শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

সাত বিভাগীয় শহরে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছি : প্রধানমন্ত্রী

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দিতে সাত বিভাগীয় শহরে পর্যায়ক্রমে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) গাজীপুরের শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এই ঘোষণা দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যখন প্রথম সরকার গঠন করি তখন থেকেই দেশের স্বাস্থ্য সেবার প্রতি সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিয়েছি। এজন্য ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসেই প্রান্তিক জনগোষ্ঠির মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জন্য আমরা কমিউনিটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করি। সাতটি নার্সিং ইন্সটিটিউটকে কলেজে উন্নীত করে সেখানে বিএসসি কোর্স চালু করি। আরও ১৫টি কলেজ প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। এরসঙ্গে সাতটি বিভাগীয় শহরে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছি।’

তিনি বলেন, ‘নার্সিং হলো সবচেয়ে সম্মান জনক পেশা। একজন মানুষকে সেবা করার মাধ্যমে সুন্দর জীবনে ফিরিয়ে আনার মতো আনন্দ আর কি হতে পারে? এই মহৎ পেশায় যুক্ত হতে মানুষ যেন আগ্রহবোধ করে এজন্য আমাদের সরকার নার্সদের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের কাজই হচ্ছে মানুষের জন্য কাজ করা, জনগণকে সেবা দেয়া। আমরা স্বাস্থ্যসেবাকে গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছি। আমরা দেশের বিভিন্ন স্থানে বিষয়ভিত্তিক ইনস্টিটিউট করে দিয়েছি। সেখানে নার্স লাগবে।

শেখ হাসিনা অভিযোগ করে বলেন, ‘১৯৯৬ সালে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করার পর ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে এই সেবা বন্ধ করে দেয়। এর যুক্তি হিসেবে তারা বলে, কমিউনিটি ক্লিনিকে মানুষ সেবা নিয়ে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে দিবে। অথচ প্রতি ছয় হাজার মানুষের জন্য চালু করা এই স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রমটি খুব দরকারি। এখানে দরিদ্র মানুষেরা সহজেই সেবা পেয়ে থাকে। সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয় প্রসূতী নারী ও শিশুরা। এরা পায়ে হেঁটে এসে ডাক্তার দেখাতে পারেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি বাংলাদেশে একটি প্রথম আন্তর্জাতিকমানের নার্সিং কলেজ। এ নার্সিং কলেজ থেকে যেসব শিক্ষার্থী গ্র্যাজুয়েশন করলেন তারা সবাই আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা নিয়েছেন। তাদের দেখে অনেক তরুণ-তরুণী এ নার্সিং পেশায় আসতে আগ্রহী হবে। মানুষের সেবা করার জন্য নার্সিং একটা মহৎ পেশা। আর্তমানবতার সেবায় অভিজ্ঞতা ও অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগাতে গ্র্যাজুয়েট নার্সদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, শিগগিরই এখানে একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হবে। এ জন্য জমিও বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

নার্সিং পেশা নিয়ে সরকার আন্তরিক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‌‘আগে ডিপ্লোমা নার্সিংয়ের ট্রেনিং দেয়া হতো। কিন্তু আমরা চাকরি ক্ষেত্রে নার্সের মর্যাদা বাড়িয়ে দিয়েছি। দেশে প্রথম নার্স মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন করেছি। আমরা এরই মধ্যে ৫ হাজার ১০০ নার্স নিয়োগ দিয়েছি। বর্তমানে দেশে ৩৩ হাজার নার্স কর্মরত আছে বিভিন্ন হাসপাতালে। আমরা ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক তৈরি করেছি।’

চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘পেশাদারিত্ব ও মানবিকতার সঙ্গে মানুষের চিকিৎসা সেবা দিন। শ্রমিক ও অবহেলিত মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে যা যা প্রয়োজন, তা সব করতে আন্তরিক সরকার।’

অনুষ্ঠানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সহসভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজের সিইও মো. তৌফিক বিন ইসমাইল।

প্রসঙ্গত, বিশ্বমানের চিকিৎসা সেবা দেয়ার লক্ষ্যে ২০১৩ সালের ১৮ নভেম্বর যাত্রা শুরু করে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজ। এরপর থেকে বেশ সুনামের সাথেই এই হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে আসছেন বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। যাত্রা শুরুর ছয় বছর পর প্রথমবারের মতো সমাবর্তন হলো এই কলেজের।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ৪ বছরের স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করা ৭৯ জন কৃতি শিক্ষার্থীর হাতে সনদ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত