহাথির মোহাম্মদ বলেন, মিয়ানমার যখন তর্ক করছে যে, সন্ত্রাসবাদের হুমকি মোকাবিলায় ব্যবস্থা নেওয়ায় এটা (রোহিঙ্গারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে) হয়েছিল। এটা হাস্যকর যে, লাখ লাখ মানুষ দেশ ছেড়ে ভয়ে পালাচ্ছে তাদের কথিত সন্ত্রাসবিরোধী ব্যবস্থায়। সেখানে যা হয়েছে তা রাষ্ট্রীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক সন্ত্রাস।

তিনি বলেন, অসংখ্য মানুষ অবর্ণনীয় নৃশংসতার শিকার হয়েছে। এমনকি সেখানে পুরো একটা প্রজন্ম নিশ্চিহ্ন করে ফেলতে দেখা গেছে। কিছু সৌভাগ্যবান মিয়ানমার থেকে পালাতে পেরেছে। কিন্তু, এখন তারা আবার মাতৃভূমিতে ফিরতে পারছে না।

রাখাইনে মিয়ানমারের কথিত সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানকে হাস্যকর মন্তব্য করে মাহাথির বলেন, মিয়ানমার যখন সন্ত্রাসবাদের হুমকি মোকাবেলায় ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছে, তখন তারা আসলে রোহিঙ্গাদের নির্যাতন করে দেশ থেকে তাড়াচ্ছিল। লাখ লাখ মানুষ দেশ ছেড়ে প্রাণ ভয়ে পালিয়েছে তাদের কথিত সন্ত্রাসবিরোধী ব্যবস্থায়। সেখানে যা হয়েছে তা রাষ্ট্রীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক সন্ত্রাস।

মালয়েশীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণহত্যা, ধর্ষণসহ অন্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছিল মিয়ানমারে। এর ফলশ্রুতিতে রোহিঙ্গারা দেশ ছেড়ে পালায়, যাদের অধিকাংশ আশ্রয় নিয়েছে কক্সবাজারে। বাংলাদেশ ১ দশমিক ২ মিলিয়নের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে।

মালয়েশিয়া এক লাখ নিবন্ধিত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে জানিয়ে মাহাথির বলেন, মালয়েশিয়ায় অনিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা আরও বেশি। তবে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাদের তুলনায় এ সংখ্যা একেবারেই কম। মিয়ানমারে পরিস্থিতি মোটেও ভালো নয়। অনেক রোহিঙ্গা অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত, রাখাইন রাজ্যে তাদের স্থান হয়েছে অভ্যন্তরীণ ক্যাম্পে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ব্যর্থ হওয়ার জন্য মিয়ানমারকে দায়ী করে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের উচিত এ সংকট সমাধান করা। প্রত্যাবর্তন প্রথমেই প্রাধান্য পাওয়া উচিত। কিছু রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু তাদের মাতৃভূমিতে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে দু’টি প্রচেষ্টা হয়েছে। দু’টিই ব্যর্থ হয়। এর কারণ সুস্পষ্ট। জীবনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা না পেলে কেউই ফিরবে না।

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, সম্মানজনক ও স্বেচ্ছাপ্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে মালয়েশিয়া চাপ অব্যাহত রাখবে বলে জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী। সম্মানজনক প্রত্যাবর্তনে রোহিঙ্গাদের পূর্ণ নাগরিকত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভয়, ঘৃণা, ত্রাস সৃষ্টি করে প্রত্যাবর্তন বিলম্বিত করছে বলে অভিযোগ করেন মাহাথিক মোহাম্মদ। তিনি বলেন, এটা পরিষ্কার, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নিতে মিয়ানমার সরকার অনিচ্ছুক। সুতরাং এ পরিস্থিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেই কিছু করতে হবে।

এ সময় জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যের কথাও উল্লেখ করে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের যে ভূমিকা রয়েছে, তা রাখা উচিত।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধান ও অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের পদক্ষেপসহ অন্যদেরও নিজ নিজ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান মাহাথির।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত